যমুনায় বাড়ছে পানি, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

যমুনায় বাড়ছে পানি, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ৬:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

যমুনায় বাড়ছে পানি, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। প্রতিদিনই যমুনা নদীতে বাড়ছে পানি। প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও গাছপালা। 

অভ্যন্তরীণ নদ-নদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। যমুনায় অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে বলে অভিযোগ ভাঙন কবলিতদের।

পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। বাঐখোলা বাঁধসহ বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপথ। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নদীপাড়ের আট গ্রামের মানুষের। তবে পাউবো দাবি করছে, ভাঙনরোধে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়েছে কাজীপুর উপজেলার বাহুকা, সিংড়াবাড়ি, বাঐখোলা ও পাটগ্রাম এলাকা। প্রতিদিন ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাঐখোলা বাঁধসহ এসব এলাকার জনপথ।

যমুনা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মধ্যে রয়েছে গান্দাইল, রতনকান্দি ও শুভগাছা ইউনিয়নের বাহুকা, বাঐখোলা, পূর্ব খুশকিয়া, পাটাগ্রাম, কুড়ালিয়া, সিংড়াবাড়ি, চিলগাছাসহ নদীতীরবর্তী আট গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

অব্যাহত ভাঙনে এসব এলাকার ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বাঐখোলা বাঁধের অর্ধকিলোমিটারসহ অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

অপর দিকে এনায়েতপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায়ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনরোধে পাউবো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা, ওমর আলী, আব্দুর রাজ্জাক ইয়াছিন আলী বলেন, গত কয়েক দিনে বাঐখোলা, শুভগাছা গুচ্ছগ্রাম, পাটগ্রাম, পূর্ব খুকশিয়া গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসলি জমি ও বেশকিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। বাঐখোলা বাঁধের প্রায় অর্ধকিলোমিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি পাউবোকে অবগত করেছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ভাঙনের কারণ হতে পারে। ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার নদীপথ আছে। তার মধ্যে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা ৩৫ কিলোমিটার নদীভাঙন রোধ করে ফেলেছি। এ মুহূর্তে আমাদের দুটি প্রকল্প চলমান আছে। এছাড়া কাজীপুরের বাঐখোলা, খুদবান্দি এবং এনায়েতপুরের ব্রক্ষনগাতী, হাটপাচিল এলাকায় ভাঙন রয়েছে। এখানে ভাঙনরোধে প্রকল্প তৈরি করে পাঠিয়েছি। এগুলো অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।’

এইচআর

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও