অহংকারমুক্ত হতে নিন ছয় প্রতিষেধক

ঢাকা, ১৬ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

অহংকারমুক্ত হতে নিন ছয় প্রতিষেধক

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৯

অহংকারমুক্ত হতে নিন ছয় প্রতিষেধক

অহংকার একটি নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য। সৃষ্টি জগতের ইতিহাসে আল্লাহর সামনে প্রথম অহংকার প্রদর্শন করেছিল ইবলিশ। আল্লাহ তাআলা যখন অন্য সকল ফেরেশতার সাথে ইবলিশকে আদেশ করলেন যে, আদম (আ.) কে সেজদা করো, তখন সে তার শ্রেষ্ঠত্বের মিথ্যা ও তুচ্ছ অহংকারে আদম (আ.) কে সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল। ফলে আল্লাহ চিরদিনের জন্য ইবলিশকে অভিশপ্ত ও বিতাড়িত করেন।

আমরাও কখনো কখনো আল্লাহর দেওয়া নিজের যোগ্যতা ও প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে অহংকার করে ফেলি। আল্লাহর তুচ্ছ সৃষ্টি হিসেবে যা কখনোই আমাদের জন্য উপযুক্ত হতে পারে না।

অহংকার একটি আত্মার ব্যাধি। এথেকে মুক্ত হতে হবে কিছু আত্মোপলব্ধির জাগ্রত করার মাধ্যমে। নিম্নে কুরআন ও হাদীস থেকে অহংকারের ছয়টি প্রতিষেধক সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

১. অহংকারের ক্ষতি কি, ভেবে দেখেছেন?

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,

لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ

“জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যার অন্তরে অনু পরিমাণ অহংকার রয়েছে।” (মুসলিম, হাদীস: ১৯৯৯; আবু দাউদ, হাদীস: ৪৯১)

অহংকারের এই চূড়ান্ত ক্ষতি আমাদের সর্বদা মনে রাখা উচিত।

২. নিজের সৃষ্টিত্তত্ব ও জীবন সম্পর্কে জানুন

সবসময়ই নিজের সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে সচেতন থাকা আমাদের কর্তব্য। নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে এই সচেতনতা আমাদেরকে অযাচিত অহংকার থেকে মুক্ত করবে। কুরআনে বলা হয়েছে,

أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَن يُتْرَكَ سُدًى . أَلَمْ يَكُ نُطْفَةً مِّن مَّنِيٍّ يُمْنَى . ثُمَّ كَانَ عَلَقَةً فَخَلَقَ فَسَوَّى

“মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে? সে কি স্খলিত বীর্য ছিল না? অতঃপর সে ছিল রক্তপিন্ড, অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন।” (সূরা কিয়ামাহ, আয়াত: ৩৬-৩৮)

নিজের জন্মের এই ক্ষুদ্রতা মানুষকে সকল প্রকার অহংকারের ঊর্ধ্বে উঠে বিনয়ী হতে সাহায্য করবে।

৩. আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব গভীরভাবে অনুধাবন করুন

একমাত্র আল্লাহ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী কেবল তিনিই। এছাড়া প্রতিটি স্রিস্তিকেই তিনি কারো না কারো প্রতি মুখাপেক্ষী করেই সৃষ্টি করেছেন। অতএব, অহংকারের একমাত্র অধিকারী হতে পারেন আল্লাহ। কুরআনে বলা হয়েছে,

وَلَهُ الْكِبْرِيَاء فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

“নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে তাঁরই গৌরব। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা যাসিয়া, আয়াত: ৩৭)

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে কুদসীতে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন,

قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي ، فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا، قَذَفْتُهُ فِي النَّارِ

“আল্লাহ বলেন, অহংকার আমার চাদর এবং বড়ত্ব আমার পোশাক। যে আমার চাদর ও পোশাক নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করে (অহংকার ও বড়ত্ব প্রকাশ করে), আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।” (আবু দাউদ, হাদীস: ৪০৯০; মুসলিম, হাদীস: ২৬২০)

সুতরাং, আল্লাহর বড়ত্বকে পুরোপুরি অনুধাবন করে আমাদের উচিত অহংকার থেকে দূরে থাকা।

৪. নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করুন

প্রত্যেক মানুষেরই বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে যদি সচেতন হওয়া যায়, তবে কোন ব্যক্তিই অহংকার করতে পারে না। কুরআনে বলা হয়েছে,

هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى

“তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী।” (সূরা নাজম, আয়াত:৩২)

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মানুষের সৃষ্টির উৎস এবং দুর্বলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলে দিচ্ছেন, তোমরা আত্মপ্রশংসা ও আত্মস্তুতিতে লিপ্ত হইয়ো না।

৫. সালামের বহুল প্রচলন ঘটান

অহংকার থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করার জন্য আমরা বেশি বেশি সালামের প্রচলন করতে পারি। হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম দেবে, সে অহংকার থেকে মুক্ত।” (বায়হাকী)

৬. বিনয়ের মর্ম বুঝুন

অহংকার বর্জন করে আমাদের উচিত বিনয় অর্জনের জন্য চেষ্টা করা। কেননা বিনয়েই রয়েছে সম্মান। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন,

ما نقصت صدقة من مال، وما زاد الله عبداً بعفو إلا عزاً، وما تواضع أحد لله إلا رفعه الله

“সদকা সম্পদে কমতি ঘটায় না। আর ক্ষমা করলে আল্লাহ বান্দার সম্মান বাড়িয়ে দেন এবং আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করলে আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।” (মুসলিম, হাদীস: ২৫৮৮)

এমএফ/

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও