যমুনায় অসংখ্য ডুবোচরে সীমাহীন দুর্ভোগ চরবাসীর

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯ | ৫ চৈত্র ১৪২৫

যমুনায় অসংখ্য ডুবোচরে সীমাহীন দুর্ভোগ চরবাসীর

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ৫:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

যমুনায় অসংখ্য ডুবোচরে সীমাহীন দুর্ভোগ চরবাসীর

সিরাজগঞ্জ সদর, চৌহালী কাজিপুরসহ প্রবাহমান যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হ্রাস পাওয়ায় নদী বক্ষে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর-ডুবোচর। এসব চরের প্রশ্বস্ততা বাড়তে বাড়তে ১৫ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে।

ফলে শুষ্ক মৌসুমে পালতোলা নৌকার বদলে এখন যমুনার বুকে চলাচল করে গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, আর ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, নছিমন, করিমন ও ভটভটি।

এতে করে খরচ যেমন বেশি তেমনি কয়েক কি.মি. পাড়ি দিতেই দিনের বেশিরভাগ সময় চলে যাচ্ছে। আর এ কারণে উজানের পানি বইতে গিয়ে যমুনা তার খেই হারিয়ে নানা শাখা-প্রশাখা, আর চর-ডুবোচরে নিজেকে প্রকাশ করছে।

এককালের খরস্রোতা যমুনা শুষ্ক মৌসুমে পানিহীন, প্রাণহীন এক মরুভূমিতে রূপ নিয়েছে। এ কারণে দেড় লক্ষাধিক চরবাসীর যাতায়াত সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

পানি কমার ফলে যমুনা নদীর কাজিপুরের ১০টি রুটে নৌ-চলাচল দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। উপজেলার মেঘাই ঘাট থেকে প্রতিদিন নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ী, চরগিরিশি, মনসুর নগর, তারাকান্দি, সিরাজগঞ্জ, সহবাড়াবাড়ী, রুপসার চরে শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাতায়াত করতো।

শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই নদীর নাব্য কমে চর জেগে ওঠায় নৌযান চর-ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। অনেক বেশি পথ ঘুরে নৌকাগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে করে ইঞ্জিনের তেল খরচ ও সময় দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে যাত্রীভাড়া ও মালামাল পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে।

অপরদিকে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে নৌঘাটগুলোতে। নদীর পানি কামার ফলে নৌকার ঘাট সরতে সরতে মূলস্থান থেকে দেড় থেকে আড়াই কি.মি. পর্যন্ত দূরে সরে গেছে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ বালুচর হেঁটে নৌকায় চড়তে হচ্ছে। এক্ষেত্রে মালামালসহ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এখনও যমুনার পানি যেভাবে কমছে তাতে মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া ঘাট থেকে চলাচলকারী সবগুলো রুটে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে শতাধিক নৌকার মাঝি বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

কথা হয় নাটুয়ারপাড়া ঘাট মালিক সমিতির সভাপতি ওমর আলী মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি বলেন, যমুনার পানি কমে যাওয়ায় আগে যেখানে নদী পার হতে পৌনে এক ঘণ্টা সময় লাগতো, এখন প্রায় দুই-আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। এতে করে দিনে একবারের বেশি কোনো নৌকার সিরিয়াল পড়ে না। যাত্রীরাদেরও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ঢেকুরিয়া বাজারের সার ডিলার হযরত আলী বলেন, দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘাটে সারের নৌকা আনা যায় না। অনেক সময় মধ্য চরে নৌকা আটকে যওয়ায় ঘাটে পৌঁছাতে এক থেকে দেড়দিন অতিরিক্ত সময় লেগে যায়।

নাটুয়ারপাড়া ঘাটের সিরিয়াল মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ৩ কিলোমিটার দূরের নাটুয়ারপাড়া ঘাটে পৌঁছতে এখন ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে নৌ চলাচল অনেক কমে গেছে।

মেঘাই ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু তালহা বলেন, নৌকা কম চলায় এখন আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনও কমে গেছে বলে তিনি জানান।

এইচআর