সুখ, প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি যে পথে

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

সুখ, প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি যে পথে

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৩:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০১৯

সুখ, প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি যে পথে

এই মহাবিশ্বের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা কতগুলো নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছেন- যেগুলোকে আমরা সুন্নাতুল্লাহ বলি। ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, মহাবিশ্বের সমগ্র বস্তুজগতকে এসব নিয়ম মেনে চলতেই হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

ثم استوى إلى السماء وهي دخان فقال لها وللأرض ائتيا طوعا او كرها، قالتا أتينا طائعين.

অর্থ : “অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন, যা ছিল ধুম্র বিশেষ। এরপর তিনি ধুম্রকে এবং যমীনকে বললেন- তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা আসলাম অনুগত হয়ে।”–সূরা হামীম সিজদাহ, আয়াত:১১

এছাড়া প্রাণীজগতের অধিকাংশেরও আল্লাহর বেঁধে দেওয়া নিয়মের বাইরে বেছে নেবার তেমন কোন ক্ষেত্র নেই। অথচ, সবচেয়ে স্বতঃসিদ্ধ যে ব্যপারটা, সেটাই তিনি আপাত দৃষ্টিতে বেঁধে দেন নি; কেবল তাঁর ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলেই জীবনে শান্তি, সমন্বয়, প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি লাভ করতে পারবে মানুষ। তাকে দেখে বোঝা যাবে যে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমের সূরা ত্বীনে তাঁর কথাই বলেছেন। ইরশাদ হচ্ছে–

لقد خلقنا الانسان في أحسن تقويم

অর্থ : “আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি উত্তম আকৃতিতে।” –সূরা ত্বীন, আয়াত:৫

তথাপি ব্যপারটা তিনি বেঁধে না দিয়ে মানুষকে বেছে নেবার স্বাধীনতা দিয়েছেন। অন্যথায় নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে না পারলে অতৃপ্তির গোলক ধাঁধায় জীবনকে আকণ্ঠ পান করার অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে নিজেকে ক্ষয় করতে করতে মানুষ এক সময় নিঃশেষ হয়ে যাবে, সুধা ভেবে গরল গলধঃকরণ করতে করতে নিজেই এক সময় বিষাক্ত নীল হয়ে যাবে। সে যেদিকে তাকাবে, চাইনিজ উপকথার ড্রাগনের মত তার নিঃশ্বাসের উত্তাপে, বিষবাষ্পে সব জ্বলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবে। একটু ভেবে দেখলেই যে কেউ তা বুঝতে পারবেন যে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সূরা ত্বীনের ষষ্ঠ আয়াতে এধরণের মানুষের কথাই বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন–

ثم رددناه أسفل سافلين

অর্থ : “অতঃপর আমি তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছি নিচতমদেরও নিচে।”–সূরা ত্বীন, আয়াত:৬

একটি উদাহরণ দেই, যেহেতু গণিত ও পদার্থ বিদ্যার নিয়মাবলীসহ যাবতীয় কার্যকারণের সমূহ ব্যপার সুন্নাতুল্লাহ-এর আওতায় পড়ে, তাই বলছি– সুন্নাতুল্লাহের অংশ বিশেষ, পদার্থ বিদ্যার একটি বিষয় হচ্ছে চুম্বক এবং চুম্বক ক্ষেত্র। এই চুম্বক ক্ষেত্রের নিয়মাবলী ঘেঁটে দেখলে আমরা যেমন দেখি যে, একটি চুম্বক শলাকা যতক্ষণ চুম্বক রেখা বা চৌম্বক ক্ষেত্রের ঐ অক্ষ বরাবর নিজেকে সংযুক্ত বা স্থাপন করতে না পারে, ততক্ষণ সে স্থিতি ও সাম্য অবস্থায় পৌঁছায় না। বরং তার অস্থায়ী বিভিন্ন অবস্থান বা অক্ষে সে অস্থিতিশীলভাবে কাঁপতে থাকে।

ঠিক তেমনি মানুষ যতক্ষণ আল্লাহর অক্ষ বরাবর বা আল্লাহর আদেশ নিষেধ, নিয়ম নীতির অক্ষ বরাবর নিজেকে স্থাপন না করবে, ততক্ষণ তার জীবনে সাম্য বা স্থিতিশীলতা আসতে পারে না। সে অতৃপ্ত বাসনার অস্থির চিত্ত এক অভিশপ্ত আত্মার প্রতিনিধিত্ব করতে থাকবে।

আমাদের হৃদয়গুলো হোক উন্মুক্ত। নিশ্চয় মোহরাবদ্ধ হৃদয় সত্যগ্রহণে অক্ষম হয়ে থাকে। উন্মুক্ত হৃদয়ে আমরা যেন জীবন ও সৃষ্টিজগতে স্রষ্টার নিয়ম ও এর বাস্তবতা অনুধাবন করি। নিশ্চয় আল্লাহর বিধান বরাবর নিজের জীবনকে নিঃশর্ত সঁপে দেওয়ার মাঝেই আছে জীবনের সুখ, প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি। আর নিঃসন্দেহে পরকালীন অনন্ত স্বাদ-আহ্লাদের জীবন এমন সমর্পিত প্রশান্ত আত্মার জন্যই প্রস্তুত আছে।

এমএফ/

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও