কেটে ফেলা হলো বাহাদুর শাহ পার্কের দেড় যুগের বকুল গাছ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

কেটে ফেলা হলো বাহাদুর শাহ পার্কের দেড় যুগের বকুল গাছ

নাটোর প্রতিনিধি ৫:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

কেটে ফেলা হলো বাহাদুর শাহ পার্কের দেড় যুগের বকুল গাছ

অবশেষে কেটে ফেলা হলো নাটোরের বাহাদুর শাহ পার্কের দেড় যুগের তাজা বকুল গাছ।

বুধবার দুপুরে শহরের পিলখানা এলাকায় অবস্থিত নাটোর পৌরসভার প্রথম পার্কের মধ্যে দেড় যুগ ধরে বেড়ে ওঠা তাজা বকুল গাছটি কেটে ফেলা হয়।

নাটোর পৌরসভা সূত্রে ও এলাকাবাসীর তথ্য মতে জানা যায়, ১৮৬৯ সালে নাটোর পৌরসভা হওয়ার পরে শহরের শিশুদের বিনোদনের জন্য কোনো ব্যাবস্থা না থানায় পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের পিলখানা এলাকায় বাহাদুর শাহ পার্ক তৈরি করেন। এরপর থেকে তা শিশুদের সাথে সাথে এলাকারবাসীরও বিনোদনের একমাত্র আশ্রয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পার্কটি প্রায় নষ্ট হয়ে গেলে তৎকালীন পৌর কতৃপক্ষ তা ফের বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। এরপর থেকে এটি পার্ক হিসেবেই ব্যাবহার হতে থাকে।

পরে ২০০২ সালে নাটোর পৌর কর্তৃপক্ষ পার্কটির একপাশে মার্কেট নির্মাণ করে। বর্তমানে যা ব্যবসায়ীদের ব্যবসার কাজে চলমান। এরপর গত বছর পৌর কর্তৃপক্ষ পার্কের বাকি অংশেও মার্কেট নির্মাণ করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাতে বাধা দেন। পার্কটি নষ্ট না করার জন্য জনস্বার্থে আদালতে একটি মামলা করেন এলাকাবাসী। মামলাটি খারিজ হয়ে গেলে সেখানে পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট নির্মাণের অনুমতি পায়। অনুমতি পেয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট নির্মাণের টেন্ডার দাখিল করেন। প্রায় কোটি টাকার সেই টেন্ডারে কাজ পান ঠিকাদার মির্জা খোকন নামে এক ব্যবসায়ী। এরপর মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেন তারা।

এ বিষয়ে নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মার্কেট নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে সেই স্থানের গাছ ঠিকাদার কাটতে পারে। কিন্তু এর বাইরে কোনো গাছ ঠিকাদার কাটতে পারে না। তিনি নিজেও স্থান নির্ধারণের সময় পার্কের তাজা বকুল গাছটি দেখেছিলেন। সেই সময় তিনিও সবাইকে বলেছিলেন, গাছটি যেন কাটা না হয়। এর বাইরে পার্কের যে গাছগুলো কাটা হবে সেই গাছ বিক্রি করে এলাকার বিভিন্ন মসজিদ আর মন্দিরে টাকা দান করতে বলা হয়েছে।

মেয়রের কাছে ঠিকাদারের নাম জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কাগজে কলমে ঠিকাদার মির্জা খোকন কিন্তু তিনিও শুনেছেন মির্জা খোকনের কাছ থেকে মার্কেট নির্মাণের কাজটি কিনে নিয়েছেন স্থানীয় ঠিাকাদার ও নাটোর জেলা জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি অনিমা জুয়েলার্সের মালিক দুলাল কর্মকার। যদিও তা আইন মোতাবেক করা যায় না।

তিনি আরো বলেন, বকুল গাছটি কাটার বিষয়ে তিনি ঠিকাদার দুলাল কর্মকারের সাথে কথা বলেছেন। ঠিকাদার তাকে জানিয়েছেন তাদের কাজের সুবিধায় তিনি বকুল গাছটি কেটেছেন। বিষয়টি তিনি যেন ম্যানেজ করে নেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার ও নাটোর জেলা জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি অনিমা জুয়েলার্সের মালিক দুলাল কর্মকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি গাছটি কেটেছেন তার কাজের সুবিধার্থে। আর একটি বকুল গাছ কাটতে কারো কাছ থেকে তার অনুমতি নিতে হবে বলে মনে করেন না তিনি।

তাজা বকুল গাছ কেটে তিনি তার ঠিকাদারি কাজের সুবিধা করবেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তার ব্যবসা। ঠিকাদারি কাজে সেখানে অনেক মালপত্র রাখতে হবে সেই কারণে তিনি সব গাছ কাটাসহ সবকিছু পরিষ্কার করে নিয়েছেন।

এইচআর