১৪তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

ঢাকা, ১ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

১৪তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

মুফতী জিয়াউর রহমান ২:৩২ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৯

১৪তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

১৪তম তারাবীহ আজ। আজকের তারাবীহতে সূরা আম্বিয়া এবং সূরা হজ তিলাওয়াত করা হবে। পারা হিসেবে ১৭তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবীহতে পঠিতব্য অংশের আলোচনা সংক্ষেপে তুলে ধরা হল।

১. ১৭ নং পারা সুরা আম্বিয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এই সুরাও মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এতে ১২০ টি আয়াত ও ৭ টি রুকু রয়েছে। আম্বিয়া নামে এই সুরার নামকরণের কারণ হচ্ছে, আম্বিয়া হচ্ছে, নবীয়্যুন শব্দের বহুবচন, এই সুরায় ১৭ জন আম্বিয়ায়ে কেরামের আলোচনা এসেছে। সেই হিসেবে আম্বিয়া নামকরণ।

২. সুরার শুরুতে দুনিয়ার জীবন নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি চিত্রায়িত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কিয়ামত সংঘটিত এবং হিসাব-নিকাশ নিকটবর্তী হয়ে গেছে। অথচ মানুষ বড় উদাসীনতায় লিপ্ত রয়েছে। (২) সেদিনের জন্য মানুষের কোনো প্রস্তুতি নেই, এমন কোনো আমল নেই, যা সেদিন কাজে লাগবে। কোনো আয়াত সামনে পড়লে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।

৩. মুশরিকরা পরস্পর কথা বলত যে, এই যে ব্যক্তি রাসূল হওয়ার দাবি করছে, আসলে তিনি রাসূল নন, বরং তোমাদের মতই মানুষ। অন্যান্য নবীগণের মতো মু’জিযা দেখাতে পারবেন না। কুরআন এর জবাবে বলছে, পূর্বের সমস্ত নবী-রাসূল মানুষ ছিলেন। খাওয়াদাওয়া, মানবিক প্রয়োজন পূরণ সবই তারা করতেন। কোনো একজন নবীও মনুষ্য চাহিদা থেকে মুক্ত ছিলেন না। তোমরা যে মু’জিযার কথা বলছ, আসলে কুরআনের চাইতে বড় কোনো মু’জিযা হতে পারে না।

৪. কুরআন আসলে এমন এক আয়না, যে আয়নার সামনে দাঁড়ালে সবাই যার যার অবস্থা দেখতে এবং পর্যালোচনা করতে পারবে। এখানে প্রত্যেক সম্প্রদায় এবং ব্যক্তির আলোচনা এসেছে। “আমি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছি এক কিতাব যাতে তোমাদের জন্য আছে উপদেশ (তোমাদের কথা), তোমরা কি তবুও বুঝবে না?” (১০)

৫. জগত নামের এই উন্মুক্ত কিতাবে জগত পালনকর্তার একত্ববাদের বেশুমার দলিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই জগতে আল্লাহ তাআলা আসমান-যমীন, চন্দ্র-সূর্য, দিন-রাত আল্লাহ তাআলা অনর্থক সৃষ্টি করেন নি। বরং এই উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন যে, মানুষ যাতে গভীর চিন্তাভাবনা করে, শিক্ষা গ্রহণ করে। এই জগতের প্রত্যেক বস্তু আল্লাহর আনুগত্য ও তাসবীহে লিপ্ত রয়েছে, কেবল মানুষের মধ্যে যারা কাফির তারা ব্যতিত।

৬. মুশরিকরা আল্লাহকে ছেড়ে বস্তুর প্রতি মাথা নত করে, তাদেরকে ধমক দেয়া হয়েছে, ভর্ৎসনা করা হয়েছে। দলিল চাওয়া হয়েছে যে, বাস্তবেই কি এসব মূর্তিগুলো ইবাদতের উপযুক্ত? পরিষ্কার কথা হচ্ছে, তাদের কাছে না আছে কিতাবি কোনো দলিল? না আছে যৌক্তিক কোনো দলিল?

৭. মুশরিকদের বাতিল আকিদার খণ্ডনের পর এক মহা শক্তিমান স্রষ্টার অস্তিত্বের ছয়টি দলিল উল্লেখ করা হচ্ছে, যার সবগুলোই দৃশ্যমান দলিল

এক. আসমান এবং যমীন উভয় একত্রে মিলিত ছিলো। আমি পৃথক করে দিলাম। আসমানকে ফেরেশতাদের এবং যমীনকে মানুষের বাসস্থান বানালাম। আসমান-যমীন যে মিলিত ছিলো, কুরআন সেই তথ্য প্রদান করার আগ পর্যন্ত না এই তথ্য সম্পর্কে আরবরা ওয়াকিবহাল ছিলো, না অন্য কওমের লোকদের সেই তথ্য জানা ছিলো। আজ থেকে দুশো বছর পূর্বে ভূতত্ত্ববিদগণ দীর্ঘ গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, সমস্ত নভোমণ্ডল-ভূমণ্ডল এক সময় একত্রে মিলিত ছিলো। অথচ কুরআন ১৪শ বছর আগেই সব বলে দিয়েছে।

দুই. আমি প্রত্যেক প্রাণীকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছি। অবাক হওয়ার মতো বিষয় যে, একজন লেখাপড়া না জানা লোক এই তথ্য দিলেন। অথচ আজ বিজ্ঞানিরা একথা স্বীকার করেছে যে, সমস্ত প্রাণীর অস্তিত্বের পেছনে পানির উপাদান রয়েছে। পানি ছাড়া প্রাণ অসম্ভব। চাহে জীব-জন্তু হোক বা গাছগাছালি।

তিন. আমি ভূপৃষ্ঠে পাহাড় তৈরি করেছি, যাতে মানুষের ভার সইতে না পেরে যমীন নড়াচড়া না করে। এই পাহাড়-পর্বত না হলে যমীন সবসময় নড়াচড়া এবং কম্পমান থাকত। আজ বিভিন্ন পাহাড়ে যে দাবানল ও অগ্ন্যুৎপাত দেখা যায়, সেটা হচ্ছে যমীনের নিঃশ্বাস গ্রহণ। কারণ যমীনের নিচেই আগুনের অস্তিত্ব বিদ্যমান।

চার. আমি ভূপৃষ্ঠে প্রশস্ত রাস্তা বানিয়েছি, যাতে মানুষ চলাফেরা করে। সমতল ভূমির কথা বাদ দিলেও পাহাড়ি অঞ্চলেই দেখা যায় যে, দেশের পর দেশ পাহাড়ের মধ্যখানে কী প্রশস্ত রাস্তা তৈরি। যার কারণে মানুষ খুব সহজেই সফর করতে পারে।

পাঁচ. আমি আসমানকে নিরাপদ ছাদ বানিয়েছি। এখানে লক্ষ লক্ষ তারকা, সূর্য এবং চাঁদ তাদের কক্ষপথে তারা খুব দ্রুততার সঙ্গে ঘুর্ণন করতে থাকে। এগুলো তাদের কক্ষপথ থেকে একটু বিচ্যুত হলেই দুনিয়ায় ধ্বংসলীলা কায়েম হয়ে যাবে।

ছয়. আল্লাহ তাআলা রাত, দিন, সূর্য, চন্দ্রকে বানিয়েছেন। এগুলো পানির মাছের মতো আকাশে সাঁতার কাটে। রাত-দিনের পরিবর্তনে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয় না।

৮. এখন আল্লাহ তাআলা ১৭ জন নবীর আলোচনা শুরু করছেন। হযরত মুসা, হযরত হারুন, হযরত ইবরাহীম, হযরত লূত, হযরত ইসহাক, হযরত ইয়াকুব, হযরত নূহ, হযরত দাউদ, হযরত সুলাইমান, হযরত আইয়ুব, হযরত ইসমাইল, হযরত ইদরিস, হযরত যুলকিফল, ইউনুস, হযরত যাকারিয়া, হযরত ইয়াহিয়া, হযরত ঈসা আলাইহিমুস সালাম। (৪৮-৯১)

এই সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামের একই দাওয়াত ছিলো যে, “যে নেক আমল করবে এবং মুমিন হবে, তার চেষ্টা বিফল হবে না।” (৯৪)

৯. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে যিনি তাওহিদের দাওয়াত এবং শিরক প্রত্যাখ্যানের কারণে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হলো। কিন্তু আল্লাহ তাআলা অলৌকিকভাবে তাঁকে বাঁচালেন।

১০. ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ভাতিজা হযরত লূত আলাইহিস সালামকে এক নিকৃষ্ট সম্প্রদায়ের কাছে নবী বানিয়ে প্রেরণ করা হলো।

১১. হযরত নূহ আলাইহিস সালাম যিনি দীর্ঘ জীবন অর্থাৎ ৯৫০ বছর পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার রাহে ধৈর্য এবং সংযত থেকে দাওয়াতের যিম্মাদারি আঞ্জাম দিয়েছেন। যার কারণে তাঁকে শায়খুল আম্বিয়াও বলা হয়ে থাকে।

১২. হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম এবং তদীয় পুত্র সুলাইমান আলাইহিস সালাম যারা উভয়ে নবী ছিলেন এবং বাদশাহও ছিলেন। তাঁদেরকে রূহানি এবং বস্তুগত উভয় নিয়ামতে ভূষিত করা হয়েছিল।

১৩. হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালামকে মুসিবত এবং কষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষায় অবতীর্ণ করা হলো। তিনি ধৈর্যের পরীক্ষা এমন সফলভাবে সম্পন্ন করলেন যে, তাঁর ধৈর্যশীলতা আজ প্রবাদতুল্য। তিনি দুআ করলেন। আল্লাহ তাআলা দুআ কবুল করলেন। কঠিন রোগ থেকে মুক্তি দিলেন।

১৪. হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ পেটের ভেতর সাবার করে নিয়েছিলো। পেটের ভেতর থেকেই তিনি আল্লাহকে ডাকলেন। আল্লাহ তাআলা সেই ডাক শুনলেন এবং মুসিবত থেকে উদ্ধার করলেন।

১৫. পেছনে সুরা কাহফে ইয়া’জুজ-মা’জুজের আলোচনা গেছে। এখানে আবার ইয়াজুজ-মাজুজের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। এদেরকে কিয়ামতের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত মেয়াদ দেয়া হয়েছে।

১৬. মুশরিকরা এবং তাদের মূর্তিগুলো কিয়ামতের দিন জাহান্নামের ইন্ধন হবে। সেদিন কেউ কারো কাজে আসবে না।

১৭. পূর্বেকার নবীগণের আলোচনা করার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুরো উম্মতের জন্য রহমত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সবকিছু বোঝানোর পর যখন মানুষ বুঝল না, তখন তিনি দুআ করলেন: হে আমার পালনকর্তা! আপনি ন্যায়ানুগ ফয়সালা করে দিন। আমাদের পালনকর্তা তো দয়াময়, তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

১৮. সুরা হজ্ব মদিনায় অবতীর্ণ সুরা। এতে ৮৭ টি আয়াত ও ১০টি রুকু রয়েছে। যেহেতু এই সুরায় হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মাধ্যমে হজ্ব ফরয হওয়ার ঘোষণা এসেছে, তাই হজ্ব নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। সাধারণত মক্কী সুরায় আকিদা সংক্রান্ত আলোচনা হয় এবং মাদানি সুরায় মাসাইল ও বিধিবিধান সংক্রান্ত আলোচনা হয়ে থাকে। তবে এর ব্যতিক্রম যে হয় না, তা নয়।

১৯. এই সুরার শুরুতে কিয়ামতের কঠিন দৃশ্য এবং ভয়াবহতার কথা এমনভাবে আলোচিত হয়েছে যে, অন্তর ভীত হয়ে যায় এবং শরীর শিহরিয়ে ওঠে। যেমন ইরশাদ হচ্ছে, “হে লোকসকল! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুধের শিশুকে বিস্মৃত হবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল; অথচ তারা মাতাল নয় বস্তুত আল্লাহর আযাব সুকঠিন।” (১-২)

২০. কিয়ামতের আলোচনার পরে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের দলিলের আলোচনা মানুষ সৃষ্টির সাতটি পর্যায়ক্রমিক অবস্থার বিবরণ-

এক. মানুষের আদি পিতা আদম আলাইহিস সালামকে কোনো মাধ্যম ছাড়া মাটি দ্বারা সৃষ্টি এবং আদম আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সকল মানুষের মাটির সাথে সম্পর্ক।

দুই. প্রত্যেক মানুষের বীর্য থেকে সৃষ্টি, বীর্য রক্ত থেকে, রক্ত খাদ্য থেকে এবং খাদ্য মাটি থেকে সৃষ্টি হয়। মাটি এবং বীর্যের মধ্যখানেই জীবনের রহস্য লুকায়িত।

তিন. এরপর জমাট রক্ত হয়।

চার. এরপর পুর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড।

পাঁচ. এরপর সন্তান সৃষ্টি হয় এবং খুব দুর্বল থাকে।

ছয়. এরপর সেই সন্তান যৌবনে পদার্পণ করে। শক্তি এবং বুদ্ধি পূর্ণতা পায়।

সাত. এরপর হয়ত সে যৌবনকালেই মারা যায়, নতুবা এমন বার্ধক্যে উপনীত হয় যে, শিশুদের মতো হয়ে যায়।

২১. কিছু মানুষ তো পরিষ্কারভাবে গোমরাহীতে নিমজ্জিত। আর কিছু মানুষ রয়েছে মাঝামাঝিতে। তাদের দুনিয়াবী কোনো উপকার সাধিত হলে ইবাদত করে, দ্বীনের উপর থাকে। আর যদি উপকারের পরিবর্তে কোনো পরীক্ষা সামনে চলে আসে, তখন পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে চলে যায়।

২২. দ্বীন-ধর্মের ভিত্তিতে মানুষ সর্বমোট ছয় দলে বিভক্ত-

এক. মুসলিম, যারা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করে, কুরআনের উপর ঈমান রাখে।

দুই. ইহুদী, যারা মুসা আলাইহিস সালামের উম্মত, তাওরাত তাদের কিতাব।

তিন. ঈসায়ী, ঈসা আলাইহিস সালামের উম্মত, ইনজিল তাদের কিতাব।

চার. সাবী, বলা হয়ে থাকে তারা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের যুগে ছিলো। তারকার ইবাদত করত।

পাঁচ. পৌত্তলিক, তারা কোনো ঐশী ধর্মের অনুসারী নয়। সূর্য, চন্দ্র এবং অগ্নির উপাসনা করত।

ছয়. মুশরিক, তারা মূর্তিপূজা করে।

এদের মধ্যে পাঁচ পাঁচটি দলই শয়তানের আনুগত্যশীল। কেবল প্রথম প্রকারই রাহমানের আনুগত্যশীল।

২৩. ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশে বায়তুল্লাহ নির্মাণ করলেন। এরপর জাবালে আবু কুবাইসে দাঁড়িয়ে হজ্বের ঘোষণা করলেন। আল্লাহ তাআলা কুদরতীভাবে সেই ঘোষণা আসমান-যমীনের বাসিন্দা সবার কর্ণকুহরে পৌঁছে দিলেন। সকলেই শুনলো। আল্লাহ তাআলার নিদর্শনের সম্মান করা ঈমানের আলামত বলে ঘোষণা করলেন।

২৪. সত্যিকার মুমিনের চারটি আলামত। আল্লাহর ভয়, মুসিবতের উপর ধৈর্য, নামাযের নিয়মানুবর্তিতা, উত্তম ও নেক খাতে খরচ করা। (৩৫)

২৫. জন্তু কুরবানির পর তার গোশত কিংবা রক্ত আল্লাহর দরবারে পৌঁছে না, বরং পৌঁছে বান্দার তাকওয়া। যার অন্তরে তাকওয়া থাকবে, সে গোনাহ থেকে বাঁচবে। নেক আমল কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করবে।

২৬. হজ্বের বিধান আলোচনার পর মুসলমানদেরকে জিহাদের অনুমতি দেয়া হলো। কেননা কাফিররা মুসলমানদেরকে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি এবং মক্কায় প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করে। প্রথমে তো ধৈর্য এবং ক্ষমার নির্দেশ ছিলো, কিন্তু এতদসত্ত্বেও মুশরিকদের উৎপাত বাড়তেই থাকল এবং এদিকে মুসলমানরাও মদিনায় শক্তিশালী হয়ে উঠলো, তখনই হজ্বের ৩৯ নং আয়াত নাযিলের মাধ্যমে জিহাদের অনুমতি প্রদান করা হলো।

২৭. অন্য নবীগণের মতো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবী হিসেবে প্রেরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া। মুশরিকরা যতই অস্বীকার কিংবা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করুক। প্রত্যেক নবীর সঙ্গেই এমনটা হয়েছে। আজও বিভিন্ন মাধ্যমে ইসলামের বিধিবিধানের উপর আপত্তি ও হাসি-তামাশা অব্যাহত রয়েছে।

২৮. সর্বশেষে আবারও জিহাদ, ইকামতে সালাত, আদায়ে যাকাতের হুকুমের মাধ্যমে সুরা শেষ হলো।

এমএফ/ 

আরও পড়ুন...
১৩তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১২তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১১ তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১০ম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৭ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৫ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৪র্থ তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৩য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
২য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও