নির্বাচনী প্রচারণায় জমে উঠেছে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নির্বাচনী প্রচারণায় জমে উঠেছে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

নির্বাচনী প্রচারণায় জমে উঠেছে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে ও কেন্দ্রীয়ভাবে তদবীরে চষে বেড়াচ্ছেন।

এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকাসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েও দোয়া কামনা করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সংসদীয় এই আসনে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান তালুকদার নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত আলহাজ ইসহাক হোসেন তালুকদার নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি সফলতার সাথে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ইসহাক হোসেন তালুকদারকে মনোনয়ন দেন। নির্বাচনে কোনো প্রার্থী না থাকায় অনায়াসে তিনি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর দুই বছর পার হতে না হতেই ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফলে এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

এ সময় এ আসনে ১৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলনকে মনোনয়ন দেন। ওই পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন নির্বাচিত হন। সেই থেকে আসনটি এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রায় দেড়ডজন ও বিএনপির ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একই মন্তব্য, দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা তাকেই সমর্থন করে নির্বাচনী মাঠে কাজ করব। মনোনয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে না পারলে আসনটি বিএনপি প্রার্থীর জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে পারে বলে এলাকার প্রবীণদের অভিমত। তাই এই আসনে আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিলে আসনটি বিএনপির দখল করবে এটা এলাকার ভোটাররা মনে করেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও অনেক সময় বাকি। তবে থেমে নেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগ। সুকৗশলে নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন তারা। হাটবাজার, হোটেল রেস্তোরাঁয় নানা বিষয়ে আলাপ আলোচনার ফাঁকে চলছে নির্বাচন বিষয়ে বাড়তি আলোচনা সমালোচনা। কোন দল থেকে কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন, কাকে মনোনয়ন দিলে দল জিতবে আর কাকে মনোনয়ন দিলে দল হারবে, কোন প্রার্থীর কতটুকু দোষ-গুণ এ বিষয়গুলোও উঠে আসছে এসব আলোচনা-সমালোচনায়। এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রকাশ্যে মাঠে না নামলেও সুকৌশলে তারা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পোস্টার, ফেস্টুন, ডিজিটাল ব্যানার ইত্যাদি নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানা দিচ্ছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পাকাপোক্ত করতে দলের হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যারা মনোনয়ন তুলেছেন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে ২২ জন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তারা হলেন, বর্তমান এমপি ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিন্নাহ আলমাজী, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, শিল্পপতি লুৎফর রহমান দিলু, তাড়াশ উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আব্দুল হক, সাবেক এমপির ইসহাক তালুকদারের ছেলে ইমরুল হোসেন তালুকদার ইমন, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সুইট, ডা. আব্দুল আজিজ, সাংবাদিক ড. মিথুন মোস্তাফিজ, ইউপি চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি স্বপন রায়, সাইদুর রহমান পল, দুলাল খান, আবুল কালাম আজাদ হৃদয়, গোলাম হোসেন সুমন ও আহসান হাবিব সুজন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান তালুকদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় গ্রাম সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিশির, রায়গঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ভিপি আইনুল হক, তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর ও গোলাম মোস্তফা।

তবে অন্য দলের মনোয়ন প্রত্যাশীদের নাম এখনও শোনা যায়নি।

এইআর/এআরই