ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ইসলামের চার নির্দেশনা

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ইসলামের চার নির্দেশনা

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৯

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ইসলামের চার নির্দেশনা

মা, আমার রুমে ঢোকার আগে কেন তুমি অনুমতি নাও না? অনেক কিশোর-কিশোরীদের কাছ থেকেই তাদের পিতা-মাতার প্রতি সাধারণ এই অভিযোগ শোনা যায়। তারা প্রায়ই বিরক্ত থাকে, তাদের পিতা-মাতা ও ভাই-বোনদের কাছে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কোন সম্মান রাখা হয় না কেনো? 

এর বিপরীত দিকটিও সত্য। সন্তানরাও অনেকসময় বুঝতে পারে না, তাদের পিতা-মাতারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয় আছে। ফলে তারা চিন্তা-ভাবনা না করেই যখন-তখন বিনা অনুমতিতে তাদের পিতা-মাতার ঘরে প্রবেশ করে।  

এই আচরণ আমাদের অনেকের কাছেই স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত এবং এ ধরণের আচরণ বন্ধ করা উচিত। 

আল্লাহর দৃষ্টিতে এটি কতটুকু স্বাভাবিক, তা কুরআন ও হাদীস থেকে ৪টি নিরদেশনা উল্লেখ করে আলোচনা করা হল

এক. শিশুরা তাদের বয়সে বড়দের রুমে দিনের বেলা প্রবেশ করতে তিনবার অনুমতি নিবে। কুরআনে বলা হয়েছে,

“হে মুমিনগণ! তোমাদের দাসদাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা বস্ত্র খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের দেহ খোলার সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্যে কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৮)

দুই. আমাদের কারো ঘরেই অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা উচিত হবে না, যত দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হোকনা কেন। কুরআনে বলা হয়েছে,

“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৭)

তিন. যদি কোন ব্যক্তির ঘরে প্রবেশের জন্য তিনবার অনুমতি চাওয়ার পরেও কোন সাড়া পাওয়া না যায়, তবে আমাদের উচিত সেখান থেকে ফিরে আসা।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার আবু মুসা আশআরী (রা.) হযরত উমর (রা.) এর ঘরে প্রবেশের জন্য বাইরে থেকে তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করেন। কিন্তু উমর (রা.) অনুমতি না দেওয়ায় বা কোন সাড়া না দেওয়ায় তিনি চলে যান। পরে হযরত উমর (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি চলে গিয়েছিলেন।

আবু মুসা আশআরী (রা.) বলেন, “আমি আপনার কাছে তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করেছিলাম, যা রাসূল (সা.) আমাদের উপর নির্ধারিত করেছেন। এরপর যদি আমরা অনুমতি পাই তো প্রবেশ করবো অন্যথায় ফিরে যাবো।”

হযরত উমর (রা.) বলেন, “তুমি কি আমাকে এই সম্পর্কে কোন প্রমাণ দেখাতে পারবে?”

হযরত আবু মুসা আশআরী (রা.) তখন কিছু লোক নিয়ে আসেন এবং তাদেরকে আল্লাহর নামে এই বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে বলেন। তারা এই বিষয় সম্পর্কে সত্যতার সাক্ষ্য দেয়। (ইবনে মাজাহ)

চার. আমাদের কখনোই উচিত হবে না, আমাদের পরিবারের সদস্য, সন্তান বা অন্যান্যদের বিষয়ে মন্দ ধারণা করা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করা। কুরআনে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, 

“মুমিনগণ, তোমরা অহেতুক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয় অহেতুক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পেছনে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়া পছন্দ করবে? বস্তুত, তোমরা তো একে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।” (সূরা আল-হুজরাত, আয়াত: ১২)

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, “সন্দেহ থেকে মুক্ত হও। সন্দেহের মধ্যে গুরুতর মিথ্যা লুকিয়ে আছে। একে অন্যের বিরুদ্ধে অহেতুক উৎসুক হয়ো না এবং একে অপরের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করো না।” (মুসলিম)

অনেক সময় কেউ আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে অসম্মান করলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাই। এটি আমাদের জন্য কখনোই উত্তম নয়। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী আমাদের বরং উচিত, অন্যের মাঝে সহনশীলতার সাথে এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা।

এমএফ/

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও