সময় ব্যবস্থাপনায় কুরআনের পাঁচ শিক্ষা

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

সময় ব্যবস্থাপনায় কুরআনের পাঁচ শিক্ষা

পরিবর্তন ডেস্ক ২:০১ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৯

সময় ব্যবস্থাপনায় কুরআনের পাঁচ শিক্ষা

রুটিন বা সময় ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাফল্য প্রত্যাশী প্রতিটি মানুষের এ সম্বন্ধে ধারণা রাখা, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু কেন আমাদের সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা উচিত, জানেন কি?

সাধারণ প্রশিক্ষকগণ এ বিষয়ে বলে থাকেন, সময় ব্যবস্থাপনা শিক্ষার মাধ্যমে আপনি আপনার মানসিক চাপ কমাতে এবং অলসতা দূর করতে পারবেন। এছাড়াও আপনার হাতের সম্ভাবনাময় সুযোগগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে, পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জন করতে পারবেন এবং ব্যস্ততার মধ্যেও জীবনকে উপভোগ করার সময় বের করতে পারবেন। 

একজন মুসলমানের জন্যও এসকল কারণ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কোনটিই প্রাথম স্তরে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

একজন মুসলমানের জন্য সময় ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক গুরুত্ব হচ্ছে পরকালীন সাফল্য। যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে ঈমানের অধিকারী, শুধু পেশা বা অর্থের জন্যই সে সময় ব্যবস্থাপনা করতে শিখবে না।

সময় ব্যবস্থাপনা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে যেন সে আরও বেশি করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য কাজ করতে পারে।

মুমিনের জন্য চূড়ান্ত লক্ষ্য হল জান্নাতের অধিকারী হওয়া। আর বাকি সকল কাজ বা লক্ষ্য হবে এই চূড়ান্ত লক্ষ্যের সাহায্যের জন্য।

পৃথিবীর জীবনকালটা আমরা কিভাবে অতিবাহিত করবো, কুরআন এই বিষয়ক শিক্ষায় পরিপূর্ণ। এ নিবন্ধে সূরা মুমিনুন থেকে সে বিষয়ে কিছু আলোচনা করা হল।

১. নামায সময় ব্যবস্থাপনার প্রথম ভিত্তি

সূরা মুমিনুনের শুরু হয় একজন প্রকৃত মুমিনের গুণাবলি বর্ণনার মধ্য দিয়ে। আশ্চর্যজনক হলো, এই গুণাবলীর  শুরু ও শেষ হয়েছে নামাযের মাধ্যমে। সূরার ২ নং আয়াতে বলা হয়েছে মুমিনরা নামাযে হবে আন্তরিক (খুশুর অধিকারী)। আবার ৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, তারা নামাযকে যথার্থভাবে হেফাজত তথা সঠিক সময়ে নামায আদায় করবে।

একজন সত্যিকার মুমিন প্রতিদিন সঠিক সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে। সে যেকোন পরিস্থিতিতেই থাকুক না কেন, যদি সে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বেডেও পড়ে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার জ্ঞান আছে তাকে ঠিক সময়ে নামায আদায় করতে হবে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার জীবনের জন্য স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।

এর মাধ্যমে দিনের মধ্যে পাঁচ বার আমরা আল্লাহকে স্মরণ করবো এবং নিজেদেরকে গুনাহ ও অন্যান্য মানসিক চাপ-হতাশা থেকে মুক্ত করতে পারবো।

২. লক্ষ্য নির্ধারণ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,

أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ

“তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?” (সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১১৫)

আমাদের কাজকে কিয়ামতের দিন ওজন করা হবে। এর মাধ্যমে জান্নাত অথবা জাহান্নামে আমাদের আখেরাতের গন্তব্য নির্ধারিত হবে।

সুতরাং এই আয়াতের আলোকে জীবনের এই গন্তব্যের কথা চিন্তা করে আমাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ ও সময়কে ব্যবস্থাপনা করা উচিত।

৩. গুরুত্ব বিবেচনা

পৃথিবীতে আমাদের বসবাসের সময় অনেক কম ও সীমিত। মহাকালের তুলনায় এটি একবিন্দু পরিমাণও নয়।

কুরআনে এমন অনেক ব্যক্তি বা জাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা আল্লাহর অবাধ্যতার জন্য পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। কিয়ামতের দিন যখন তাদেরকে পৃথিবীতে তাদের বসবাসের সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন করা হবে, তারা উত্তর দিবে,

قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَاسْأَلْ الْعَادِّينَ

“আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি।” (সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১১৩)

কেয়ামতের দিন বিচারের সময় সকল অবিশ্বাসীই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে তাদেরকে দ্বিতীয়বারের মত সুযোগ দেওয়া হোক, যাতে করে তারা যথার্থভাবে আল্লাহর ইবাদতে জীবনকে ব্যয় করতে পারে। কিন্তু কাউকেই কোন সুযোগ দেওয়া হবেনা।

সুতরাং মাত্র একবারের ক্ষণিক সময়ের এই জীবনে অলসতা দূর করে কঠিন সেই সময়ের জন্য প্রস্তুতি নেয়া উচিৎ।

৪. সময় অপচয় পরিহারের শিক্ষা

সূরা আসরের প্রকৃত অর্থ বলতে কি বুঝি আমরা? সময়কে নষ্ট করবে এমন সব কাজ হতে মুমিন সব সময় নিজেকে বিরত রাখে। তাদের সময়কে তারা কার্যকর ও কল্যাণকর ক্ষেত্রে ব্যয় করবে। 

এমন সকল কাজ থেকে তারা দূরে থাকবে, যা তাদেরকে তাদের লক্ষ্য থেকে দূরে নিয়ে যাবে। অন্যদিকে অবিশ্বাসীগণ তাদের সময়কে নষ্ট করবে এবং অন্যদের নিয়ে মশকরা করে কাটাবে।

কেয়ামতের দিন জাহান্নামে এসকল অবিশ্বাসীকে বলা হবে,

لَا تَجْأَرُوا الْيَوْمَ إِنَّكُم مِّنَّا لَا تُنصَرُونَ. قَدْ كَانَتْ آيَاتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَكُنتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ تَنكِصُونَ. مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ سَامِرًا تَهْجُرُونَ

“আজকে চিৎকার করো না। তোমরা আমার কাছ থেকে নিষ্কৃতি পাবে না। তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ  শোনানো হত, তখন তোমরা উল্টো পায়ে সরে পড়তে। অহংকার করে এ বিষয়ে অর্থহীন গল্প-গুজব করে যেতে।” (সূরা মুমিনুন, আয়াত: ৬৫-৬৭)

৫. ‘বারাকাহ’ এর ধারণা বুঝে নিন

সাধারণ চোখে বৃষ্টি বলতে কী বুঝি? সাধারণ হাউড্রোজেন ও অক্সিজেনের মিশ্রণ যার মাধ্যমে এই ধরার সকল  জীব জীবন ধারণ করছে। একারণে একে ‘মুবারক’ বা বরকতে পরিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার সময়ও ঠিক এমনই বরকতে পরিপূর্ণ। সুতরাং একে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী যথার্থভাবে ব্যবহার করুন। রাব্বুল আলামিন তাওফিক দান করুন। আমীন।

এমএফ/

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও