বগুড়ায় বিএনপির নতুন কমিটি, বিক্ষোভ ও কার্যালয়ে তালা

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বগুড়ায় বিএনপির নতুন কমিটি, বিক্ষোভ ও কার্যালয়ে তালা

আলমগীর হোসেন, বগুড়া ৭:৩১ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৯

বগুড়ায় বিএনপির নতুন কমিটি, বিক্ষোভ ও কার্যালয়ে তালা

বগুড়ায় বিএনপি পাল্টাপাল্টি আহ্বায়ক কমিটি করে কেন্দ্রে পাঠালেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র ওই দুই কমিটির আহ্বায়ক এবং প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে।

সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে প্রধান করে জেলা বিএনপির ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওই কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন দলের বিলুপ্ত জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম।
এদিকে নতুন ঘোষিত কমিটি নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া নেতা সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সভাপতি মেহেদী হাসান হিমুর নেতৃত্বে কমিটি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

নতুন আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জানান, লন্ডনে বসবাসরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে গঠিত বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ১৪ মে রাতে অনুমোদন করেছেন।

আহ্বায়ক কমিটির আকার আরো বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলার ১২ উপজেলা এবং ১২ পৌরসভার সম্মেলন শেষ করে জেলা কমিটি গঠনের জন্য ঈদের পর পরই মাঠে নামবো আমরা।’

দলের পুনর্গঠন নিয়ে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ মে বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ওইদিন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই দিনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খুব শিগগিরই আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছিল।

অবশ্য নতুন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বগুড়ায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একপক্ষ একে স্বাগত জানালেও আরেক পক্ষ নীরব রয়েছেন।

নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কনভেনিং কোনো কমিটি হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে দলের পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আমরা কেবল ফেসবুকেই দেখছি। যদি কোনো কমিটি হয়ে থাকে তাহলে সেটি কেমন পারফরমেন্স করবে সেটি সময়ই বলে দেবে।’

তবে বিলুপ্ত জেলা কমিটির অন্যতম সহ-সভাপতি আলী আজগর হেনা বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাদেরকে যোগ্য মনে করেছেন তাদের দিয়েই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। আমরা মনে করি এই কমিটি খুব দ্রুততার সঙ্গে তৃণমুল থেকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে বগুড়ায় বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর মধ্য দিয়ে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করানোর আন্দোলনকে বেগবান করতে সক্ষম হবেন।’

প্রায় ৮ বছর আগে ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল বগুড়া জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়। সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম ও জয়নাল আবেদীন চাঁনকে যথাক্রমে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তার প্রায় ৫ মাস পর ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি কেন্দ্র থেকে ১৭২ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ বগুড়া জেলা বিএনপির পুনর্গঠনের জন্য ইতিপূর্বে একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও আভ্যন্তরীণ কোন্দলে তা ভেস্তে যায়। এরপর সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল প্রতিনিধি সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করতে জেলা বিএনপির নেতাদের ২৫ এপ্রিল ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়।

অপর একটি সূত্র জানায়, ওই সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ্ বুলু ও রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকতের উপস্থিতিতে ওই সভায় জেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ১০ দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়। তবে সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে বগুড়া জেলা বিএনপিতে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক হবেন না- এমন নেতাদেরকে আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে বেছে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করেই কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে তাদের এমন প্রস্তাবের সঙ্গে দ্বিমত করেন তৎকালীন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তখন তার দুই অনুসারী বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পরিমল কুমার দাস এবং জেলা বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাহ্ মেহেদী হাসানও দলের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নেওয়া সিদ্ধান্তেরর বিরোধিতা করেন। তারা এ সময় কমিটি পুনর্গঠনে ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়নেরও দাবি জানান।

তবে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেদিনের ওই সভায় উপস্থিত সাবেক সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ তৎকালীন দলের বগুড়া জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং তার দুই অনুসারীর বক্তব্যের সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে মত দিলে তুমুল বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ওইদিন বগুড়া জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি সাইফুল ইসলামকে শোকজ এবং যুগ্ম সম্পাদক পরিমল কুমার দাস ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাহ্ মেহেদী হাসান হিমুর পদ-পদবী স্থগিত করা হয়।

পরে এখবর ছড়িয়ে পড়লে ওই তিন নেতার অনুসারী ২৫ এপ্রিল রাতেই বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। পরদিন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়। অবশ্য প্রায় ২০ ঘণ্টা পর ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় তৎকালীন জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম তার অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে তালা খুলে দেন।

দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়ার তিন দিনের মাথায় ২৯ এপ্রিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি দু’টি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। একপক্ষ সেদিন বিলুপ্ত জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে এবং অপর পক্ষ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুল বারী তালুকদার বেলালের নেতৃত্বে পাল্টাপাল্টি দু’টি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন।

এইচআর

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও