গভীর নলকূপের সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষক

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

গভীর নলকূপের সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষক

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ১২:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

গভীর নলকূপের সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষক

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) আওতায় পরিচালিত পানাসি সেচ প্রকল্পের ৬৫টি গভীর নলকূপ থেকে স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা পাচ্ছে না প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। প্রভাবশালীদের কাছে অধিকাংশ গভীর নলকূপের পানি সরবরাহের দায়িত্ব থাকায় নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি দিয়েও সেচ সুবিধা পাচ্ছে না কৃষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার কৃষকদের জন্য পানাসি প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠে ৬৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এসব গভীর নলকূপ পরিচালনার জন্য কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করা হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা কাগজ-কলমে কমিটি গঠন করে অনুমোদন নিয়ে নিজেরাই পরিচালনা করেছেন নলকূপগুলো। হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এতে স্বল্পমূল্যের সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। তারা একজন ব্যবস্থাপক দিয়ে নলকূপগুলো পরিচালনা করছেন। তবে কিছু নলকূপ সমবায় ভিত্তিতে পরিচালনা হলেও বেশির ভাগই নিয়ম-নীতি না মেনে কৃষকের কাছ থেকে ১৫০০-২০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, প্রভাবশালীদের দখলে থাকা অধিকাংশ গভীর নলকূপের পানি সরবরাহের নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

দেশীগ্রাম ইউনিয়নের ক্ষীরসীন গভীর নলকূপের ম্যানেজার আল-আমিন হোসেন জানান, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হলে কিনতে হয়, নষ্ট হলে মেরামত করতে হয়। সেচের জন্য বিএডিসি কর্তৃপক্ষকে বিল বাবদ ঘণ্টায় ১১০ টাকা দিতে হয়। এছাড়া পানি সরবরাহে ড্রেন সংস্কারসহ নানা কাজে টাকা ব্যয় করতে হয়। প্রায় কৃষকই তার প্রকৃত জমির পরিমাণের চেয়ে কম টাকা দেয় বলে জানান তিনি।

ব্যবস্থাপক আব্দুল হাকিম জানান, একটি গভীর নলকূপ পরিচালনা করতে একাধিক লোকের প্রয়োজন হয়। আমরা দুজন লোক রেখেছি। তাদের বেতন বাবদ বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এ কারণে কৃষকদের কাছ থেকে কিছু টাকা বেশি নেওয়া হয়।

তিনি জানান, অগভীর নলকূপের মালিকরা কৃষকের কাছ থেকে সেচেমূল্য বাবদ উৎপাদিত ধানের ৪ ভাগের ১ ভাগ ধান নিয়ে থাকেন । আমরা প্রতি বিঘা জমিতে সেচের জন্য ২ হাজার টাকা নিয়ে থাকি। প্রকল্পটি সমবায় ভিত্তিক হলেও এটি স্থাপন করতে আমাদের অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। বৈদ্যুতিক মিটার প্রি-পেইড সিস্টেম হওয়ায় অগ্রিম টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনতে হয়। এ জন্য তাদের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা বেশি নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

পানাসি প্রকল্পের তাড়াশ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান জানান, গভীর নলকূপের ব্যবস্থাপকরা এক হয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। স্থানীয় যেসব ব্যক্তিরা গভীর নলকূপ নিয়ন্ত্রণ করেন তারা প্রভাবশালী।

এছাড়া প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হয় না। এতে করে সেচ ব্যবস্থাপনা অধিকাংশ প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় পানাসি প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলীকে পানি সেচের জন্য নির্ধারিত টাকা নেওয়ার বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেচের টাকা নির্ধারণ না হওয়ায় কিছু প্রভাবশালী কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন।

কেকে/এসএফ