ঈশ্বরদীতে দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষণ

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ঈশ্বরদীতে দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষণ

পাবনা প্রতিনিধি ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

ঈশ্বরদীতে দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে রাতভর  ধর্ষণ

পাবনার ঈশ্বরদীতে দুই স্কুল ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে । ধর্ষিতা দুই ছাত্রীর বাড়ী ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে। তারা স্থানীয় এক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ওই দুই ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন। এ সময় ধর্ষিতা ছাত্রীদ্বয় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, পার্শ্ববর্তী একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইদিনব্যাপী শতবর্ষ উৎসব শেষে বাড়ি ফেরার সময় পূর্ব পরিচিত রমজান ও রনি বেড়ানোর কথা বলে তাদের তুলে নিয়ে রাতভর একটি বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণ করে।

ধর্ষিতারা আরো জানায়, রোববার শতবর্ষ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখার জন্য তাদের স্কুলের সকল ছাত্রী ওই উচ্চ বিদ্যালয়ে যায়। বিকেল ৩টার দিকে বিরতির সময় এই দুই ছাত্রী রমজান ও রনির সাথে অটোতে করে বেড়াতে বের হয়। বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে-ফিরে সন্ধ্যার দিকে গড়গড়ি গ্রামের একটি ফাঁকা বাড়িতে  নিয়ে যায় তাদের। পরে সারারাত আটকে রেখে দুই ধর্ষক ওই ছাত্রীদের ধর্ষণ করে।

সোমবার ভোরের দিকে এই কথা কাউকে না জানানোর জন্য শাসিয়ে রমজান ও রনি ধর্ষিতাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ সময় তারা অনেক পথ পায়ে হেঁটে সকাল আটটার দিকে বাড়ি পৌঁছায়। পরিবারের লোকজন সারারাত এদের খোঁজ করেও না পেয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরিবারের পক্ষ হতে সারারাত কোথায় ছিল জানতে চাইলে ধর্ষিতা ছাত্রীরা পরিবারকে এ ঘটনা জানায়।

পরে উভয় পরিবারের পক্ষ হতে এলাকার সাহাপুর ইউপি’র মেম্বার শামসুল প্রামাণিককে বিষয়টি জানানো হলে মেম্বার ধর্ষিতা ও পরিবারের লোকজনদের নিয়ে অভিযোগ দেয়ার জন্য পুলিশের ঈশ্বরদী সার্কেলের অফিসে নিয়ে যায়। এ সময় মেম্বার শামসুল ও এলাকার লোকজন জানান, ধর্ষকদের বাড়ি গড়গড়ি গ্রামে। রমজানের বাবার নাম সিরাজুল ইসলাম মনা এবং রনির বাবার নাম মনিরুল ইসলাম। সিরাজুল ইসলাম মনা আওতাপাড়া হাটে ইজারাদারের খাজনা তোলার কাজ করে।

এলাকাবাসীরা জানান, উভয় ধর্ষিতার বাবা অত্যন্ত দরিদ্র। এদের মধ্যে একজনের বাবা মোস্তাক প্রামানিক পেশায় অটো ভ্যানচালক এবং অপরজন আবলু প্রামাণিক পেশায় দিন মজুর।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক জানান, শুনেছি প্রেমঘটিত কারণে বেড়াতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা জানার সাথে সাথে পুলিশী কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

আরজে/আরজি