সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে দুর্গোৎসব

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে দুর্গোৎসব

বিপ্লব হাসান, রাজশাহী ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৮

সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে দুর্গোৎসব

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু হয় গেল ৪ সেপ্টেম্বর। এর আগে বাংলাদেশ সময় ১১ মে রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। স্যাটেলাইটটিকে নিরক্ষ রেখার ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে স্থাপন করা হয়। সেখানে সেট হওয়ার পর টেস্ট সিগন্যাল পাঠাতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ইন অরবিট টেস্ট (আইওটি)-সহ সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর স্যাটেলাইটটিকে ট্রান্সমিশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং অক্টোবরে বাণিজ্যিক সম্প্রচারে যাওয়ারও কথা। এমন পরিকল্পনা নিয়ে যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১, তখন সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে হচ্ছে দুর্গাপুজার মহাৎসব।

বাস্তব ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে এমনটি না হলেও পাঁচ দিনের জন্য নির্মিত নানা রংয়ে অঙ্কিত কাপড়, শোলা, কাঠ আর বাঁশ দিয়ে তৈরি কেন্দ্রে চলছে দেবী দুর্গার পূজা-অর্চনা। আর তা হচ্ছে রাজশাহী মহানগরীর রাণীবাজার মোড় এলাকায়। মণ্ডপ ও প্রতিমাসহ প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি। আয়োজক সংগঠন টাইগার সংঘের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।

মূলত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের জন্য বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে কতটা গুরুত্ব বহন করতে চলেছে তা জানান দেবার জন্য এবারের মণ্ডপের আয়োজন। যাতে সকলের মুখে মুখে ঘুরে ফেরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর নাম। এতে করে সকলের জানার আগ্রহ বাড়বে এবং জানবে প্রকৃত ইতিহাস। বুধবার বিকেল থেকেই মণ্ডপে দেখা যায় দর্শনার্থীদের ভিড়, যা ছিল রাত অবধি।

এবারের দুর্গোৎসবে মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্তে পূজা মণ্ডপ নানা থিম নিয়ে তৈরি হলেও টাইগার সংঘের থিমটি বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে। তাই তো সারাদিন হিন্দু ধর্মালম্বীদের পূজা-অর্চনা চললেও বিকেল হতে সর্বস্তরের মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে কেবল মণ্ডপটি দেখার জন্য। মণ্ডপের সাদা রংয়ের সুবিশাল রকেটটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে এ দেশের মহাকাশ জয়ের ইতিহাস।


রকেটটির গায়ে লেখা “বঙ্গবন্ধু-১”। তার সাথে রয়েছে বাঙালির রক্তে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা। আর রকেটটির নিচের দিকে লাল কাপড়ের কুচিগুলো রকেট থেকে নির্গত অগ্নি ধোঁয়ার স্মারক। পাশেই কালো কাপড়ের মহাকাশ দৃশ্য। আর এতে ভেসে রয়েছে সবুজ-ধূসর পৃথিবী। তার চারদিকে আবর্তমান বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। নানা রংয়ের আলোয় তা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। সন্ধ্যার এই আলোকসজ্জার ঝলকানিতে যেন আরো জীবন্ত হয়ে উঠে বঙ্গবন্ধু-১। যেন উড়ন্ত বঙ্গবন্ধু-১ পৃথিবী ঘুরে এসে সংকেত পাঠাচ্ছে। সঙ্গে দেখা যায়, সুদূর আমেরিকায় অবস্থিত ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস এন্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) সেন্টারের প্রতিকৃতি।

পূজা মণ্ডপ দেখতে আসা মহানগরীর উপকণ্ঠের কাটাখালি এলাকার মামুন বললেন, লোক মুখে শুনলাম এমন মণ্ডপের কথা। তাই দেখতে আসলাম। মনে হচ্ছে, সত্যি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র দেখছি। আর স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণটাও দারুন লাগছে।


মহানগরীর কোট হড়গ্রাম এলাকার দিনবন্ধু পাল বললেন, এবারের রাজশাহীর গড়ে উঠা মণ্ডপগুলোর তুলনায় এই মণ্ডপটি একেবারই ভিন্ন। বিভিন্ন জায়গায় মণ্ডপে ঘুরছি।
স্বপন কুমার তালুকদার তার ছোট নাতনিকে পূজা মণ্ডপ দেখাতে নিয়ে এসে বললেন, ‘এটি চমৎকার একটি উদ্যোগ। বিজ্ঞান মেলা বা কোনো প্রদর্শনীতে এতো বড় পরিসরে এমনভাবে দেখানোর সুযোগ থাকে না, আর সেখানে সবাই যেতেও পারে না। এখানে সর্বসাধারণ আসছে এবং দেখে জানার চেষ্টাও করছে।

টাইগার সংঘ পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি শ্রী সুমন চক্রবর্তী বলেন, ক্লাবটি ৩৭ বছর থেকে পূজার আয়োজন করে আসছে। প্রতিবারই পরিকল্পনা থাকে একটু ব্যতিক্রম কিছু করার। যোগও হয় নতুন মাত্রা। তাই এবার বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মহাকাশ জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের থিম নিয়ে পূজামণ্ডপটি তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হয়েছে প্রতিমাসহ প্রায় ১২ লাখ টাকা।

টাইগার সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী জানালেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আদলে পূজামণ্ডপ সাজানোর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো দেশের এতো বড় সাফল্য সকলের সামনে তুলে ধরা। টেলিভিশন কিংবা পত্র-পত্রিকা পড়ে তো সমাজের এক শ্রেণির মানুষ বহু কিছু জানতে পারে। কিন্তু সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং ছোট ছোট বাচ্চারা এ সম্পর্কে এখনো ভালোভাবে জানে না। তাই এই মণ্ডপ দেখে হলেও কিছুটা বুঝতে পারবে তারা। আবার ভালোভাবে জানার চেষ্টাও করবে।

বিএইচএস/আরপি