পাবনায় শিক্ষক লাঞ্ছিত: মূল হোতাকে বাদ দিয়ে মামলার প্রতিবাদ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পাবনায় শিক্ষক লাঞ্ছিত: মূল হোতাকে বাদ দিয়ে মামলার প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৯

পাবনায় শিক্ষক লাঞ্ছিত: মূল হোতাকে বাদ দিয়ে মামলার প্রতিবাদ

পাবনায় শিক্ষককে মারপিটের ঘটনার মূল হোতাকে বাদ দিয়ে মামলা করায় এর প্রতিবাদ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষক সমাজ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষকরা এ ঘটনার মূল হোতাসহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবিতে শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে মানববন্ধন করেন।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি পাবনা জেলা শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে জেলার সকল সরকারি কলেজের শতশত শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন চলাকালে একাধিক শিক্ষক জানান, পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এবং জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শিবলী সাদিক প্রভাব খাটিয়ে ঘটনার মূল হোতা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুনের নাম বাদ দিয়ে মামলা করতে চাপ দিয়েছেন। অথচ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শিবলী সাদিকের ডানহাত হিসেবে শহরে পরিচিত জুন্নুনের জন্যে রাজনৈতিক মহলের এমন চাপ থাকা মোটেও ঠিক নয়। আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় জড়িত হয়েছি। যারাই এ মামলায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছেন, তাদের কাছে অনুরোধ করছি সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান না নেয়ার জন্যে।

তারা জানান, পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশে নেই। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ফেরানোর জন্যে হলেও পাবনাবাসীর অন্তত এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় ছাত্র ও বহিরাগতদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। গত কয়েক বছরে অন্তত প্রায় ১৫ শিক্ষক তাদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন। কেউবা কলেজ থেকে নীরবে বদলী নিয়ে চলে গেছেন।

মানববন্ধন চলাকালে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি পাবনা জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রব, রাজু আহমেদ, নুরে আলম, কামরুজ্জামান, আতিকুল ইসলাম প্রমুখ শিক্ষক নেতারা বক্তব্য দেন।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক বলেন, গত বুধবার রাতে পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ আরো তিন-চারজনকে অজ্ঞাত করে মামলা করেন। মামলার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাবনা সদরের মালঞ্চি এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামি সজল ইসলাম ও শাফিন শেখকে গ্রেফতার করে। সজল ইসলামের বাবার নাম মো. শাহেদ আলী। তার বাড়ি ঈশ্বরদীর গোকুল নগরে। অন্যদিকে শাফিন শেখের বাবার নাম মো. ইউসুফ আলী শেখ।

ওসি আরো জানান, মামলায় ঘটনার মূল অভিযুক্ত বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সামসুদ্দিন জুন্নুনের নাম এজাহারের উল্লেখ করা হয়নি। শিক্ষকরা যাদের নামে মামলা দিয়েছেন তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় কারো চাপে তারা কোনো আসামির নাম বাদ দিয়েছেন কিনা আমার জানা নেই।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের নিজস্ব প্যাডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, অনিবার্য কারণবশত সরকারি শহিদ বুলবুল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

মারপিটের শিকার বুলবুল কলেজের বাংলার শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, আমি গত ৪ দিন পর বাসা থেকে বের হওয়ার পর দেখছি আমাকে অপরিচতরা অনুসরণ করে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের চাপে শুনেছি অধ্যক্ষ স্যার ঘটনার মূল হোতাকে বাদ দিয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। আসলে আমি বুঝতে পারছি না আমার কি হয়। পুনরায় যদি আমার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে তাহলে আমি নিশ্চিত আমাকে তারা শেষ করে ফেলবে।

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স মামলায় জুন্নুনের নাম বাদ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি জেলা ছাত্রলীগকে ডেকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শাস্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি মাত্র। অধ্যক্ষর দায়েরকৃত মামলার কারা আসামি হবে না হবে সেটি বাদীর নিজস্ব ব্যাপার। এখানে আমার কিছু বলার নেই। তবে কলেজ শিক্ষকরা আমার কাছে এসেছিল, তারা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেয়ায় পাবনায় কলেজ শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। গত ১২ মে এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল বুধবার সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে।

এইচআর

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও