দুটি চিন্তা ইবাদতে অলসতার প্রতিষেধক

ঢাকা, ১৬ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

দুটি চিন্তা ইবাদতে অলসতার প্রতিষেধক

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৯

দুটি চিন্তা ইবাদতে অলসতার প্রতিষেধক

আমরা মানুষ। আলসতা বা উদ্যমতা দুটোই আমাদের মানুষ্য বৈশিষ্ট্যের মাঝে বিদ্যমান। প্রাত্যহিক ইবাদতেও কখনো আমরা অলসতাবোধ করি। কখনোবা দুনিয়াবী বিভিন্ন ব্যস্ততায় আল্লাহর ইবাদতকে কম গুরুত্ব দেই। পরে আদায় করবো ভেবে অনেক সময় তা আদায় করতেও ভুলে যাই।

দুনিয়ার অনেক অনেক কাজের ভীড়ে আমাদের আল্লাহর ইবাদত করতে গিয়ে দুটি বিষয় সবসময় মনে রাখা প্রয়োজন। 

১. আল্লাহর নেয়ামত গণনা করুন, প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ!

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَآتَاكُم مِّن كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوهُ وَإِن تَعُدُّواْ نِعْمَتَ اللّهِ لاَ تُحْصُوهَا إِنَّ الإِنسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ

“যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ।” (সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৩৪)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,

وَإِن تَعُدُّواْ نِعْمَةَ اللّهِ لاَ تُحْصُوهَا إِنَّ اللّهَ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ

“যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (সূরা নাহল, আয়াত: ১৮)

এখানে একটি আয়াত শেষ হয়েছে মানুষের অকৃতজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে এবং আর অপর আয়াতের শেষে আল্লাহর ক্ষমার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

দুইটি আয়াত নিয়ে যদি একত্রে ভাবা হয়, তবে বলা যেতে পারে আমাদের উপর আল্লাহর প্রদত্ত নেয়ামতের যথার্থ শোকর বা কৃতজ্ঞতা আমরা আদায় করতে পারি না। কিন্তু তারপরও আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিচ্ছেন।

আমাদের জীবন ধারণের জন্য আল্লাহ আমাদের কতকিছুই না প্রদান করেছেন। আমাদের চাওয়ার আগেই তিনি আমাদের প্রয়োজন পূরণের এই ব্যবস্থা করেছেন। 

এ সকল নেয়ামতের একটির অনুপস্থিতিও আমরা কল্পনা করতে পারি না। আল্লাহ তাআলা বলেন,

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَاؤُكُمْ غَوْرًا فَمَن يَأْتِيكُم بِمَاء مَّعِينٍ

“বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?” (সূরা মুলক, আয়াত: ৩০)

যখন আল্লাহর দেওয়া এসকল নেয়ামতের একটি নেয়ামতও আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে যায়, আমরা তখন কতইনা ভেঙ্গে পড়ি। সেই নেয়ামত ফিরে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ ও কান্নাকাটি করি।

আল্লাহর এই অজস্র নেয়ামতের কথা যদি আমরা চিন্তা করি, তবে আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের ঋণের কথা ভেবে শেষ করতে পারবো না। আমরা কখনোই এই ঋণের জন্য তার শোকর বা কৃতজ্ঞতা আদায় করে শেষ করতে পারবো না। 

এই চিন্তা যদি আমাদের কারো মধ্যে থাকে, সে কখনোই আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে দেওয়া পরের কথা, তাতে বিলম্ব করার কথাও চিন্তা করতে পারবে না।

কখনো যদি আল্লাহর ইবাদতে অলসতাবোধ করেন, তবে আল্লাহর এই অজস্র নেয়ামত গণনা করুন।

২. আপনার গুনাহকে স্মরণ করুন, সীমাহীন পাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে চলছেন!

মানুষ শুধু অকৃতজ্ঞই নয়, তার জীবনের চলার পথে সে অনেক ভুল ও গুনাহের কাজ করে ফেলে। কিন্তু তারপরও আল্লাহ মানুষকে ক্রমাগতভাবে ক্ষমা করে যান। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللّهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِم مَّا تَرَكَ عَلَيْهَا مِن دَآبَّةٍ وَلَكِن يُؤَخِّرُهُمْ إلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَإِذَا جَاء أَجَلُهُمْ لاَ يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلاَ يَسْتَقْدِمُونَ

“যদি আল্লাহ লোকদেরকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন।” (সূরা নাহল, আয়াত: ৬১)

আপনার সকল গুনাহকে যদি আপনি গণনা করেন এবং এর বিপরীতে আল্লাহর ক্ষমাকে মূল্যায়ন করেন, তবে আপনার উপর থাকা ঋণ আপনাকে চেপে ধরবে। আপনার গুনাহের জন্য আল্লাহ আপনাকে শাস্তি দিতে পারতেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি আপনাকে ক্ষমা করে যাচ্ছেন।

আমাদের অগণিত গুনাহের বিপরীতে যখন আমরা আল্লাহর অপরিসীম ক্ষমার কথা চিন্তা করবো, আমরা কোন প্রকার দ্বিধা ছাড়াই স্বেচ্ছায় আমাদের মাথা আল্লাহর সামনে লুটিয়ে দেব।

কোন ব্যক্তি যদি সর্বদা আল্লাহর নেয়ামতের পরিমাণ এবং নিজেদের জানা-অজানা গুনাহকে গণনা করে, ইবাদতে কখনোই তার অলসতা আসতে পারে না। দুনিয়ার ব্যস্ততাকে সে বরং স্থগিত করবে কিন্তু কখনোই আল্লাহর ইবাদতকে স্থগিত করে রাখবে না।

রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে ইবাদতগুলো তাঁর পছন্দ অনুযায়ী যথাযথ সময়ে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

এমএফ/

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও