নওগাঁয় ‘ব্লাক কুইন’ জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

নওগাঁয় ‘ব্লাক কুইন’ জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ

নওগাঁ প্রতিনিধি ৫:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯

নওগাঁয় ‘ব্লাক কুইন’ জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ

নওগাঁ জেলায় প্রথম মাচায় ‘ব্লাক কুইন’ জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন কৃষি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আল আমিন এগ্রো। স্বাদ ও রং উৎকৃষ্ট মানের হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে অধিক। সারা বছর পাওয়া যাবে এখানকার তরমুজ। শুধু তাই নয়, এখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর কৃষি বিভাগ বলছে, নওগাঁ খরা ও বরেন্দ্র জেলা হওয়ায় পানি সাশ্রয়ের জন্য এই তরমুজ চাষ শুরু করা হয়েছে এখানে। এটি জেলায় প্রথম নতুন জাতের তরমুজ চাষ। আর তাই সফল হয়েছে আল আমিন এগ্রো।

জানা গেছে, নওগাঁ শহরের কোমাইগাড়ী এলাকার জেলখানার পূর্ব দেয়াল ঘেঁষ দুই বিঘা জমি তিন বছরের জন্য লীজ নিয়ে প্রথমবারের মতো বারোমাসি হাইব্রিড ব্লাক কুইন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন কৃষি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আল আমিন এগ্রো। এটি ঢাকার গাজীপুরে অবস্থিত। নওগাঁ জেলায় এই প্রথম তরমুজ চাষ হয়েছে। নওগাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল। ভারত থেকে বীজ এনে চলতি বছর দুই বিঘা জমি তিন বছরের জন্য লীজ নেয় মাত্র ৪৫ হাজার টাকায়। আর ওই জমিতে মাচা তৈরি করে এপ্রিল মাসে সেখানে ব্লাক কুইন নামে বারোমাসি তরমুজের চারা রোপন করা হয়। রোপনের পর চলতি মাসে প্রথম তরমুজ তোলা হয়। প্রতিটি তরমুজের ওজন হয় আড়াই থেকে চার কেজি। তরমুজের বাহির অংশ কুচকুচে কালো হলেও ভেতরে টকটকে লাল ও মিষ্টি। প্রথমবার প্রায় দেড়শ মন তরমুজ উৎপাদিত হয়।

তরমুজ কিনতে আসা বেশ কয়েকজন বলেন, এখানকার তরমুজ খুবই স্বুসাদু ও মিষ্টি তাই তারা তরমুজ কিনছেন আবার অনেকেই একবার কিনেছেন ভালো লেগেছে তাই আবার এসেছেন। আবার অনেকেই লোকমুখে শুনে মাঠে এসেছেন তরমুজ কিনতে পরিবার-পরিজন নিয়ে খাবার জন্য। প্রতি কেজি তরমুজ কিনছেন ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে। তবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে।

আল আমিন এগ্রোর ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, চারা ক্রয়, পরিচর্যা, মাচা তৈরী, কর্মচারীদের বেতনসহ মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জমি থেকে দুই মাসে তরমুজ চাষ করে প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ করা সম্ভব। এতে করে অনেক বেকার যুবক লাভবান হবেন। আর দেশের বেকার সমস্যা দূর করা যাবে এই বারোমাসি তরমুজ চাষ করে। এখানে অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপপরিচালক আহসান শহীদ সরকার বলেন, এ জেলা খরা ও বরেন্দ্র জেলা হওয়ায় পানি সাশ্রয়ের জন্য এই তরমুজ চাষ শুরু করা হয়েছে এখানে। বারোমাসি হাইব্রীড ব্লাক কুইন জাতের তরমুজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক। এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এই নতুন জাতের তরমুজ জেলায় প্রথম চাষ শুরু করেছেন আল আমিন এগ্রো। প্রতিদিন লোকজন ভীড় করছেন তরমুজের মাঠে।

এমএইচ

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও