কুরআন তেলাওয়াত শোনাও ইবাদত

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫

কুরআন তেলাওয়াত শোনাও ইবাদত

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭

print
কুরআন তেলাওয়াত শোনাও ইবাদত

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমরা রহমত লাভ কর। (সূরা আরাফ, আয়াত : ২০৪)

কুরআন কারিম আল্লাহর সর্বশেষ আসমানি প্রত্যাদেশ। মহানবীর ওপর দীর্ঘ তেইশ বছর সময় ধরে এটি নাজিল হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন শেষনবী, তাঁর পর আর আল্লাহর কোনো নবী বা বার্তাবাহক আসবে না, তেমনি তাঁর ওপর অবতীর্ণ কুরআন কারিমও এমন এক মহাগ্রন্থ যার পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো আসমানি গ্রন্থ নাজিল হবে না। সেহেতু কুরআনে পুরো মানব জাতির এমন কোনো সংকট বা সমস্যা নেই, যার সমাধান দেয়া হয়নি। মানুষের ইহ ও পরকালীন যাবতীয় কল্যাণের পথ দেখায় কুরআন। তেমনি সব ধরনের অকল্যাণ থেকে সতর্ক আল্লাহর বাণী।

আল্লাহর একজন বান্দা হিসেবে আপনি ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে ধরনের মানুষই হন না কেন, আপনার স্রষ্টা আল্লাহর বাণী হিসেবে কুরআন আপনাকে পথ দেখাবে। আপনার হাত ধরে বিপদ উতরে দেবে। কুরআনের কার্যকারিতা ও উপকারিতার দিক এত বিস্তৃত ও বহুমুখী তা কোনো প্রবন্ধে লিখে শেষ করার মতো নয়। কুরআন আল্লাহর রশি। এই রশি আপনার হাতে থাকলে কখনো পথ হারানোর শঙ্কা নেই। কুরআনের যত কাছে থাকবেন, আপনি আল্লাহর রহমত আর কৃপারও তত কাছে থাকবেন আপনি।

এক আল্লাহতে বিশ্বাসী ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সৌভাগ্যবান উম্মত হিসেবে কুরআন আপনার কাছে বেশ কিছু দাবি রাখে। যেমন : ১.  কুরআন শুদ্ধভাবে পড়তে শেখা; ২. নিয়মিত ভক্তিসহ তেলাওয়াত করা; ৩. এর অর্থ ও মর্ম অনুধাবনের চেষ্টা করা; ৪. এর প্রতিটি বিধান মেনে চলা; ৫. একে জীবনবিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা; ৬. মনোযোগসহ এর তেলাওয়াত শ্রবণ করা।

আমরা সবাই সাধারণত কুরআন পড়তে চেষ্টা করি, কেউ কেউ অর্থ পড়ি, অল্প কিছু লোক পুরোটা মেনে চলার প্রত্যয় গ্রহণ করি। কিন্তু অন্যের তেলাওয়াত শ্রবণ একটা অবহেলিত আমল যা আমরা খেয়ালই করি না। উপরন্তু কোথাও তেলাওয়াত হলে তাতে ভ্রূক্ষেপ করি না। তাই মহান আল্লাহ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপরের আয়াতে মনোযোগসহ কুরআন শোনার আদেশ দিয়েছেন।

কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণে মনোদৈহিক উপকারিতা রয়েছে। গভীর অভিনিবেশসহ কুরআন তেলাওয়াত শুনলে অন্তরের মরীচিকা দূর হয়। ভেতরের অস্থিরতা ঘুচে গিয়ে অনির্বচীয় প্রশান্তিভাব ফিরে আসে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির তথা কুরআন দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সূরা রাদ, আয়াত : ২৮)

দ্বিতীয়ত. কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শ্রবণযন্ত্র উপকৃত হয়। শ্রবণে আল্লাহ বরকত দেন। এটা অভিজ্ঞতালব্ধ সত্য। তাইতো আমরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখি তিনি নিজেও অন্যের তেলাওয়াত শ্রবণ করেছেন। একদিন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নবীজি বললেন, ‘আমাকে কুরআন তেলাওয়াত করে শোনাও। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে আমি পড়ে শোনাব, অথচ আপনার ওপরই তো তা নাজিল হয়েছে! তিনি বললেন, অন্য কারো কাছ থেকে শুনতে আমার ভালো লাগে। তখন আমি সূরা নিসা পাঠ করলাম। যখন আমি (এই আয়াতে এলাম)- ‘যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে ওদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য উপস্থিত করব তখন অবস্থাটা কেমন দাঁড়াবে?’- আমি মাথা তুললাম কিংবা আমার পাশের এক ব্যক্তি আমাকে হাত দিয়ে চাপ দিলে আমি আমার মাখা তুললাম। দেখলাম, নবীজির চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। (সহিহ মুসলিম : ১৭৪০)।

পবিত্র বাণীতেও দয়াল নবী উম্মতকে কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি মনোযোগ দিয়ে কুরআন তেলাওয়াত শুনবে, তাকে কয়েক গুণ বেশি সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে কুরআন তেলাওয়াত করবে, তা তার জন্য কেয়ামতের দিন আলো হয়ে উদ্ভাসিত হবে।’ (মুসনাদ আহমদ : ৮৪৯৪)

প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে সবার হাতে হাতে শোভা পায় স্মার্টফোন। সাধারণ মোবাইলেও আছে মেমোরি কার্ড ভরার ব্যবস্থা। আপনি অবসরে, চলতে-ফিরতে গান না শুনে চাইলে কুরআনও শুনতে পারেন এসব থেকে।

এআইচটি/

 
.



আলোচিত সংবাদ