সিরাজগঞ্জে নৌকা বিক্রির ধুম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

সিরাজগঞ্জে নৌকা বিক্রির ধুম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৮

print
সিরাজগঞ্জে নৌকা বিক্রির ধুম

সিরাজগঞ্জ সদরসহ কয়েকটি উপজেলাতেই নৌকা বিক্রির ধুম পড়েছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে যমুনা নদীর চরের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। তাই বর্ষা এলেই তাদের নৌকার হাটে যাওয়ার ধুম পড়ে। যমুনা নদীর তীরে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরীর মাদ্রাসা মাঠের নৌকার পসরা সাজিয়ে হাট বসছে।

জানা যায়, আগে বর্ষার দিনে ডিঙি নৌকার কদর বেশি ছিল। এখন সড়ক পথে যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় নৌকার কদর কমেছে। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে নৌকা বিক্রি ভালো হলেও বছরের অন্য সময় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে নৌকা তৈরির কারিগরদের।

মূলত নৌপথ কমে যাওয়ায় এ ব্যবসা এখন মৌসুমি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর ও গোহালা নদী প্রবাহমান। এই নৌপথের গুরুত্ব বিবেচনা করে শত বছর ধরে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরীতে নৌকার হাট বসছে। কালের বিবর্তনে কোষা, বজরা কিংবা পণ্যবাহী নৌকার বিলুপ্ত ঘটেছে। কিন্তু কৈজুরীতে ডিঙি নৌকার হাট এখনো টিকে আছে। সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে যমুনা নদীর তীরে কৈজুরীর মাদ্রাসা মাঠের নৌকার পসরা সাজিয়ে হাট বসছে। সপ্তাহের এক দিন শুক্রবার এ হাট বসে।

গুপিয়াখালীর নৌকা বিক্রেতা কোরবান আলীর জানান, নৌকা তৈরি ও বিক্রি তাদের পৈত্রিক ব্যবসা। বাড়িতেই তাদের কারখানা। তিনি কিশোর বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে নৌকা বিক্রি করতে কৈজুরী হাটে আসতেন। তখন ১২ হাত লম্বা একটি ডিঙি নৌকা ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতেন। এখন সেই নৌকা বিক্রি হচ্ছে ছয় হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকায়।

নৌকা ক্রেতা আব্দুস ছামাদ মিয়া বলেন, পানি আসতে শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বাড়ির চারপাশে পানি দিয়ে ভরে যাবে। একমাত্র চলাচলের ভরসা নৌকা। বাজারে এসেছি নৌকা কিনতে। তিনি আরও বলেন, গতবারের চেয়ে এবার নৌকার দাম একটু বেশি। বেশি হলেও উপায় নেই।

হাট ইজারাদার সাইফুল ইসলাম জানান, দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা কিনতে যারা কৈজুরী হাটে আসেন তাদের হাট কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকেন। হাটের বিশাল অংশ যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাই হাটের অস্তিত্ব ধরে রাখতে কৈজুরী মাদ্রাসা মাঠে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার নৌকার হাট বসানো হচ্ছে।

কৈজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে বর্ষার পরপরই নৌপথ হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্ষার পর সেভাবে নৌকা বিক্রি হয় না। তা ছাড়া হাটের জায়গা যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শত বছরের পুরনো এই নৌকার হাটটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনার বেড়া সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, চরকৈজুরী, পাঁচিল, দুগালী, বর্ণিয়া, জামিরতা, গুদিবাড়ি, বেনোটিয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মহাজনরা এ হাটে ডিঙি নৌকা বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন বলে জানালেন চেয়ারম্যান।

একে/বিএইচ/

 
.


আলোচিত সংবাদ