নওগাঁয় ১০ টাকা কেজি চাল, স্বস্তিতে হতদরিদ্ররা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

নওগাঁয় ১০ টাকা কেজি চাল, স্বস্তিতে হতদরিদ্ররা

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ ৭:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

নওগাঁয় ১০ টাকা কেজি চাল, স্বস্তিতে হতদরিদ্ররা

‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এ স্লোগানকে সামনে নিয়ে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে গতকাল সোমবার থেকে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি শুরু হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের কার্ডধারী ব্যক্তিদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচিতে হতদরিদ্র পরিবারের কার্ডধারী ব্যক্তিরা ১০ টাকা করে ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন। প্রতিজন ডিলার ১ মেট্টিক টন চাল বিক্রি করতে পারবেন। শুক্রবার ছুটির দিন ব্যতিত সপ্তাহের প্রতিদিনই এ কর্মসূচি চলবে।

এদিকে অতিদরিদ্র মানুষদের ডিলারের দোকানগুলোতে চাল কিনতে উপড়েপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নে ২০৩ জন ডিলারের মাধ্যমে ১ লাখ ১৮ হাজার ৯২৮ জন কার্ডধারী অতিদরিদ্রদের মাঝে এই চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

বছরের মার্চ-এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর এই দুই সময়ে এ চাল বিক্রি করা হয়। কারণ এ দুই সময়ে দুটি বড় ধানের চাষাবাদের পূর্ব মুহূর্ত। এসব চাল বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে চাল কেনার জন্য।

জেলার বিভিন্ন এলাকার কার্ডধারী অতিদরিদ্র মানুষরা বলেন, ‘বছরের ইরি-বোরো ও রোপা-আমন ধান চাষের সময় বাজারে চালের দাম অনেক বেশি থাকে। তাই আমাদের মতো দিনমজুর ও খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের পক্ষে বেশি দামে বাজার থেকে চাল কিনে খাওয়া খুবই কষ্ট্যসাধ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু শেখ হাসিনার দেওয়া ১০ টাকা কেজি দামে চাল পেয়ে আমরা খুবই খুশি ও আনন্দিত কারণ পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেতে পারছি। তাছাড়া দিনে যা আয় হতো তার সব কিছু দিয়ে চাল কিনতে হতো অন্যান্য বাজার করাই যেতো না। এই চাল বিক্রি করায় আমরা খুবই উপকৃত হচ্ছি।’

রাণীনগর উপজেলার ভাটকৈ বাজারের ডিলার মন্টু সেপাই বলেন, ‘সরকারের এ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অতিদরিদ্র মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ থাকায় দফায় দফায় বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছিলেন গরিব খেটে খাওয়া মানুষরা। এতে সাধারণদের নাভিশ্বাস হয়ে ওঠে। এই চাল বিক্রি শুরু করায় বাজারে চালের দাম কমতে থাকায় নিম্নআয়ের মানুষরা স্বস্তি পেতে শুরু করেছে।’

সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ডিলার আবু হাসান বলেন, ‘এভাবে বছরের অর্ধেক সময় যদি সরকার কম দামে চাল বিক্রয়ের কার্যক্রম হাতে নিতো তাহলে খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের জন্য খুবই ভালো হতো। আমরা নিয়ম অনুসারে সুশৃঙ্খলভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অতিদরিদ্রদের মাঝে এই চাল বিক্রি করছি। এই কর্মসূচির সময় ও বরাদ্দ আরও বাড়ালে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার গরিব অসহায় মানুষরা আরও উপকৃত হতো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিলারের মাধ্যমে সরকারের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। এই চাল বিক্রি করার কারণে চালের বাজার কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং হলে আগামীতে আরো কমার সম্ভবনা রয়েছে। এই কর্মসূচিটি প্রধান দুই ধানের মৌসুম শুরুর দিকে চালু করা হয়।’

নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন ভিশন বাস্তবায়ন করাই আমাদের মূলকাজ। খোলা বাজারে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই সকল নিয়ম-কানুন মেনে এই চাল বিক্রি করার সকল প্রস্তুতি শেষ করে চাল বিক্রি শুরু করা হয়েছে। এই চাল বিক্রিতে কোনো প্রকারের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই চাল বিক্রি সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে আমি সর্বক্ষণিক জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে ডিলারদের দোকান পরিদর্শন করছি এছাড়াও আমার অন্যান্য কর্মকর্তা তো সব সময় মাঠে রয়েছেন। আশা রাখি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই এই চাল বিক্রি সম্পন্ন হবে।’

এইচআর

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও