অর্থাভাবে তানিয়ার মেডিকেলে পড়া অনিশ্চিত

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অর্থাভাবে তানিয়ার মেডিকেলে পড়া অনিশ্চিত

নাটোর প্রতিনিধি ১:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

অর্থাভাবে তানিয়ার মেডিকেলে পড়া অনিশ্চিত

অভাবকে জয় করে মেডিকেল (এমবিবিএস)ভর্তি পরীক্ষায় পটুয়াখালি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন কৃষককন্যা তানিয়া।কিন্তু অর্থাভাবে মেডিকেলে পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি।

তানিয়া খাতুন নাটোরের বাগাতিপাড়ার কোয়ালীপাড়া গ্রামের আবু তালেবের মেয়ে। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে সবার বড় সে।

জানা যায়, সামান্য জমিতে আবাদ করে কোন মতে সংসার চালান তানিয়ার বাবা আবু তালেব। আয় স্বল্প হলেও কষ্ট করে সন্তানদের পড়া-লেখার খরচ চালান তিনি। বড় দুই মেয়ে তানিয়া ও তিশা এক সাথে পড়া-লেখা শুরু করে। ছোট থেকেই ভাল ফলাফল করে আসছে তারা।

উপজেলার তমালতলা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে দু’জনেই পেয়েছে জিপিএ ৫। এরপর নাটোর শহরের সরকারি রাণী ভবাণী মহিলা কলেজ থেকে তানিয়া জিপিএ ৫ এবং তিশা জিপিএ ৪.৬৭ অর্জন করে।

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তানিয়া। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যে লড়ে যাচ্ছে তিশা খাতুন। ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে তানিম তৃতীয় শ্রেণীর এবং তরিকুল স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।

অজো-পাড়া গাঁ থেকে তানিয়ার এমন সাফল্যে গ্রামবাসিও খুশি। কিন্তু এতদিন খরচ চালিয়ে এলেও কৃষক আবু তালেব দুই মেয়ের আগামী দিনের খরচগুলো কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে চেখে অন্ধকার দেখছেন। তানিয়ার ভর্তির টাকা জোগাড় করতে আয়ের সম্বল সামান্য জমিও লিজ দিয়েছেন বাবা। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি টাকা জোগাড় হয়নি।

বাবা আবু তালেব জানান, তিশার খরচের পাশাপাশি তানিয়ার মেডিকেলে পড়ানোর খরচ চালানোর সঙ্গতি তার নেই। স্কুল-কলেজে শিক্ষকরা দুই মেয়ের মেধার দিকে চেয়ে আর্থিক সংকটের কারনে প্রাইভেট পড়াতে কোন টাকা-পয়সা নিতেন না।

মেধাবী তানিয়া জানায়, তার এ সাফল্যে তিনি মা-বাবা এবং মামা আব্দুস সালামের পর স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। মেডিকেলে ভর্তি হয়ে ভাল মানের চিকিৎসক হয়ে দরিদ্র মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করার সাথে সাথে দরিদ্রদের সেবা করতে চায় সে। কিন্তু তার সে আশা পূরণ হবে কিনা তা ভেবে কুল পাচ্ছেনা সে।

তানিয়ার মা মোমেনা বেগম বলেন, তিনি মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসহায় অনেকের পাশে দাঁড়াতে দেখেছেন। মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছা পূরনে তার মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।  

বিএল/জেডএস

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও