২০তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

২০তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

মুফতী জিয়াউর রহমান ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৯

২০তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

আজ ২০তম তারাবীহ। সূরা ইয়াসিনের ২২ থেকে সূরার শেষ ৮৩ নম্বর আয়াত, সঙ্গে সূরা সাফফাত, সূরা সোয়াদ এবং সূরা জুমার ১ থেকে ৩১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে। আজ পড়া হবে ২৩তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবীহতে পঠিতব্য অংশের আলোচনা সংক্ষিপ্তভাবে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো।

সূরা ইয়াসিনের অবশিষ্ট আলোচনা
১. বাইশতম পারার শেষের দিকে ওই তিনজন নবীর আলোচনা শুরু হয়েছিল, যারা এক বস্তিবাসীর হেদায়াতের জন্যে প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা সঠিক পথে আসার আগ্রহ দেখাল না। বরং এই তিনজন নবীকে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। এই সময় বস্তিতে বসবাসকারি ‘হাবীবে নাজ্জার’ নামী এক লোক ছিলেন। তিনি দৌড়ে এলেন এবং নবীগণের ক্ষতি করার অপরাধে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসন্ন আযাব সম্পর্কে তাদের সতর্ক করে দেন। এবং তাদেরকে নবীগণের আনুগত্য মেনে নেওয়ার উপদেশ প্রদান করেন। যখন তিনি কথাগুলো সবাইকে শুনালেন এবং সবার সামনে নিজের ঈমানের ঘোষণা করলেন। তখন সবাই মিলে তাঁকে শহীদ করে দিলো। শহীদ হওয়ার পর আল্লাহর হুকুমে তিনি জান্নাতবাসী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

যখন তিনি নিজ চক্ষে মুমিনদের জন্য জান্নাতের নিয়ামতরাজি অবলোকন করেন, তখনই অটোমেটিক মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে- “হায়! আমার সম্প্রদায় যদি কোনক্রমে জানতে পারত-

যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।” (২৭)

ইবনে আব্বাস রা, বলেন: এই মুমিন ব্যক্তি দুনিয়াতে থাকতেও তার সম্প্রদায়ের কল্যাণকামী ছিলো, মরনের পরও তার সম্প্রদায়ের জন্য কল্যাণকামী।

২. এরপর আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উপর আফসোস প্রকাশ করেন যে, যে রাসূলই আসেন, তারা তাঁকে নিয়ে হাসি-টাট্টা করে।

৩. আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, তাওহিদ এবং কুদরতের তিন প্রকারের দলিল উল্লেখ করেন-

এক. মৃত যমীনকে বৃষ্টির মাধ্যমে জীবিত করেন।
দুই. রাত-দিন, সূর্য-চন্দ্র
তিন. নৌকা এবং জাহাজ যা সমুদ্রে চলাচল করে। এসব আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, তাওহিদ ও কুদরতের দলিল।

৪. এই দলিলসমূহের অধিনে সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ তাআলা এমন এক বাস্তবতার ঘোষণা করলেন, যে সম্পর্কে কুরআন নাযিলের যুগের বড় বড় পণ্ডিতরা পর্যন্ত অজ্ঞ ছিলো। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- “পবিত্র তিনি, যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা জানে না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন।” (৩৬)

পূর্বেকার যুগের মানুষের ধারণা এবং জানাশোনা ছিলো জোড়া জোড়া কেবল মানুষ এবং প্রাণীদের মধ্যেই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। অথচ বর্তমান যুগের বিজ্ঞানিরা দীর্ঘ গবেষণার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে এবং প্রমাণিত হয়েছে যে, জোড়া জোড়া শুধু প্রাণীদের মধ্যে না, বরং উদ্ভিদ, জড় পদার্থ ও সমস্ত মাখলুকাতের মধ্যে রয়েছে। যা কুরআন দেড় হাজার বছর আগেই বলে দিয়ে গেছে।

৫. এরপর সূরা ইয়াসিনে কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়ার আলোচনা এসেছে। প্রথম যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, তখন মানুষ নিজেদের কাজকর্মে, ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকবে। ইস্রাফিলের ফুৎকার শুনে তারা ভীত হয়ে পড়বে, ঘাবড়ে যাবে। দ্বিতীয়বার ফুৎকারের পর চিরঞ্জিব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতিত সবাই মারা যাবে। একটা প্রাণীও বেঁচে থাকবে না। তৃতীয়বার ফুৎকার দেওয়ার পর সবাই কবর থেকে জীবিত উঠে পড়বে। প্রকৃত বিচারক আল্লাহ তাআলার দরবারে হাজির হয়ে যাবে। সেখানে কারো উপর যুলুম করা হবে না। মুমিন ও মুত্তাকিদের জান্নাতের নিয়ামত প্রদান করা হবে। অপরদিকে পাপিষ্ঠদের পৃথক করে দেয়া হবে। তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হবে। তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে থাকবে।

৬. সূরার শেষের দিকে আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের আলোচনার এক পর্যায়ে মহা কুদরতের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন- যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। তিনি যখন কোনো কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়। (৮১-৮২)

সূরা সাফফাত
৭. সূরা সাফফাত মক্কায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ১৮২ টি আয়াত ও ৫ টি রুকু রয়েছে। সূরা শুরু হয়েছে ওই ফেরেশতাদের আলোচনার মাধ্যমে যারা আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও তাসবিহ-তাহলিলে মাশগুল থাকেন সবসময়। এরপর জিনদের ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, যখন তারা চুপিসারে আকাশের কাছাকাছি গিয়ে উপস্থিত হয়। কিন্তু তাদেরকে ফেরেশতাদের কথাবার্তা শোনার সুযোগ দেয়া হয় না। কোনো শয়তান যৎসামান্য শুনে পালালো তাকে শিখায়িত উল্কাপিণ্ডের আঘাতে ধ্বংস করে দেয়া হয়। যাতে সে পৃথিবীতে পৌঁছে ভক্ত অতিন্দ্রিয়বাদী ও জ্যোতিষীদেরকে কিছু বলতে না পারে।

৮. মুশরিকরা পুনরুত্থানের অস্বীকার করে। তাদের এটা বুঝে আসে না যে, হাড্ডিগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার কেমনে জীবিত হতে পারে? আল্লাহ তাআলা বলেন, যে কাজ তাদের কাছে কঠিন এবং অসম্ভব মনে হয়, আল্লাহ তাআলার কাছে এসব মোটেও কঠিন না। যখন ইস্রাফিল আলাইহিস সালাম তৃতীয়বার শিঙ্গায় ফুৎকার দিবেন, তখন সব মানুষ কবর থেকে বের হয়ে আসবে।

৯. জাহান্নামীদের একে অপরকে দোষারোপের আলোচনার পর জান্নাতিদের পারস্পরিক কথোপকথনের আলোচনা হয়েছে। তারা সীমাহীন এবং কল্পনাতীত নিয়ামত পাওয়ার পর অতীতের কথা স্মরণ করবে। এরপর নবীগণের কাহিনি আলোচিত হয়েছে। প্রথমে শায়খুল আম্বিয়া হযরত নূহ (আ.) এর কাহিনি, যাঁকে তাঁর কওমের লোকেরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে বন্যার পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করা হলো।

১০. দ্বিতীয় কাহিনি হযরত ইবরাহীম (আ.) এর। এ সংশ্লিষ্ট কাহিনি দুই পর্বে আলোচিত হয়েছে। প্রথম পর্বে তাঁর তাওহিদের দাওয়াতের বর্ণনা যে, তিনি তাঁর পিতা এবং সম্প্রদায়ের লোকজনকে ঈমানের দাওয়াত দিলেন। বাৎসরিক মেলায় অংশগ্রহণ থেকে ওজরখাহি করলেন। তিনি তাদের বানানো মূর্তিগুলোর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেন। তারা কথা বলতে পারল না। তিনি সেগুলো ভেঙ্গে দিলেন। এরপর মুশরিকরা তাঁকে আগুনে জ্বালিয়ে দেবার নীলনকশা ও বন্দোবস্ত করল। এবং আল্লাহ তাআলাও কেমনে তাঁর প্রিয় খলীলকে রক্ষা করলেন, তার আলোচনা।

১১. দ্বিতীয় পর্ব হচ্ছে, পুত্র জবাই সম্পর্কিত কাহিনি। ইবরাহীম (আ.) এর অন্যান্য ঘটনা কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বর্ণিত হলেও জবাইয়ের ঘটনা সূরা সাফফাত ছাড়া আর কোথাও আলোচিত হয় নি। এমনিতেই ইবরাহীম (আ.) এর পুরো জীবনটাই আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পরীক্ষায় পরীক্ষায় ভরপুর। তারপর এই ঘটনা অন্য সব পরীক্ষার চাইতেও কঠিন এবং হৃদয়বিদারক ছিলো। স্বপ্নে হুকুম দেয়া হলো পুত্রকে জবাই করার জন্য। তিনিও আল্লাহর হুকুমের কাছে আত্মসমর্পণ করে হুকুম পালনে তৈরি হয়ে গেলেন। পুত্র ইসমাইলকে স্বপ্নের হুকুমের বিষয়ে অবগত করলে তিনিও আল্লাহর হুকুম পালনে নিজেকে সমর্পণ করলেন। বাবা পুত্রকে উপুড় করে জবাই করতে লাগলেন। সঙ্গে সঙ্গে আসমান থেকে ওহী এলো, ইবরাহীম! তুমি স্বপ্ন সত্যি করে দেখিয়েছ। নিঃসন্দেহে এটি বড় কঠিন পরীক্ষা ছিলো। এখন তুমি পুত্রকে ছেড়ে দাও, তোমার সামনে যে ভেড়া দাঁড়িয়ে আছে, পুত্রের পরিবর্তে এটিকে জবাই করে নাও। আমি সৎকর্মশীলদের এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি। (১১০)

১২. তৃতীয় ঘটনা হযরত মুসা ও হারুন আলাইহিমাস সালামের। চতুর্থ কাহিনি হযরত ইলিয়াস (আ.) এর। যাঁকে শামের এমন সম্প্রদায়ের নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে; যারা ‘বা’ল’ নামক মূর্তির পূজা করত। এই মূর্তির নামেই ‘বা’লা-বাক’ নামে এক শহর আবাদ হয়ে গিয়েছিল। যে সম্প্রদায়ের ধ্বংসাবশেষ এখনও দামেশকের পশ্চিম এলাকায় পাওয়া যায়।

১৩. পঞ্চম কাহিনি হযরত ইবরাহীম (আ.) এর ভাতিজা হযরত লূত (আ.) এর। যাঁকে জর্ডানের এলাকার ‘কওমে সাদ্দুম’র দিকে আল্লাহর পয়গাম দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তারা নিকৃষ্টতম পন্থার প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং কুফরে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলো। একেবারে অন্ধ, বধির হয়ে পড়েছিলো। হেদায়াতের কথা শুনতে তারা আগ্রহী ছিলো না। আল্লাহ তাআলা নজিরবিহীন শাস্তির মাধ্যমে তাদের ধ্বংস নিশ্চিত করে দিলেন।

ষষ্ঠ কাহিনি হযরত ইউনুস (আ.) এর। যিনি কিছুদিনের জন্য মাছের ভেতরও বসবাস করেছিলেন। তাঁর কওমের লোকেরা আযাবের আলামত দেখে তাওবা করে বেঁচে গিয়েছিল। আম্বিয়া কেরামের এসব কাহিনি বর্ণনার পর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- “আর বাহিনীই হয় বিজয়ী। অতএব আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।”

সূরা সোয়াদ
১৪. সূরা সোয়াদ মক্কায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ৮৮ টি আয়াত ও পাঁচটি রুকু রয়েছে। সূরার শুরুতে আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমের কসম করেছেন। এটা হয়ত কুরআনের মু’জিযাস্বরূপ কিংবা রাসূল (সা.) এর সত্যতার উপর দলিল হিসেবে।

১৫. আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর মহত্বের আলামত সৃষ্টিজগত থেকে প্রাপ্ত হওয়ার আলোচনার এক পর্যায়ে বলা হয়েছে যে, মুশরিকরা অহংকার, নির্বুদ্ধিতা এবং মূর্খতার সমস্যায় জর্জরিত হয়েছে। তাদের ভয় দেখানোর জন্য তাদের মধ্য থেকে নবী প্রেরণ করা হলেও তারা বিভিন্ন উপাস্য বানিয়ে রেখেছিল। অথচ নবীর দাওয়াত হচ্ছে, সব উপাস্য ছেড়ে জীবন-মৃত্যুর মালিক এক আল্লাহর ইবাদত করা।

১৬. আগেকার সম্প্রদায়ের অহংকারী এবং মিথ্যা প্রতিপন্নকারী লোকদের পরিণতির আলোচনা করে রাসূল (সা.)কে ধৈর্যের উপদেশ দিচ্ছেন। অন্যদিকে হযরত দাউদ আলাইহিস সালামকে স্মরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাঁকে আল্লাহ তাআলা প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ, দ্বীনি ও দুনিয়াবী শক্তি প্রদান করেছিলেন। তিনি একদিন রোযা রাখতেন একদিন রোযা ভাঙ্গতেন। অর্ধরাত ঘুমাতেন অর্ধরাত ইবাদত করতেন। বিশাল সাম্রাজ্যের বাদশাহও ছিলেন, মর্যাদাবান নবীও ছিলেন। এরপর হযরত তদীয় পুত্র হযরত সুলাইমান (আ.) এর আলোচনা। তাঁর সাম্রাজ্য, আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি-সামর্থ ও ক্ষমতা বাবাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

১৭. এই সূরার তৃতীয় কাহিনি হযরত আইয়ুব (আ.) এর। তিনি হযরত ইয়াকুব (আ.) এর গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ধন-সম্পদ, বাগ-বাগিচা, ফলফলাদি, ফসলি যমীন ইত্যাদি সমৃদ্ধির কোনো কমতি ছিলো না, নিয়ামতে ভরপুর ছিলো তাঁর আশপাশ। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার পরীক্ষা নিতে চাইলেন। সবকিছু নিঃশেষ হতে থাকল। সন্তানাদি সবাই মারা গেলো। চতুষ্পদ জন্তু, ফসলের বাগান সব ধ্বংস হয়ে গেলো। আত্মীয়স্বজনের আচরণও পরিবর্তন হতে থাকল। সমৃদ্ধির জায়গায় অভাব-অনটনে পতিত হলেন। একেবারে নিঃস্ব অবস্থা। শরীর কষ্টদায়ক ও দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হলো। কেবল ধৈর্যশীলা পূণ্যবতী স্ত্রী ছাড়া কেউ পাশে ছিলো না। কোনো কোনো তাফসীরে এই পরীক্ষা ১৮ বছর পর্যন্ত চলতে থাকল। কিন্তু তিনি ধৈর্যহারা হলেন না। ধৈর্যধারণ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের নববী রীতি ত্যাগ করলেন না। অবশেষে পরিক্ষা নেওয়া শেষ হলো। আল্লাহ তাআলা আগের চাইতেও বেশি নিয়ামতে ভূষিত করলেন।

১৮. সূরার শেষের দিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীকে হুকুম দিলেন যে, আপনি আপনার দাওয়াতের বাস্তবতা এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বলে দিন। “বলুন! আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না আর আমি লৌকিকতাকারীও নই। এটা (কুরআন) তো বিশ্ববাসীর জন্য এক উপদেশ মাত্র। তোমরা কিছুকাল পরে এর সংবাদ অবশ্যই জানতে পারবে।”

সূরা যুমার
১৯. সূরা যুমার মক্কায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ৭৫ টি আয়াত ৮ টি রুকু রয়েছে। এই সূরার মৌলিক বিষয়বস্তু তাওহিদের আকিদা। কেননা আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের আকিদাই তো হলে আসল ঈমান। এই সূরার শুরুতে রাসূল (সা.) এর মহান মু’জিযা কুরআনে কারীমের আলোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে- কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে। এরপর রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে সমস্ত মুসলমানকে এই হুকুম দেয়া হচ্ছে যে, ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্যে হবে। ইবাদতে লোকদেখানোর প্রবৃত্তি মনের ভেতর রাখবে না।

২০. কুরআন হাজার বছর পূর্বে চিকিৎসা শাস্ত্রের এক বাস্তব তথ্য দিয়েছে, যা এই বিংশ শতকে এসে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, মায়ের পেটে যে বাচ্ছা অবস্থান করে, দেখতে মনে হয় একই পর্দা; কিন্তু বাস্তবে তিন পর্দার ভেতরে গর্ভজাত সন্তান অবস্থান করে। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা সেই তিন পর্দার কথাই কুরআনে ‘তিন অন্ধকার’ বলে উল্লেখ করেছেন। (৬)

২১. মুশরিকদের উদাহরণ দেয়া হয়েছে ওই গোলামের মতো, যার কয়েক মালিক রয়েছে। প্রত্যেকেই স্বভাবের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন। পরস্পর কোনো মিল নেই, একতা নেই। তাদের মধ্যে এক মালিক গোলামকে যদি ডানদিকে পাঠায় তো, অপর মালিক বামদিকে যাওয়ার হুকুম দেয়। এক মালিক দাঁড়ানোর হুকুম করলে অপর মালিক বসার নির্দেশ দেয়। সে পড়ে যায় মহা পেরেশানিতে, কঠিন বিপাকে। কার কথা রাখবে, কার কথা ছাড়বে। অথচ তাওহিদবাদী মুমিনের উদাহরণ ওই গোলামের মতো, যার কেবল একজন মালিক। তার স্বভাব-চরিত্রও ভালো। তিনি তার গোলামের মনমানসিকতার প্রতি খেয়াল রাখেন। নিঃসন্দেহে সেই গোলাম নিষ্ঠার সঙ্গে সেই মালিকের সেবা করবে।

আর যখন সেই মালিক রাব্বুল আলামীন হন, আর বান্দা তাঁরই অধীনে থাকে, তাহলে তো আর কথাই নেই।

এমএফ/

ট্যাগ: ২০ তারাবীহ, ২০ রমযান, সূরা ইয়াসিন, সূরা সাফফাত, সূরা সোয়াদ, ২৩ পারা, তারাবীহ’র আলোচনা, তারাবীহর বয়ান, আজকের তারাবীহ, সংক্ষিপ্ত তাফসীর

আরও পড়ুন...
১৯তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৮তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৭তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৬তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৫তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১৪তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

১৩তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১২তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১১ তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১০ম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৭ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৫ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৪র্থ তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৩য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
২য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও