মিলারদের সিন্ডিকেটে ধানের বাজারে ধস

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

মিলারদের সিন্ডিকেটে ধানের বাজারে ধস

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৯

মিলারদের সিন্ডিকেটে ধানের বাজারে ধস

একদিকে ফণীর প্রভাব, অন্যদিকে ধানের ফলনে বিপর্যয় আর সর্বশেষ মিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে নওগাঁয় ধানের ব্যাপক দরপতনে দিশেহারা কৃষক।

প্রতিমণ ধান ৭৫০ টাকায় কেনা হলেও নতুন ধান ওঠার পর তা নেমে এসেছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা মণ দরে।

এর জন্য কৃষক ও হাসকিং মিলারের মালিকরা অটোমেটিক মিলারেদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন; হাসকিং ও অটোমেটিক মিলারদের বরাদ্দতে সমন্বয়ের অভাব।

জানা গেছে, ধান-চাল উৎপাদনের বৃহত্তর জেলা নওগাঁ। সারাদেশের ন্যায় নওগাঁতে ফণীর প্রভাব পড়েছিল গত কয়েক দিন আগে। এতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একদিকে উৎপাদন কম, অন্যদিকে শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে কৃষক।

তবে ধানের দাম কম হওয়ায় পেছনে অটোমেটিক রাইস মিলারদের সিন্ডিকেটকে দুষছেন কৃষক, হাসকিং মিলার ও ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, কৃষকরা সম্প্রতি ধানের নায্যমূল্য নিয়ে জেলার ধামইরহাটে মানববন্ধনও করেছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার দরিদ্র কৃষক ভোলা। তিনি গত সোমবার বিকেলে নওগাঁ সদরের মাতাসাগর হাটে ধান বিক্রি করতে এসেছিলেন। তিনি ধান লাগানো থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমির লাভ-লোকসানের হিসাব দেন। তার প্রতি বিঘায় লাগানো থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা আর ধান পেয়েছেন ২২ মণ। ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করে দাম পেয়েছেন ১২ হাজার টাকা। এতে তার প্রতি বিঘায় লোকসান হয়েছে ৪ হাজার টাকা।

আরেক কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, বর্তমান ধানের বাজার মূল্যে প্রতি বিঘায় ৪ হাজার টাকা লোকসান। প্রতি বিঘায় ফলন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম নেই।

মাতাসাগর হাটের ইজারদার উজ্জল হোসেন বলেন, বাজারে ধানের ক্রেতা নেই। কারণ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করার কারণে বাজারের এ অবস্থা।

নওগাঁর ফারিহা রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ এবং বিসমিল্লাহ মিলের মালিক শাহাদত হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ধানের দাম কম হওয়ার পেছনে হাসকিং ও অটোমেটিক রাইস মিলের বরাদ্দের সমন্বয়হীনতায় মূল কারণ। হাসকিং মিলারদের বরাদ্দ কম হওয়ায় তারা বাজারে ধান কিনছেন না। ফলে বাজারে ক্রেতা কম হওয়ায় ধানের দাম কম। হাসকিং মিলারদের বরাদ্দ যদি সঠিকভাবে দেয়া হতো তাহলে গুটিকয়েক অটোমেটিক মিলাররা এ সিন্ডিকেট তৈরি করতে পারতো না। অটোমেটিক রাইস মিলারদের বরাদ্দ বেশি হওয়ায় গত মৌসুমের ধান-চাল মজুদ থাকায় ধান কিনছেন না তারা। ফলে তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেট।

 

নওগাঁ জেলা চাল-কল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ চকদার সিন্ডিকেটের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ধানের দাম পেতে হলে ক্রেতা বৃদ্ধি করতে হবে। আর এজন্য হাসকিং মিলারদের বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। হাসকিং মিলারদের বরাদ্দ খুবই কম হওয়ায় তারা ধান কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

এভাবে এক সময় ধান-চালে বাজার অটোমিলারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে এবং আগামীতে এর কুফল জাতিকে বহন করতে হবে। তবে সবদিক বিবেচনায় ধানের বাজার মনিটরিং করা হলে কৃষকের এই দুর্দশা দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এইচআর