রাজশাহীতে সিজারে ৭টি বাচ্চা জন্ম দিলো কুকুর

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

রাজশাহীতে সিজারে ৭টি বাচ্চা জন্ম দিলো কুকুর

বিপ্লব হাসান, রাজশাহী ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

রাজশাহীতে সিজারে ৭টি বাচ্চা জন্ম দিলো কুকুর

সিজারিয়ানের মাধ্যমে কুকুরের বাচ্চা জন্ম দেয়ার কথা তেমনটি শোনা যায় না বললেই চলে। তবে এমন ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভ্যাটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের ভ্যাটেরিনারি ক্লিনিক অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে।

মহানগরীর উপকণ্ঠে নাড়িকেলবাড়িয়ায় অবস্থিত এই ক্লিনিকে একটি পোষা কুকুর সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম দিয়েছে সাতটি বাচ্চা। এখন পর্যন্ত কুকুর ও বাচ্চাগুলো সুস্থ রয়েছে।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজশাহীতে এটাই প্রথম কোনো কুকুরের সিজারিয়ানের মাধ্যমে বাচ্চা জন্ম দেয়ার ঘটনা।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে বগুড়া জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান ছোট মেয়ে কঙ্কনের আবদারে বাড়িতে নিয়ে আসেন কুকুরটি। নাম রাখেন লিলি।

পোষা কুকুরটি বাড়ির সবার কাছে হয়ে উঠে অনেক প্রিয় ও আদরের। বাচ্চা প্রসবের সময় হয়ে আসলে আতিকুর যোগাযোগ করেন রাবি ভ্যাটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের ভ্যাটেরিনারি ক্লিনিক অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে।

এতে সাড়া দেয় রাবির ভ্যাটেরিনারি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর লিলিকে নেয়া হয় ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার অপারেশনে কুকুরটি সাতটি বাচ্চার জন্ম দেয়।

এই সিজারিয়ান অপারশেন করেন ক্লিনিকের দায়িত্বরত ডেপুটি ভ্যাটেরিনারি অফিসার ডা. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ। তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন ক্লিনিক্যাল অ্যাটেন্ডেন্স জিয়াউর রহমান, ভ্যাটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের পিএইচডি ফেলো ড. ইসমাইল হক।

ডা. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ বলেন, রাজশাহীতে এটাই প্রথম কুকুরের সিজারিয়ান অপারেশন। গত ৪ সেপ্টেম্বর এ অপারেশনের মাধ্যমে ওই কুকুরটি সাতটি বাচ্চা জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন, গর্ভবতী কুকুরটিকে প্রসবের আগ মুহূর্তে তার মালিক আতিকুর রহমান নিয়ে এসেছিলেন বাচ্চা হওয়ার পর লাইগেশন করে দেয়ার জন্য। কারণ পরবর্তীতে তাদের পোষা কুকুরটির কাছ থেকে আর বাচ্চা চান না।

তখন গর্ভবতী কুকুরটিকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ওটিতে সি-সেকশন ডেলিভারির (সিজার করে) মাধ্যমে সাতটি ছানার জন্ম দেয়া কুকুরটি।

অপারেশনের দুই ঘণ্টার মধ্যেই মা কুকুর লিলির জ্ঞান ফিরে আসে এবং সুস্থ হয়ে যায়। বাচ্চাগুলো প্রথম পর্যায়ে একটু দুর্বল থাকার কারণে তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। এখন সাতটি বাচ্চাই পুরোপুরি সুস্থ। তবে আরও ১৫ দিনের মতো তাদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন আছে।

কুকুরটির মালিক আতিকুর বলেন, ছোট মেয়ে কঙ্কনের আবদারেই কুকুর লিলিকে প্রায় দুই বছর আগে বাসায় নিয়ে আসা হয়। কুকুরটি পরিবারের সকলের খুব যত্নের ও আদরের। লিলি পরিবারের সদস্য হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর লিলিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটেরিনারি ক্লিনিক অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় বাচ্চা জন্ম দেয়ার জন্য। সেই সাথে আগামীতে যেন আর কোনো বাচ্চা নিতে না পারে সেই ব্যবস্থা করাও ছিল উদ্দেশ্য।

আতিকুর বলেন, লিলি সিজারিয়ানের মাধ্যমে সাতটি বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। কুকুরটি ও ছোট্ট কুকুর ছানাগুলোকে দেখতে মেয়েসহ প্রতিদিনই একবার করে ক্লিনিকে যাই। লিলি ও তার ছানাগুলো বেশ সুস্থ রয়েছে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি তাদের বাসায় নেয়ার জন্য।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেনারি অ্যান্ড সাইয়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এসএম কামরুজ্জামান বলেন, মানুষের মতোই প্রাণীর সিজার করে বাচ্চা প্রসব করানোর ঘটনা এখন সচারচর হয়। বিশেষ করে দেশের যে সকল প্রাণী হাসপাতাল বা ক্লিনিগুলোতে সুব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি জানান, গরু-ছাগলের পাশাপাশি বিড়ালের সিজার করে বাচ্চা জন্ম দেয়ার ঘটনা প্রায়শই হয়। সৌখিন মানুষেরা সাধারণত পোষা প্রাণীর সিজার করে বাচ্চা প্রসব করিয়ে থাকেন।

তবে কামারুজ্জামান বলেন, কুকুরের সিজার করে সাতটি বাচ্চা প্রসব করানোর ঘটনা অনেকটাই বিরল। তাছাড়াও ছানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখাও খুব চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। রাবির ভ্যাটেনারি ক্লিনিকে ছানাগুলো এখন সুস্থ আছে।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. হুমায়ন কবির বলেন, সিজার করে কুকুরের ৭টি বাচ্চা প্রসব করানোর বিষয়টি অনেকটাই বিরল। রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারি প্রাণী হাসপাতালে সিজারের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিএইচএস/এমএসআই