ডাব বিক্রেতা সজলকে মুক্তির নির্দেশ, ওসিকে তলব

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

ডাব বিক্রেতা সজলকে মুক্তির নির্দেশ, ওসিকে তলব

রাজশাহী ব্যুরো ৮:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

ডাব বিক্রেতা সজলকে মুক্তির নির্দেশ, ওসিকে তলব

রাজশাহীতে ‘বড় ভাইয়ের বদলে’ গ্রেফতার হওয়া ডাব বিক্রেতা সজল মিয়াকে (৩৪) মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামি না হয়েও কেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হিসেবে সজলকে গ্রেফতার  করা হয় তার জবাব দিতে মহানগর পুলিশের শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজকে শোকজ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মনসুর আলম এ আদেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী ওসি মাসুদকে সাত দিনের মধ্যে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল সজলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সজলের আইনজীবী মোহন কুমার সাহা এ তথ্য জানান।

সজলের বাড়ি মহানগরীর ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লায়। বাবার নাম তোফাজ উদ্দিন। তার বড় ভাইয়ের নাম সেলিম ওরফে ফজল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় ২০০৯ সালে ফজলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। রায় ঘোষণার আগে থেকেই তিনি পলাতক। গত ৩০ এপ্রিল শাহমখদুম থানা পুলিশ সজলকে গ্রেফতার করে। এরপর ফজল হিসেবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আইনজীবী মোহন কুমার জানান, অপরাধী না হয়েও সজল কয়েদি হিসেবে সাজা ভোগ করেছেন। তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। ওসির শোকজের জবাব পাওয়ার পর আদালত এ ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত দেবেন সেটির জন্য এখন অপেক্ষা করা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোজাফফর হোসেন বলেন, নির্দোষ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর জন্য ওসির শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু এখানে দুজন সাক্ষী ওসিকে এফিডেফিট করে দিয়ে বলেছিলেন, এটাই আসামি। তাই ওসির জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তারপর আদালতই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।

এদিকে, বিনাদোষে সজলকে গ্রেফতার করায় শাহমখদুম থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজেরে শাস্তির দাবি করেছেন ভাই মোহাম্মদ বাবু।

তিনি বলেন, সজলকে গ্রেফতারের পর বিভিন্নভাবে বলা হলেও ওসি কথা শোনেননি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সজলকে যখন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল তখন তার নাম ফজল বলেই গ্রেফতারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুজন সাক্ষী এ ব্যাপারে এফিডেফিট করে দেয়ায় তাকে সেদিন কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু গত ২৬ মে সজল আসামি নন দাবি করে আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের মুক্তির জন্য আবেদন করেন। এরপর মঙ্গলবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। এদিন আদালত না বসায় পরদিন আবারও শুনানি হলে প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর অব্যাহতি পেলেন সজল।

সজলের ছয় ভাই-বোন আদালতে এফিডেফিট করে জানান যে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফজল দীর্ঘদিন ধরেই নিখোঁজ রয়েছেন। তার কোনো খোঁজ জানেন না তারা। বেঁচে আছেন কি না তারা সেটিও জানেন না। আর ফজল হিসেবে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনি আসলে সবার ছোট ভাই সজল।

এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সজলকে দায় হতে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। তবে আদালতের আদেশের পর তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে, ওসি এসএম মাসুদ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

বিএইচএস/এইচআর

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও