১২তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

১২তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

মুফতী জিয়াউর রহমান ৩:২২ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৯

১২তম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

১২তম তারাবীহ আজ। আজকের তারাবীহতে সূরা বনি ইসরাইল এবং সঙ্গে সূরা কাহফের ১ নম্বর আয়াত থেকে ৭৪ নম্বর আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে। পারা হিসেবে আজ তিলাওয়াত হবে ১৫তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবীহতে পঠিতব্য অংশের মৌলিক আলোচনা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

১. সুরা ইসরা বা সূরা বনী ইসরাইল মক্কায় অবতীর্ণ সুরা। এতে ১১১ টি আয়াত এবং ১২ টি রুকু রয়েছে। ইসরা অর্থ রাতে নিয়ে যাওয়া। যেহেতু সুরার শুরুতেই রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এজন্যে সুরার নাম 'ইসরা।' এই ঘটনা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বড় মু'জিযা এবং অনেক সম্মানের বিষয় ছিলো। এই সম্মান কেবল আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একক বৈশিষ্ট্য ছিলো। এই ঘটনা জাগ্রত অবস্থায়ই ঘটেছিল। ঘুমন্ত অবস্থায় হলে এত গুরুত্ব দিয়ে কুরআনে আলোচিত হতো না। এবং মুশরিকদেরও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়োজন ছিলো না।

২. বনী ইসরাইলকে প্রথমেই বলে দেয়া হয়েছিল যে, তোমরা সিরিয়ায় গিয়ে দু'বার ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং প্রত্যেকবার সাজাস্বরূপ তোমাদের উপর আমার বান্দাদেরকে চাপিয়ে দেবো। সুতরাং প্রথমবার যখন তারা তাওরাতের বিরুদ্ধাচরণ করল এবং হযরত শুয়াইব আলাইহিস সালামের মতো নবীকে তারা অন্যায়ভাবে হত্যা করে ফেলল, তখন তাদের উপর বুখতে-নসর এবং তার সৈন্যদলকে চাপিয়ে দেয়া হলো। যারা সমস্ত দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা আলিম এবং নেতৃস্থানীয় সবাইকে হত্যা করে দিলো। তাওরাত জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিলো? বায়তুল মাকদিসকে বিরান করে দিলো। অনেক ইসরাইলিকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেলো।

৩. দ্বিতীয়বার ইহুদিদের ফিতনা-ফাসাদ তখন বেড়ে গিয়েছিল, যখন তারা হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ও হযরত ইয়াহিয়া আলাইহিস সালামকে শহীদ করে দিয়েছিল। আর তারা সীমাতিরিক্ত গোনাহে জড়িয়ে পড়েছিল। এবার বাবেল শহরের এক বাদশাহ তাদের উপর চেপে বসল। ইহুদিদের এই ফিতনা-ফাসাদও ইতিহাস হয়ে রইল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায়ও ইহুদিরা তাদের পূর্বপুরুষদের ন্যায় অপরাধপ্রবণতা এবং ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখল। মুসলমানরা তাদেরকে আরব উপদ্বীপ হতে বিতারিত করে দিলো। বর্তমান সময়েও ইহুদিরা চরম বেড়ে গেছে। ফিতনা-ফাসাদ তাদের থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে সর্বত্র। আল্লাহই ভালো জানেন এবার তাদের শায়েস্তা করার জন্য কোন সম্প্রদায় আসে।

৪. কুরআনে কারীমের মর্যাদা, মানুষের স্বভাবচরিত্রের আলোচনার পর যৌথজীবনের আনুমানিক ১৩ টি ইসলামি আদব-আখলাকের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, কোনো উম্মত বা ব্যক্তি আদব-আখলাকের কারণেই সম্মান ও মর্যাদার উপযুক্ত হয়। ১৩ টি ইসলামি আদাব সম্পর্কে ২৩ নং আয়াত থেকে ৩৯ নং আয়াত পর্যন্ত আলোচনা এসেছে।

যেমন আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত করো না। পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। আত্মীয়-স্বজন, মিসকিন এবং মুসাফিরদেরকে তাদের হক বুঝিয়ে দাও। সম্পদের অপচয় করো না। কৃপণতা করো না আবার এত বেশি উদারহস্তে খরচও করো না, যাতে নিঃস্ব হয়ে যেতে হয়। অভাবের ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করো না। কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করো না। ইয়াতিমের সম্পদের অপব্যবহার করো না। অঙ্গীকার করলে তা পূর্ণ করো। ওজনে কম দিও না, পুরোপুরি দাও। যে সম্পর্কে জানাশোনা নেই, তার পিছে পড়ো না। জমিনের উপর অহংকার করে চলো না। শেষের দিকে আবার বলে দিলেন, আল্লাহর সাথে কাউকে উপাস্য বানিও না।

৫. মুশরিকরা আল্লাহর তাআলার জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে নাউযুবিল্লাহ! পরকালের অস্বীকার করে। অবাক বিস্ময়ে বলে, আমাদের শরীর যখন বিগলিত হয়ে যাবে, মাংস, হাড্ডি বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে, পরে আমাদেরকে কি নতুনভাবে সৃষ্টি করা হবে? রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে মু'জিযা দেখানোর দাবি করে। কখনো প্রবাহিত নদী, খেজুর এবং আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করে কিংবা আসমানের খণ্ড নিক্ষেপ করে দেয়া, কিংবা ফেরেশতাকে তাদের সামনে নিয়ে আনার, স্বর্ণের ঘর বানিয়ে দেখানোসহ নানা অযৌক্তিক দাবি তুলে।

৬. তাছাড়া এই সুরায় কুরআনের মর্যাদা, সত্যতা, নাযিলের উদ্দেশ্য এবং তার মু'জিযা হওয়ার বিষয়, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষকে সম্মানিত করার এবং রূহ ও জীবনের মতো নিয়ামত প্রদানের কথা, রাসূলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাহাজ্জুদ নামাযের হুকুম দেয়া, মুসা আলাইহিস সালাম ও ফেরাউনের ঘটনা, কুরআনে কারীম একটু একটু করে নাযিল হওয়ার তাৎপর্যের আলোচনা এসেছে। আল্লাহ তাআলার শরীক থেকে এবং সন্তান থেকে তিনি পবিত্র। তিনি আসমায়ে হুসনার গুণে গুণান্বিত।

৭. সত্যের আগমন, মিথ্যার বিতারণের আলোচনা এসেছে। কুরআন অন্তরের ঔষধ এবং শিরক, কুফর, কুচরিক্র ও আত্মিক রোগসমূহ থেকে মনের মুক্তিদাতা এই আলোচনা। কোনো কোনো আলিমের মতে কুরআন শুধু আত্মিক রোগের না, বাহ্যিক রোগ নিরাময়েরও অমোঘ ব্যবস্থাপত্র।

৮. সুরা কাহফ মক্কায় অবতীর্ণ সুরা। এতে ১১০ টি আয়াত এবং ১২ টি রুকু রয়েছে। কাহফ মানে গর্ত। যেহেতু এই সুরায় গর্তবাসী যুবকদের আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে, তাই সুরাকে কাহফ নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই সুরার ফযীলতের ব্যাপারে কয়েকটি হাদীসের মধ্যে এসেছে, যে ব্যক্তি সুরা কাহফের শেষ দশ আয়াত পাঠ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে হেফাজত থাকবে। বিদ্বানগণ বলেন: সুন্নাত হচ্ছে, জুমু'আবার দিনে অথবা রাতে সুরা কাহফ পড়া। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি জুমু'আর দিন সুরা কাহফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমু'আর মধ্যবর্তী সময়কে নুর দ্বারা আলোকিত করে দিবেন।

৯. সুরা কাহফ ওই পাঁচ সুরার অন্যতম যেগুলো শুরু হয়েছে 'আলহামদুলিল্লাহ'র মাধ্যমে। বাকি চারটি হচ্ছে, সুরা ফাতিহা, সুরা আন'আম, সুরা সাবা এবং সুরা ফাতির। সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদবী রাহ, বলেন: দীর্ঘ এবং গভীর চিন্তা-ফিকিরের পর এই ফলাফলে পৌঁছতে সক্ষম হলাম যে, এই সুরার বিষয়বস্তু হচ্ছে, ঈমান এবং বস্তুবাদের সংঘাত। এই সুরার সঙ্গে শেষ যামানার ফিতনার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যে ফিতনার সবচে বড় ঝাণ্ডাবাহী হবে দাজ্জাল। এই সুরা মুসলমানদেরকে দাজ্জালের ফিতনা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করে।

১০. এই সুরার প্রথম কাহিনি আসহাবে কাহফের। তারা কয়েকজন মজবুত ঈমানদার যুবক ছিলেন, যাদেরকে দিকইয়ানুস নামক বাদশাহ মূর্তিপূজায় বাধ্য করতে চাচ্ছিল। তার শিরকি আহবানে যারাই সারা দিত না, সবাইকে সে হত্যা করত। এই যুবকদের সামনে একদিকে ধনসম্পদের পাহাড়, বড় পদবি লাভ এবং সমৃদ্ধশালী জীবনের হাতছানি ছিলো। অপরদিকে তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল, হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছিল। যুবকরা সবকিছুর উপর ঈমানের হেফাজত করাকে প্রাধান্য দিলো এবং ঈমান বাঁচানোর তাগিদে ঘর হতে বেরিয়ে পড়ল। চলতে চলতে শহরের অনেক দূরে এক পাহাড়ের গুহায় পৌঁছে গেলো। তারা এই পাহাড়ে আশ্রয় নিতে চাইল। তারা যখন গুহায় প্রবেশ করল, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করে দিলেন। সেখানে তারা তিনশো নয় বছর ঘুমিয়ে থাকল। যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হলো, খাবারের প্রয়োজন হলো। উঠে দেখল বৃহদাকারের পাথর গুহার সম্মুখভাগ আটকে রেখেছে। এরপর তারা দুআ করল। আল্লাহ তাআলা পাথর সরিয়ে নিলেন। তাদের মধ্যে একজন খাবার নিয়ে আসার জন্য শহরে গেলো। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারল। তিন শতাব্দী পর অবস্থা এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে। মুশরিকদের রাজত্ব শেষ হয়ে গেছে। একত্ববাদি রাজত্ব কায়েম হয়েছে।

এই ঘটনা থেকে মুমিনদের জন্য শিক্ষা হলো, ঈমানের প্রশ্নে মুমিনরা সবসময় অনড় থাকবে। ঈমানের মোকাবেলায় যত বিষয়ই সামনে আসুক, ঈমানকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

১১. হযরত মুসা ও খাযির আলাইহিস সালাম। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যখন জানলেন সমুদ্রের পারে এমন একজন ব্যক্তিত্ব থাকেন, যাঁর কাছে এমন ইলম আছে, যা তাঁর কাছে নেই। তখন তিনি সেই ব্যক্তিত্বের তালাশে বেরিয়ে পড়লেন। সমুদ্রের কিনারে পৌঁছে খাযির আলাইহিস সালামের সঙ্গে মোলাকাত হয়ে গেলো। তিনি তাঁর সঙ্গে থাকার অনুমতি চাইলেন। খাযির আলাইহিস সালাম অনুমতি দিলেন এই শর্তের উপর যে, কোনো প্রশ্ন করতে পারবেন না। তারপর তিনটি আশ্চর্যজনক ঘটনা প্রকাশ পেলো। প্রথমে খাযির আলাইহিস সালাম ওই নৌযানটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলেন, যার মালিক তাদেরকে বিনা ভাড়ায় নদী পার করে দিয়েছিল। দ্বিতীয় ঘটনা হলো, তিনি একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করে দিলেন। তৃতীয় ঘটনা হলো, তিনি ওই গ্রামের একটি পতনোন্মুখ দেওয়াল মেরামতে লেগে গেলেন, যে গ্রামের লোকেরা তাদেরকে খাবার খাওয়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দিয়েছিল।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, মুসা আলাইহিস সালাম তিনটি ঘটনায়ই নিরব থাকতে পারেন নি। প্রশ্ন করে ফেলেছিলেন, আপত্তি জানিয়েছিলেন। তৃতীয়বার প্রশ্ন করার পর খাযির আলাইহিস সালাম পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘোষণা দিলেন। একসাথে চলার বিষয়টি নাকচ করে দিলেন। তবে তিনটি ঘটনারই বাস্তবতা বর্ণনা করে দিলেন।

প্রথম ঘটনার বাস্তবতা: খাযির আলাইহিস সালাম বললেন, নৌযানের কাঠ উঠিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সামনেই এক যালিম শাসকের লোক দাঁড়িয়ে ছিলো, যে সবকটি ভালো এবং নতুন নৌকা ছিনিয়ে নিচ্ছিল। যখন আমি এটিকে ত্রুটিযুক্ত করে দিলাম, তখন নৌকাটি যালিম শাসকের ছিনিয়ে নেয়া থেকে বেঁচে গেলো। আর এই গরীব লোকটির জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা নিরাপদ রয়ে গেলো।

দ্বিতীয় ঘটনার বাস্তবতা: ছোট বাচ্চাটিকে এজন্যে হত্যা করলাম; সে বড় হয়ে বাবা-মার জন্য বড় ফিতনার কারণ হবে। এমনকি বাবা-মাকে কুফরের দিকেও নিয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ আল্লাহ তাআলা চান না এই বাচ্চার নেক বাবা-মা কেবল সন্তানের মুহাব্বতে ঈমান থেকে মাহরূম হন। এজন্য আল্লাহ তাকে হত্যা করা এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এক নেক সন্তান দেওয়ার ফয়সালা করলেন।

তৃতীয় ঘটনার বাস্তবতা: যে পতনোন্মুখ দেওয়াল মেরামত করলাম, সেটি দুই ইয়াতিমের মালিকানায় ছিলো। তাদের বাবা-মা নেক মানুষ ছিলেন। দেওয়ালের নিচে ধনভাণ্ডার লুকানো ছিলো। যদি দেওয়াল ধ্বসে যায়, তাহলে গোপন ধন লোকেরা লুট করে নিয়ে যাবে। আর নেক পিতা-মাতার দুই ইয়াতিম সন্তান এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে। দেওয়াল মেরামত করে দিলাম যাতে বড় হয়ে তারা এগুলো বের করে নিতে পারে।

১২. হযরত মুসা ও খাযির আলাইহিমাস সালামের ঘটনা থেকে আমাদের এই শিক্ষা হাসিল হলো যে, আমাদের সামনে প্রতিনিয়ত কত ঘটনা ঘটে। কত মানুষ যুবক বয়সে মারা যায়। কত বাচ্চা শিশুকালেই মারা যায়। কত মানুষ দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে আহত হয়। কারো ঘর ভেঙে পড়ে। কারো ব্যবসায় ধস নামে। তো এসব ঘটনার আড়ালে অবাক করা তাৎপর্য ও গোপন কারণ লুকায়িত থাকতে পারে। এই দুনিয়ার প্রকাশ্য এবং গোপন সমান নয়। মানুষের জ্ঞান প্রকাশ্য বিষয়ের উপর সীমাবদ্ধ থাকে, অপ্রকাশ্য বিষয় অনুভব থেকে অক্ষম থেকে যায়।

১৩. সুরা কাহফে আরো তিনটি দৃষ্টান্তের আলোচনা হয়েছে। প্রথম দৃষ্টান্ত একটি কাহিনি আকারে এসেছে। যেমন এক ব্যক্তির অত্যন্ত মূল্যবান ফলফলাদির বাগান ছিলো। ধনসম্পদের আরো বিভিন্ন উপকরণ ছিলো। সম্পদের প্রাচুর্যে তার ভেতর অহংকার আর আত্মগরিমায় টইটম্বুর হয়ে হেলো। সে ভাবল এই সম্পদ চিরস্থায়ী থাকবে, এগুলো কখনো নিঃশেষ হবে না। এমনকি সে কিয়ামতের দিনের ব্যাপারেও সংশয় করতে লাগল। তার ঈমানদার বন্ধুগণ তাকে বোঝাল, আল্লাহকে ভুলে না যাওয়ার কথা, তাঁর কুদরতের কথা বলল, কিন্তু সম্পদের প্রাচুর্যে সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর আল্লাহ তাআলার আযাব এসে তার সমস্ত বাগান জ্বালিয়ে কয়লা বানিয়ে দিলো।

সব ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তার সম্বিত ফিরল। আফসোস করতে লাগল। সে তো আল্লাহকে মানত, কিন্তু সম্পদও তার কাছে অনেক ক্ষমতাবান মনে হয়েছিল। এজন্য আফসোস করে বলত হায়! যদি আমি শিরক না করতাম। অর্থাৎ বস্তুর উপর নির্ভরতার শিরক। কিন্তু সেই আফসোস আর কাজে আসল না।

১৪. দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- বলা হচ্ছে, তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। তারপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল-সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়। তারপর তা এমন শুষ্ক চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা এগুলোর পূর্ণতা দেন আবার আল্লাহর হুকুমেই আস্তে আস্তে তা ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। (৪৫)

১৫. “ধনসম্পদ, সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদানপ্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্য উত্তম।” (৪৬) অর্থাৎ দুনিয়াবী সবকিছু দুনিয়ার জীবনের উপকরণ ও সৌন্দর্য। কিন্তু চিরস্থায়ী জীবনের জন্য কাজে আসার জিনিস হলো নেক আ'মাল, সাদাকা, খয়রাত, যিকির, তিলাওয়াত, উত্তম চরিত্র এবং মানবতার সেবা ও সহমর্মিতা।

১৬. তৃতীয় দৃষ্টান্ত অহংকার এবং আত্ম-অহমিকা সম্পর্কিত। আল্লাহ তাআলার হুকুম সত্ত্বেও হযরত আদম আলাইহিস সালামকে ইবলিসের সিজদা না ঘটনা। এই ধারণা তার ভেতর জন্মেছিল যে, আমি তো আদম থেকে উত্তম। উত্তম হয়ে অধমকে সিজদা করব কেন? এখানে আমাদের জন্য শিক্ষা হলো, আমরাও যেন ইবলিসের মতো অহংকারে লিপ্ত না হই, আল্লাহর হুকুমের সামনে যুক্তি পেশ না করি। আল্লাহর হুকুমের সামনে আনুগত্যের ডানা বিছিয়ে দেই।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
১১ তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১০ম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

৭ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৫ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

৪র্থ তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৩য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

২য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও