নওগাঁয়ে খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নওগাঁয়ে খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি ১:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

নওগাঁয়ে খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগরে সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল (৫ তলা) ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বড়গাছা বাজার সংলগ্ন সুগানদিঘী নামক স্থানে আইন অমান্য করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

আদালতে মামলা চলমান থাকালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারায় বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়গাছা গ্রামেরমৃত: সমসের আলী মোল্লার ছেলে মৃত: ভূমিহীন দিনমজুর মনছুর আলী মোল্লাকে বড় গাছা মৌজার ১নং খতিয়ানভুক্ত ১১৯ দাগে ৫০ শতাংশ সরকারি খাসের জমি (মাটিয়াল) ৯৯ বছরের জন্য ১৮৮৮-৮৯ নং চিরস্থায়ী পত্তন দেওয়া হয়। এই পত্তনকৃত জমি মনছুর আলী মোল্লা আইন না মেনে পেশীবলের জোরে পুকুর খনন করেন। জানতে পেরে পত্তনকৃত জমিতে পুকুর খনন করা ও বহুতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী পত্তনকৃত জমির লিজ বাতিল করে দেন।

এরপর থেকে মনছুর আলীর স্ত্রী জরিনা বিবি ওরফে হাজারিকা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে সেই সরকারি খাস জমি ভোগ দখল করে আসছে। ইতোমধ্যেই পুকুরের চারদিকে থাকা বড় বড় গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন হাজারিকা ও তার সন্তানরা।

এছাড়া স্থানীয় কিছু মাতব্বরের সহযোগিতায় ওই জমির উপর ৫ তলা বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিনই চলছে ভবনের নির্মাণ কাজ। অথচ ভবন নির্মাণের শুরু দিকে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করে। এছাড়া স্থানীয়রা বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে চলমান। এতে করে স্থানীয়দের সঙ্গে হাজারিকার পরিবারের সদস্যদের মাঝে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসিরা।

স্থানীয়রা জানান, জরিনা বিবি (হাজারিকা) মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। তার স্বামীও মানুষের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতেন। আর তার ৩ ছেলে ভ্যানগাড়ী চালায়। তাদের পক্ষে কিভাবে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ তলা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব ও তাদের আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হাজারিকাসহ তার সন্তানরা গোপনে দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রতিবাদ করতে গেলেই তারা স্থানীয়দের লাঞ্চিত করে। এদের অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ট।

জরিনা বিবি বলেন, আমার কাছে উপযুক্ত কাগজপত্রাদি থাকায় ভবন নির্মাণের কাজ করছি। এর বেশি তিনি কথা বলতে ও কাগজপত্র দেখাতে রাজি হন নি।

বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, হাজারিকা খুবই ভয়ঙ্কর মহিলা। তার সাথে কথা বলাটাও বিপদজনক। একাধিকবার নিষেধ করা হলেও কথা শোনেনি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) আরিফ মোর্শেদ মিশু বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিষয়টি জটিল আকার ধারন করেছে কিন্তু মামলা চলমান অবস্থায় হাজারিকা ভবন নির্মাণের কাজ করতে পারেন না। তিনি আইন না মেনে ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলেও আইন মেনে ভবন ভেঙ্গে আমরা আমাদের সরকারি জায়গা উদ্ধার করবো। মামলার সর্বশেষ অবস্থা জেনে আদালতের পরামর্শ সাপেক্ষে ও অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএআর/জেডএস

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও