সফলতা ব্যর্থতায় চেষ্টা, ভাগ্য ও আমরা

ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

সফলতা ব্যর্থতায় চেষ্টা, ভাগ্য ও আমরা

নাবিলা আফরোজ জান্নাত ৪:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০১৯

সফলতা ব্যর্থতায় চেষ্টা, ভাগ্য ও আমরা

আমাদের চারপাশে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে যে, প্রচুর পরিশ্রম করেও কেউ কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পাচ্ছে না। অথচ সমপরিমাণ বা কম পরিশ্রমেও কেউ কেউ সেটা পেয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষা বা ভর্তি পরীক্ষায় অথবা চাকরীর পরীক্ষায় এমন ঘটনা অহরহ।

জীবনে যারা কষ্ট করে সফল হয়, তাদের অনেকেই এই সফলতাকে শুধু নিজেদের অর্জন বলে। বলে, আমি কষ্ট করেছি তাই পেয়েছি। আমার কষ্টের ফলাফল।

একই পরিশ্রমের উলটো ফলাফলের ঘটনাকে এই মানুষগুলোই ব্যাখ্যা করে, ‘ভাগ্য’ বলে। কিন্তু কষ্ট তো দুই দলই করেছে।

একজনকে চিনতাম, তার জীবনে পছন্দের কিছু ঘটলে সে অনেক খুশী হয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলতো। ব্যাপারটা স্বাভাবিক। তাহলে আলাদা করে কেন বলছি?  

কারণ এর বাইরে আর কখনো তার মুখে এ ধরণের কিছু শোনা যেতো না। অপছন্দের কিছু ঘটলে খুব বকা ঝকা শোনা যেতো মাঝে মাঝে। 

কুরআনের একটা বড় অংশ জুড়ে মূসা আলাইহিস সালাম ও বনী ইসরাইলদের ঘটনা আছে। মূসা আলাইহিস সালামের সময়কালে মিশরের যে প্রধান ছিলো, তাকে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে ফিরাউন বলে। এই ফিরাউনের অনুসারীদের আল্লাহ তাআলা পরীক্ষা করেছিলেন দুর্ভিক্ষ দিয়ে। তাদের জমিতে ফসলাদি হচ্ছিলো না। আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন যে, তারা হয়তো শিখবে এখান থেকে। কিন্তু ওরা শেখেনি।

উলটো যখন তাদের জমি সবুজ থাকতো, ফসল হতো, তখন তারা বলতো, আমরা তো এরই অধিকারী ছিলাম। এটা তো আমাদেরই প্রাপ্য। আমাদেরকে এটা দেয়া না হলে আমাদের প্রতি অবিচার করা হতো।

আবার যখন দুর্ভিক্ষে পড়তো, তখন বলতো, মূসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গীদের জন্যই এমন হয়েছে। ওদের দুর্ভাগ্যের কারণেই আজ আমাদের এ অবস্থা।

অথচ উচিত ছিলো নিজেদের খারাপ কাজ, কুফরী, মিথ্যার পরিণতি বুঝতে পারা, তওবা করে নেওয়া। কারণ পরিশ্রমের পরও তাদের সফলতা আসেনি।

আরও উচিত ছিলো ভালো কিছু হলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় আদায় করা। কারণ ভালো ও খারাপ আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়।

সূরা আ’রাফের ১৩০ ও ১৩১ আয়াতের ব্যাখ্যায় এই কথাগুলো আছে। সূরা আ’রাফে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَقَدْ أَخَذْنَا آلَ فِرْعَوْنَ بِالسِّنِينَ وَنَقْصٍ مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ . فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوا لَنَا هَٰذِهِ ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُ ۗ أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِندَ اللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

অর্থ: তারপর আমি পাকড়াও করেছি ফেরাউনের অনুসারীদেরকে দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে এবং ফল ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির মাধ্যমে যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। অতঃপর যখন শুভদিন ফিরে আসে, তখন তারা বলতে আরম্ভ করে যে, এটাই আমাদের জন্য উপযোগী। আর যদি অকল্যাণ এসে উপস্থিত হয় তবে তাতে মূসার এবং তাঁর সঙ্গীদের অলক্ষণ বলে দোষারোপ করে। শুনে রাখ তাদের অলক্ষণ যে, আল্লাহরই এলেমে রয়েছে, অথচ এরা জানে না।–সূরা আ’রাফ, আয়াত: ১৩০-১৩১

নিজেদের জীবনের সাথে কি এই কথাগুলো মেলানো যাচ্ছে?  আমরা কি ঠিক একই কাজ করি না? কপাল খারাপ বলি সহস্রবার। অথচ নিজের ভুলগুলো খুঁজে দেখি না। 

জীবনে ভালো যা কিছু হয়, তা আসলেই ভালো, যদি তা আমাদের কৃতজ্ঞ করে, আল্লাহর আরো কাছে নিয়ে যায়। তা না করে যদি একে সফলতা ভাবতে শুরু করি, আমি একাই একশো, বা অহংকারী হয়ে যাই, সবকিছু নিজেদের অর্জন বলে ভাবি, তাহলে  আমরা কি আসলে ফিরাউনের অনুসারীদের সাথে সাদৃশ্য তৈরী করলাম না? সফলতা তো আসলে তখন আমার শাস্তি হয়ে দাঁড়ালো।

সমস্ত পরিশ্রমের পর যদি ভালো কিছু না হয়, আশা হারানো যাবে না। দোয়া কবুল হয়নি বলে যদি মনে হয়, মনকে বদলাতে হবে। সবকিছুরই একটা কারণ আছে, ব্যাখ্যা আছে। আমি আপনি হয়তো সারাজীবনেও সেই ব্যাখ্যা জানবো না, সেই ব্যাখ্যা আল্লাহর কাছেই রয়ে যাবে, কিন্তু ব্যাখ্যাবিহীন কিছু হয় না।

এমএফ/

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও