আপনার দানের অধিক হকদার যারা

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

আপনার দানের অধিক হকদার যারা

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৯

আপনার দানের অধিক হকদার যারা

মহা ফযীলতের রমযান মাস আমরা অতিক্রম করছি। বাংলাদেশে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা অধিকাংশ এ মাসেই যাকাত আদায় করে থাকেন। এবং সারাবিশ্বেই মুসলমানেরা এ মাসে অধিক পরিমাণে দান সদকা করেন।

আমরা সাধারণত তাদেরকেই আমাদের যাকাত ও নফল সদকা প্রদান করি, যারা আমাদের কাছে চায়। কিন্তু আল্লাহ পবিত্র কুরআনুল কারীমে ভিন্ন এক শ্রেণীর মানুষের কথা বিশেষভাবে বলেছেন। তিনি তাদেরকে খুঁজে খুঁজে দান করতে বলেছেন। কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-

لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُم بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا ۗ وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ 

“দান খয়রাত ওইসব গরীব লোকদের জন্য যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে, জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা যাঞ্চা না করার কারণে তাদের অভাবমুক্ত মনে করে। তোমরা তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতি মিনতি করে ভিক্ষা চায় না। তোমরা যে অর্থ ব্যয় করবে, তা আল্লাহ তাআলা অবশ্যই পরিজ্ঞাত।” – সূরা বাকারাহ, আয়াত : ২৭৩

এই আয়াত থেকে আমরা যা শিখতে পারি তা হল-

আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে ওই সকল দরিদ্র্য ব্যক্তিদেরকে দান করতে বলেছেন, যারা আল্লাহর দ্বীন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে জীবিকা উপার্জনের জন্য আলাদা সময় ব্যয় করতে সক্ষম হন না। এই সক্ষম না হওয়া দ্বীনী ইলম শেখা বা শেখানোর কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে হতে পারে, ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগের কারণে হতে পারে এবং বিশেষভাবে শরঈ জিহাদ বা ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে হতে পারে।

এছাড়াও যে সকল দ্বীনদার সম্ভ্রান্ত মানুষেরা সমাজে সাধারণভাবে বিচরণ করে কিন্তু সে ঋণগ্রস্ত ও অভাবী। তবু মানুষের কাছে নিজের অভাব অনটনের কথা প্রকাশ করে ভিক্ষার জন্য হাত পাতে না। তার চলাফেরা ও মানুষের কাছে অমুখাপেক্ষিতার কারণে বাহ্যিকভাবে তাকে অভাবী ও দরিদ্র্য মনে নাও হতে পারে। কিন্তু আল্লাহ বলছেন, তাদেরকে যেন খুঁজে খুঁজে দান করা হয়।

এমন ব্যক্তিদেরকে গোপনে করা উত্তম। প্রথমত নিজের ইখলাস বজায় রাখার জন্য, দ্বিতীয়ত ওই লোকটিও যেনো সমাজের কাছে ছোট না হয়, লজ্জিতবোধ না করে।     

আল্লাহ তাআলা আয়াতের শেষে বলেছেন, “তোমরা যে অর্থ ব্যয় করবে, সে সম্পর্কে আল্লাহ অবশ্যই পরিজ্ঞাত।” অর্থাৎ, তোমার এই দানের কথা কেউ না জানুক, আল্লাহ দেখছেন। এর উত্তম প্রতিফল তিনি দান করবেন।

অতএব, আমরা যেন আমাদের যাকাত, ফিতরা ও নফল দান-সদকা খুঁজে খুঁজে এমন অভাবীদেরকে সম্মানের সাথে প্রদান করি। এতে আশা করা যায় ইনশাআল্লাহ, আমাদের ব্যয় আল্লাহর কাছে কবুলের অধিক নিকটবর্তী হবে এবং প্রতিদানও বেশি পাওয়া যাবে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
নবীজির দান!
দুর্নীতির দান কবুল হবে?
লোক দেখানো দানের পরিণতি
সাহাবারা কি পরিমাণ দান করতেন?
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে যা দান করা উত্তম
অমুসলিম ব্যক্তিকে দান করা ও হাদিয়া দেওয়া কি নিষেধ?
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কী দান করা উত্তম?
কেয়ামত দিবসে গোপনে দানকারীর যে মর্যাদা
দান করে খোঁটা দিলে নবীজির বদদোয়া!
দান করার আগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভাবুন

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও