পাহাড়সম গুনাহ থেকেও চার উপায়ে পরিত্রাণ লাভ করুন

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

পাহাড়সম গুনাহ থেকেও চার উপায়ে পরিত্রাণ লাভ করুন

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৭:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০১৯

পাহাড়সম গুনাহ থেকেও চার উপায়ে পরিত্রাণ লাভ করুন

জান্নাত পবিত্র এক স্থান। জান্নাত মুমিনের উন্নত জীবনের উদ্যান। কলুষতা ও অপবিত্রতার কোন স্থান জান্নাতে নেই। সুতরাং, একমাত্র সৎ ও পবিত্র হৃদয়ের মানুষেরাই জান্নাতে প্রবেশের অধিকার লাভ করবেন।

আমরা আদম সন্তান। আমরা ভুল করি, ভুলে যাই, বিস্মরিত হই। অন্যায় করে ফেলি, অন্যায় হয়ে যায়। জীবনে চলতে গিয়ে আমরা প্রায় সবাই কোন না কোনভাবে গুনাহে জড়িয়ে পড়ি। একেবারে গুনাহমুক্ত সাধারণত কেউই আমরা থাকতে পারি না। কিন্তু এই গুনাহ নিয়ে কোন বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। 

কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আমাদেরকে হতাশ হতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কুরআনে তাঁর রাসুল (সা.) কে সম্বোধন করে বলছেন,

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

“বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা যুমার-৫৩)

তাই এই গুনাহ থেকে ক্ষমা লাভের জন্য চারটি উপায় আমরা অবলম্বন করতে পারি।

১. তাওবাতুন নাসুহায় ডুবে থাকুন
তাওবার মাধ্যমে আমরা মূলত আমাদের করে ফেলা কোন গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে অনুশোচনা প্রকাশ করি এবং দ্বিতীয়বার ওই গুনাহটি আর কখনো না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। তাওবার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করি, আমাদের করে ফেলা গুনাহে আমরা আর দ্বিতীয়বার জড়িত হবো না এবং এই অঙ্গীকার পূরণের জন্য আমরা তাঁর কাছে সাহায্য চাই। এভাবে তাওবার মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্র করে নিতে পারি। আল্লাহ তাআলা বলেন–

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا عَسَىٰ رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ

অর্থ : মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নহর সমূহ প্রবাহিত...।–সূরা আত-তাহরীম, আয়াত:৮

২. ইস্তিগফার করুন বেশী বেশী
ইস্তিগফার তথা গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা আমাদের গুনাহকে মোচন করতে পারি। ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের গুনাহের ক্ষমা প্রাপ্তির পর আমরা নিজেদেরকে জান্নাতের জন্য উপযুক্ত করতে পারি। আল্লাহ তাআলা বলেন–

وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا

অর্থ : যে গুনাহ করে অথবা নিজের অনিষ্ট করে, এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।–সূরা নিসা, আয়াত:১১০

৩. অসুস্থতায় ধৈর্যধারণ করুন
আল্লাহর রাসূলের হাদীস থেকে বর্ণিত আছে, কেউ যদি তার অসুস্থতার সময় ধৈর্যধারণ করে, তবে তার এই অসুস্থতা তার গুনাহকে মুছে দেয়। অতএব, এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের জান্নাতের জন্য প্রস্তুত করতে পারি। হযরত সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন–

عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ

অর্থ: মুমিন বান্দার বিষয়গুলো কী আশ্চর্যের! তার সবকিছুই কল্যাণ। এটা আর কারো জন্য নয় কেবল মুমিন ছাড়া। যদি তার সুদিন আসে এবং সে শুকরিয়া আদায় করে, এতে রয়েছে তার জন্য কল্যাণ। আবার যদি তার দুর্দিন আসে এবং সে ধৈর্য ধারণ করে, এতেও রয়েছে তার জন্য কল্যাণ।–মুসলিম, হাদীস নং:৫৩২২

৪. বিপদ-বিপর্যয়ও কল্যাণ বয়ে আনে
মানুষের উপর পরীক্ষাস্বরূপ আসা বিপদ-বিপর্যয়ে মানুষের কৃত গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ফলে সেই ব্যক্তি জান্নাতের জন্য সম্পূর্ণভাবে পবিত্র হয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন–

مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمٍّ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًى وَلَا غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ

অর্থ : মুমিন বান্দাকে যে কোন কষ্ট, বিপদ, দুঃখ, দুশ্চিন্তা, আঘাত, বা উদ্বেগই স্পরশ করুক না কেন, এমনকি তার শরীরে কাঁটা ফুটলেও আল্লাহ এর কাফফারা স্বরুপ গুনাহ মাফ করে দেন।

আল্লাহ আমাদের যাবতীয় গুনাহগুলোকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে পবিত্র করার মাধ্যমে জান্নাতের উপযুক্ত করে নিন। আমীন।

এমএফ/ 

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও