পুলিশের নিষ্ঠায় মাদক-জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

পুলিশের নিষ্ঠায় মাদক-জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী ব্যুরো ১:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

পুলিশের নিষ্ঠায় মাদক-জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব হয়েছে। পুলিশ বাহিনী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে বলেই এমন পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষ আজ স্বস্তিতে বসবাস করতে পারছেন। দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা দেশের এই অগ্রগতি ধরে রাখতে চাই।

রোববার সকালে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে ৩৬তম বিসিএস শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে ইতোমধ্যে প্রায় ৪৯ হাজার ২০০ পদ সৃজন করা হয়েছে। বর্ধিত জনবলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। গাজীপুর ও রংপুর মহানগর পুলিশ গঠন করা হয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূলে পুলিশের ‘এন্টি টেরোরিজম ইউনিট’, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ’, ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং ২টি স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে। ‘গার্ড অ্যান্ড প্রটেকশন পুলিশ’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসআই ও সার্জেন্ট পদকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ইন্সপেক্টর পদকে প্রথম শ্রেণি পদে উন্নীত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা প্রদত্ত আইজিপি’র র‌্যাংক ব্যাজ পুনঃপ্রবর্তন করে আইজিপি’র পদকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, আরও ৪টি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে। ঝুঁকি ভাতা প্রবর্তন, ৯৯৯, বিডি পুলিশ হেল্পলাইন এবং অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্ভিস চালু, পুলিশের বিভিন্ন স্তরে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ধাপে ধাপে ৯৫ হাজার ১৫৬ জন পুলিশ সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশে প্রায় দশ হাজার কনস্টবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

কুচকাওয়াজ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে পুলিশ একাডেমির হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারি ও পুলিশ একাডেমির কমাড্যান্ট নাজিবুর রহমান। এর পর একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ ১১৭ জন সহকারী পুলিশ সুপারের প্রশিক্ষণ সমাপণী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্যারেড কমান্ডার শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন আক্তার ও সহকারী প্যারেড কমান্ডার রবিউল ইসলাম খানের নেতৃত্বে এক এক করে মোট ৮টি কন্টিনজেন্ট প্যারেড অংশগ্রহণ করে। ৮টি কন্টিনজেন্ট থাকা মোট ১১৭ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মার্চপাস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানান। এর পর পতাকাবাহী দল, পুলিশ একাডেমির বিশেষ অশ্বারোহী দল ও সর্বশেষ বাদক দল একে একে মার্চপাস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম ও অভিবাদন জানান।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণ হলেন- ‘বেস্ট শ্যুটার’ খায়রুল কবির, 'বেস্ট ফিল্ড পারফমার’আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ‘বেস্ট হর্সম্যানশিপ’ সালাহউদ্দিন, ‘বেস্ট একাডেমিক' সাইফুল ইসলাম খান এবং বেস্ট প্রবেশনার সালাহ্ উদ্দিন। প্যারেডে ১৭ জন নারী অফিসারসহ ১১৭ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন।

বিএইচ/আরপি

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও