১৮ বছর পর মুক্ত আরেক ‘জাহালম’ বাবলু শেখ (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

১৮ বছর পর মুক্ত আরেক ‘জাহালম’ বাবলু শেখ (ভিডিও)

নাটোর প্রতিনিধি ৩:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

মামলায় অভিযুক্ত না হয়েও পুলিশের ‘ভুল’ প্রতিবেদনে দীর্ঘ ১৮ বছর পর নির্দোষ বাবলু শেখকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে রায় দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক এই আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালত মামলার দুই তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

সেই সাথে মামলার মূল আসামি শ্রী বাবুকে সিংড়া থানার বিরুদ্ধে পুনরায় সাজা পরোয়ানা দাখিল ও গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

আজবিচারক প্রকাশ্য আদালতে রায় পড়ে শোনান। এ সময় আদালতে ভুক্তভোগী বাবলু শেখ, তার স্ত্রী-সন্তানেরা ছাড়াও উৎসুক এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিচারক তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, বাবলু শেখ বহুল আলোচিত ‘জজ মিয়া’ ও ‘জাহালম’–এর প্রতিচ্ছবি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল নাটোর সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় কাজী আবদুল মালেক বাদী হয়ে শ্রী বাবুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ৩ নম্বর আসামি ছিলেন শ্রী বাবু।

তৎকালীন সদর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম এবং হেলেনা পারভীন শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

কিন্তু ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর শ্রী বাবুর পরিবর্তে সিংড়া উপজেলার আঁচলকোট গ্রামের বাবলু শেখকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে এলে যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৬ সালের ২৩ জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আসামি বাবুর বিরুদ্ধে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।

ওইদিন কাঠগড়া থেকে বাবলু শেখকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট আপিলের মাধ্যমে জামিনে বের হন।

এ বিষয়ে নাটোর দায়রা আদালতে আপিল করা হলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য প্রেরিত হয়।

মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাবলু শেখকে মামলা থেকে মুক্তির নির্দেশ দেন।

একই সাথে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোমিনুল ইসলামও এসআই হেলেনা পরভীনের সঠিকভাবে তদন্ত না করার অপরাধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজিপিকে নির্দেশ প্রদাণ করেন।

পর্যবেক্ষণে মামলার ফরোয়ার্ডিং কর্মকর্তা তৎকালীন নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধেও দায়িত্ব অবহেলা প্রমাণতি হয়।

মামলায় আরো বলা হয়, বাবলু শেখের সাজা ভোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সঠিকবাবে দায়িত্ব পালন করেননি। এবিষয়ে সঠিক দায়িত্ব পালনের জন্য রায়ের কপি বার কাউন্সিলের সভাপতি সেক্রেটারি বরাবর প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়।

বাবলু শেখের বর্তমান আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম উদ্দীন জানান, আজ দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিকী মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে যে আদেশ দেন তাতে অবশেষে বাবলু শেখের ভোগান্তির অবসান ঘটলো।

ভুক্তভোগী বাবলু শেখ দীর্ঘদিন পর ভোগান্তির অবসান হওয়ায় আদালত ও আইনজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এসবি

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও