পাবনায় অরক্ষিত এলপিজি সিলিন্ডার, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

পাবনায় অরক্ষিত এলপিজি সিলিন্ডার, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

পাবনা প্রতিনিধি ৭:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

পাবনায় অরক্ষিত এলপিজি সিলিন্ডার, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

পাবনায় যতত্রত ও অরক্ষিতভাবে লাইসেন্সবিহীন দোকানে অবাধে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান।

শুধু বিক্রিই নয়, কোনো ধরনের নিরপত্তা ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিবহন করা হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

প্রশাসনের কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় লাইসেসবিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা বাড়ছে বলে মনে করছে সচেতন মহল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলিন্ডারের মাধ্যমে আবাসিক খাতে গ্যাস ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কয়েকটি নীতিমালা রয়েছে। আবাসিক খাতে ব্যবহারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার তৈরি এবং বাজারজাত করছে বেশ কিছু কোম্পানি। বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।

চাহিদা বেশি থাকায় কিছু ব্যবসায়ী যতত্রত এবং লাইসেন্সবিহীনভাবে বিক্রি করছে এলপিজি সিলিন্ডার।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকার অনুমোদিত লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবসা। দোকানের ভেতরে বেশি পরিমাণ মজুদ রেখে বিক্রির জন্য দোকানের সামনে কয়েকটি সিলিন্ডার রাখা হয়েছে।

লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা করছে এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কখনও কেউ দেখার জন্য আসেনি। আর দোকানে আগুন লাগার মতো কিছু নেই। কখনও কোনো সমস্যা হয়নি। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা জেনেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই তারা ব্যবসা করছেন।

গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া ৮টি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদ বা বিক্রি করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি মজুদ রাখতে হবে। স্থাপনা প্রাঙ্গণে দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছাকাছি আলো বা তাপের উৎস থাকা যাবে না।

তবে এসব আইনের তোয়াক্কা না করে যতত্রত অরক্ষিতভাবে লাইসেন্সবিহীন দোকানে অবাধে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলায় বিস্ফোরক পরিদপ্তর কর্তৃক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য লাইসেন্স ছিল ২০২ জনের। এর মধ্যে সময় মতো নবায়ন না কারায় ৪৮টি লাইন্সেস বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে ১৫৪ জনের লাইসেন্স রয়েছে। অন্যদিকে ৪৯ জন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। যা প্রক্রিয়াধীন।

শুধু বিক্রি না ঝুঁকিপূর্ণভাবে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিলিন্ডারভর্তি ট্রাক। গ্যাস সিলিন্ডার নামানো হয় ট্রাক থেকে ছুড়ে ফেলে। এতে যেকোনো সময় বিস্ফোরণে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শহরবাসী রয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায়।

লাইসেন্সবিহীন এলপি গ্যাস বিক্রি বন্ধ করার জন্য সম্প্রতি পাবনার বেড়া, সাথিয়া ও আমিনপুর থানা গ্যাস ডিলার মালিক সমিতির পক্ষে রাজশাহী-রংপুর বিভাগের বিস্ফোরক পরিদর্শককে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

রাজশাহী-রংপুর বিভাগের বিস্ফোরক পরিদর্শক ড. মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে ২ জুলাই তিনি সরেজমিনে পাবনার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। অচিরেই অবৈধ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এইচআর

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও