ওভার ব্রিজে ঝুলছে দায়সারা সাইনবোর্ড, প্রাণহানির আশঙ্কা

ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫

ওভার ব্রিজে ঝুলছে দায়সারা সাইনবোর্ড, প্রাণহানির আশঙ্কা

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৮

print
ওভার ব্রিজে ঝুলছে দায়সারা সাইনবোর্ড, প্রাণহানির আশঙ্কা

দুর্ঘটনা ঘটার পর সবার টনক নড়ে। চলে দর্শন পরিদর্শন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ফিরে আসে না দুর্ঘটনায় হারানো জীবনগুলো। পূরণ হয় না স্বজন হারানো ক্ষতটি। রঙ্গিন স্বপ্নগুলো আর উড়ে না আকাশে-বাতাসে। যদিও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা বাংলাদেশ রেলওয়ে আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। ছাদে ভ্রমণে যাত্রীদের বার বার নিষেধ করলেও এক শ্রেণীর যাত্রীরা নিষেধ না মানার কারণে রাণীনগরের ওভার ব্রিজের সাথে ধাক্কা খেয়ে প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটেই চলেছে।

সম্প্রতি রানীনগর রেলওয়ে ওভার ব্রিজে একটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুতগামী ট্রেনের ছাদের যাত্রীরা কখন পড়বেন ওই সাইনবোর্ডটি। তার আগেই তো ঘটে যেতে পারে প্রাণহানির ঘটনা। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের ট্রেনে ভ্রমণরত যাত্রীদের মৃত্যুফাঁদ নামক স্থান রাণীনগর রেলওয়ে ষ্টেশনের ওভার ব্রিজ। সব সময় যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ছাদে ভ্রমণরত যাত্রীরা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে গিয়ে অসাবধানতা বসত রাণীনগরের ওভার ব্রিজের গার্ডারের সাথে ধাক্কা লেগে মারা যেতে পারে। প্রায়শ দুর্ঘটনায় হতাহতর ঘটনা ঘটে। তাই ওভার ব্রিজের রেলিং এর সাথে সম্প্রতি সচেতনতামূলক একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সাইন বোর্ডটি লাগানোর জায়গা নিয়েও এলাকায় চলছে নানা বিতর্ক।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে রাণীনগর রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন ওভার ব্রিজটি যাত্রী ও জনসাধারণ রেললাইন পারাপারের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়। যাত্রী ও জনসাধারণের সুবিধার জন্য নির্মিত সেতুটি বর্তমানে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ট্রেনগুলো নির্ধারিত গতিতে নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য সময়ের প্রয়োজনে রেললাইন মাঝে মাঝে সংস্কার করায় রেলের পাটাতনের উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি হলেও ব্রিজটি আগের উচ্চতায় থাকার কারণে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণকারী যাত্রীরা অসাবধানতা বসত প্রায়ই ব্রিজের গার্ডারের সাথে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহতসহ নিহতের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে।

প্রতি বছরই মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাবে নিহতদের তালিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জয়পুরহাট, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, চিলাহাটি, পার্বতীপুর, নীলফামারী, সান্তাহার, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুরসহ উত্তর জনপদের বিভিন্ন রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ঈশ্বরদী, যশোর, খুলনা, যমুনা সেতু পার হয়ে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত দিনে ও রাতে আন্ত:নগর ও মেইল ট্রেনসহ প্রায় ১১টি ট্রেন নিয়মিত রাণীনগর রেলওয়ে ষ্টেশন হয়ে চলাচল করে। রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলে ষ্টেশনের ক্যাটাগরি মোতাবেক অধিকাংশ স্থানে ওভার ব্রিজ আছে সেই সব সেতুর সাথে ধাক্কা লেগে প্রাণহানির ঘটনা কম-বেশি থাকলেও রাণীনগর রেল ষ্টেশনে স্থাপিত ওভার ব্রিজের রেলিং এর সাথে ধাক্কা খেয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা যাত্রীদের প্রতি মাসেই প্রায় আহত-নিহতর ঘটনা লেগেই আছে।

সান্তাহার জংশন স্টেশনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কমার্শিয়াল (টিআইসি) আব্দুস সোবহান বলেন, যদিও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা বাংলাদেশ রেলওয়ে আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। ছাদে ভ্রমণে যাত্রীদের বার বার নিষেধ করলেও এক শ্রেণীর যাত্রীরা নিষেধ না মানার কারণে রাণীনগরের ওভার ব্রিজের সাথে ধাক্কা খেয়ে প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটেই চলেছে।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেলগুলো সময়ের প্রয়োজনে নতুন করে নির্মাণ কিংবা সংস্কার করায় পাটাতনের উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি হওয়ার ফলে ওভার ব্রিজের রেলিং এর সাথে অসাবধানতা বসত ছাদে ভ্রমণ যাত্রীদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। স্বাভাবিকভাবে প্রতিটি উড়াল সেতু প্রায় ১৭ ফিট থেকে সাড়ে ১৭ ফিট উঁচু হয়। কিন্তু রাণীনগরে রেল লাইন থেকে ওভার ব্রিজের উচ্চতা ১৫ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং ট্রেনের উচ্চতা ১৩ ফিট ৬ ইঞ্চি। তাই ট্রেনের ছাদে যাত্রীরা যখন বাধ্য হয়ে ভ্রমণ করেন তখন ওভার ব্রিজের রেলিং এর সাথে ধাক্কা লেগে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরো বলেন, বেশ কিছু দিন আগে রাণীনগর রেল ষ্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মরত ষ্টেশন মাষ্টার না থাকায় নজরদারী কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়েই চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে ওভার ব্রিজের সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই ৪ জন যাত্রী মারা যান। এরপর রেল বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে মৃত্যু ফাঁদ এই ওভার ব্রিজটি সংস্কারের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ ওভার ব্রিজের সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নজরে আনতে পাড়েনি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মোবাইল ফোনে বলেন, রাণীনগর ষ্টেশনের ওভার ব্রিজ সংস্কারের মাধ্যমে উঁচু করার কাজের অফিসিয়াল প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। খুব দ্রুতই এর জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে। অল্প দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে। বর্তমান যে ১৬ ফুট উচ্চতা আছে তার থেকে বাড়িয়ে ২১ ফুট উচ্চতা করা হবে।

এসএফ

 
.



আলোচিত সংবাদ