‘চোখের সামনে ভেঙে গেল স্কুলটা, কেউ ঠেকাতে পারলাম না’

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

‘চোখের সামনে ভেঙে গেল স্কুলটা, কেউ ঠেকাতে পারলাম না’

রিজভী জয়, পাবনা ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯

‘চোখের সামনে ভেঙে গেল স্কুলটা, কেউ ঠেকাতে পারলাম না’

‘আমাদের স্কুলটা কালকে সকালে সবার চোখের সামনে ভেঙে গেল। আমরা কেউ ঠেকাতে পারলাম না। এখন কোথায় আমাদের ক্লাস, পরীক্ষা হবে স্যাররাও বলতে পারছেন না।’

পাবনার সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নে চরমধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী আমেনা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলো।

ভাড়ারা ইউনিয়নে পদ্মা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের চরমধুপুর গ্রামে মাত্র একদিনের মধ্যেই শহীদ মিনার ও সরকারি স্কুলসহ প্রায় ৬৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নদীর ক্রমাগত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে শতাধিক পরিবার তাদের বাড়িঘর ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

ভাঙন কবলিত এলাকার গৃহহীন মানুষ গ্রাম রক্ষাসহ স্কুলটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, পদ্মা নদীর পানি কমার সঙ্গে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোর থেকে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের চরমধুপুর গ্রামে পদ্মা নদী পাড়ের এক একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা চরমধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্কুল চত্বরে থাকা শহীদ মিনারসহ আশপাশের ৬৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। আকস্মিক এ ভাঙনে যেন হতবিহবল হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

চরমধুপর গ্রামের কৃষক মজির উদ্দিন বলেন, ‘সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি নদী ভাঙতেছে। চোখের সামনে স্কুলটা নদীগর্ভে চলে গেলো।’

একই গ্রামের আহমদ আলী বলেন, ‘স্কুলটা সকাল ৬টার দিকে ভেঙে চলে গেলো নদীর ভেতর। আমরা কোনো রকমভাবে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে স্কুলের আসবাবপত্র উদ্ধার করে রেখেছি, এখন সরকারের কাছে আবেদন আমাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য স্কুলটা আবার গড়ে দেয়া লাগবি।’

তালেব আলী নামে এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, ‘রবিবার ও সোমবার এই দুই দিনের ভাঙনে আমাদের চরটা প্রায় শেষের দিকে। দুই হাজার মানুষের বসবাসস্থল এই চরবাসীর জীবনরক্ষার জন্য সরকারি সহযোগিতা চাই।’

চরমধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১০ সালে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আমাদের স্কুলটি নির্মিত হয়েছিল। গত দুদিনের ভাঙনে কেবল স্কুল ভবনই নয় শহীদ মিনার, টিউব ওয়েলসহ পুরো স্কুল প্রাঙ্গণই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমরা কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ স্থানীয়দের সহায়তায় সরিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে রেখেছি। কিন্তু ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘কিছুদিন আগেও নদী থেকে আমাদের স্কুল ৩০০ ফুট দূরে ছিল। নদীভাঙন এতোটা ভহাবহ রূপ নেবে তা কেউই ধারণা করতে পারিনি। এখন যে সমস্যার মধ্যে আমরা পড়লাম, তাতে খুব দ্রুত স্কুলটি পুনরায় গড়ে তুলতে না পারলে ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ায় দুর্বল হয়ে পড়বে।’

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘একদিনের ভাঙনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্কুলের ব্যাপারে উপরের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এইচআর

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও