ধর্ষিতা গৃহবধূকে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দিলেন ওসি!

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

ধর্ষিতা গৃহবধূকে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দিলেন ওসি!

পাবনা প্রতিনিধি ৬:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯

ধর্ষিতা গৃহবধূকে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দিলেন ওসি!

পাবনায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পাবনা সদর থানায় এই বিয়ের ঘটনা ঘটেছে।

তবে, থানায় বিয়ে হয়নি বলে দাবি পুলিশের।

ওই গৃহবধূ লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহাপুর যশোদল গ্রামে তিনি স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করেন।

গৃহবধূর দাবি, গত ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ ও তার ৪ সহযোগীকে নিয়ে তাকে কৌশলে অপহরণ করে। এরপর টানা চারদিন অজ্ঞাত স্থানে তাকে আটকে রেখে রাসেলসহ পাঁচজন ধর্ষণ করে।

তিনি জানান, সেখান থেকে পালিয়ে এসে গত ৫ সেপ্টেম্বর পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ রাসেলকে আটক করে।

গৃহবধূর অভিযোগ তবে বিষয়টি মামলা হিসেবে থানা পুলিশ এজহারভুক্ত না করে স্থানীয় একটি চক্রের মধ্যস্থতায় পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়ে ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয়।

গৃহবধূর বাবা জানান, পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করে মেয়েকে থানা হেফাজতে রেখে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে জানতে পারেন থানায় রাসেলের সাথে তার মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বামী সন্তান থাকা অবস্থায় রাসেলের সাথে আমার মেয়েকে কিভাবে বিয়ে দেয়া সম্ভব? এ ঘটনায় আমরা সামাজিক ভাবে অপদস্থ হয়েছি। আমরা ধর্ষণের বিচার চাই।

দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য দৌলত আলী বলেন, গণধর্ষণের অভিযোগে সদর থানার উপ-পরিদর্শক একরামুল হক আমার উপস্থিতিতে রাসেলকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরে শুনি থানায় তাদের বিয়ে হয়েছে। এই বিয়ে কোন ভাবেই শরিয়ত সম্মত নয়।

নির্যাতিত গৃহবধূ বলেন, রাসেলকে আটক করে আনার পর ওসি স্যার নিজেই থানায় কাজী ডেকে এনে আমাদের বিয়ে দিয়েছেন।

ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত রাসেল আহমেদ বলেন, আমি ধর্ষণের সাথে জড়িত নই। আমাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমি ষড়যন্ত্রের স্বীকার। থানায় আমাদের বিয়ের সময় এসআই একরাম ছবিও তোলেন।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মানবাধিকারকর্মী এডভোটেক কামরুন্নাহার জলি বলেন, ধর্ষনের বিচার না করে, ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেওয়া সামাজিক মিমাংসার নামে প্রহসন। থানা ক্যম্পাসে এ ধরনের ঘটনা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই গৃহবধূ প্রথমে ধর্ষণের অভিযোগ দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।

তিনি বলেন, ওইদিন রাতে তাদের বিয়ের কথা শুনেছি, তবে থানায় কোন বিয়ের ঘটনা ঘটেনি। আমার এর সাথে জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। 

এসবি

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও