পাবনায় পদ্মায় পানি কমলেও, আছে ভাঙন আতঙ্ক

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

পাবনায় পদ্মায় পানি কমলেও, আছে ভাঙন আতঙ্ক

পাবনা প্রতিনিধি ৩:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৫, ২০১৯

পাবনায় পদ্মায় পানি কমলেও, আছে ভাঙন আতঙ্ক

পাবনায় উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হঠাৎ বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দেখা দিয়েছে ভাঙন। শনিবার

পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রবাহ ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে, পানি কমতে শুরু করলেও বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয়েছে ভাঙন।এতে এলাকাবাসী আতঙ্ক রয়েছেন।

ইতোমধ্যে, পদ্মা নদী বেষ্ঠিত পাবনার সুজানগর উপজেলার গুপিনপুর এলাকায় এলজিইডির সড়ক ও স্থানীয় গোরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জিওবি ব্যগ ফেলতে শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়া বিভাগীয় অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ জানান, সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গুপিনপুর এলাকায় ভাঙনের কবল থেকে সড়ক ও গোরস্থান রক্ষায় আড়াই হাজার জিওবি ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

আকস্মিক বন্যায় উজান থেকে নেমে আসা পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে সদর, ঈশ্বরদী ও সুজানগর উপজেলার প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির আবাদী জমির ফসল। নষ্ট হয়েছ আগামা শীতের সবজী, ধান, মরিচ, মাস কালাইসহ রবি শস্য। দেখা দিয়েছে গো খাদ্য সংকট। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে বানভাসি মানুষ। দেখা দিয়েছে খাবার, সুপেয় পানির সংকট।

এদিকে, বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন।ঈশ্বরদী, সুজানগর ও পাবনা সদর সদরের ভাড়ারা উপজেলায় ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু  হয়েছে। এছাড়াও ত্রাণ হিসেবে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পাবনা জেলা প্রশাসক মো. কবীর মাহমুদ বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর, ভাড়াড়া, দোগাছি এবং চরতারাপুর সুজানগর উপজেলার ভায়না, সাতবাড়িয়া, নাজিরগঞ্জ, মানিকহাট, সাগরকান্দি এবং সুজানগর পৌরসভার প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার পানিবন্দিদের মাঝে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, ডালসহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলার তিন ইউনিয়নে ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, পাবনা সদরের চার ইউনিয়নে ৬৫০ প্যাকেট, সুজানগর পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নে ২০ টন চাল, ৪২০ প্যাকেট শুকনা খাবার জরুরিভাবে বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বন্যা পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দৃষ্টি রাখছে এবং এজন্য ইতোমধ্যে জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদেরও এ সময় কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বলা হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাতে নয়-ছয় না হয় সেজন্য কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আজাহার আলী বলেন, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঈশ্বরদী, পাবনা সদর এবং সুজানগর উপজেলার কৃষক। এসব এলাকার বোন আমন ধান, পেঁয়াজ, মাষকলাই, পেঁপে, গাজর, মুলা, মরিচ, কলা ও বেগুনসহ বিভিন্ন শাক-সবজির ডুবে যাওয়া ফসলে কমপক্ষে ৩২ হাজার টন ফসল উৎপাদন হতো এবং টাকার অঙ্কে কমপক্ষে আট কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কৃষিবিদ আজাহার আলী আরও জানান, কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষক পুনর্বাসনে মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমএইচ

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও