১১ তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

১১ তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

মুফতী জিয়াউর রহমান ৩:২৬ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৯

১১ তম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

১১তম তারাবীহ আজ। আজকের তারাবীহতে সূরা হিজর এবং সূরা নাহল তিলাওয়াত করা হবে। পারা হিসেবে ১৪তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরা হলো

সূরা হিজর

১. সুরা হিজর মক্কায় অবতীর্ণ সুরা। এতে ৯৯ টি আয়াত এবং ৬ টি রুকু রয়েছে। যেহেতু এই সুরায় হিজর উপত্যকায় বসবাসকারি কওমে সামুদের আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে, তাই সুরার নামকরণ হিজর করা হয়েছে। এই সুরাও হুরূফে মুকাত্তা'আতের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং কুরআনে কারীমের প্রশংসা ও গুণাগুণ আলোচিত হয়েছে।

২. কিয়ামতের দিন যখন কাফিরদের চোখের সামনে আযাবের ভয়াবহতা দৃষ্টিগোচর হবে, তখন তারা কামনা করে বলবে, হায়! আমরা যদি মুসলমান হতাম। কিন্তু তখন তাদের ঈমান কিংবা ঈমানের বাসনা কোনো কাজে আসবে না। অথচ আজ তাদের অবস্থা হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদেরকে ঈমানের দাওয়াত দেন, তারা পাগল আখ্যায়িত করে। ঈমানী দাওয়াতের মোকাবেলায় তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে।

৩. কুরআনে কারীমের বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর হেফাজতের যিম্মাদারি স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিয়েছেন। পক্ষান্তরে অন্যান্য আসমানি কিতাবের সংরক্ষণের যিম্মাদারি সেই সম্প্রদায়ের উপর সোপর্দ করেছেন। যার কারণে সেগুলো সংরক্ষিত থাকে নি। অথচ কুরআন দেড় হাজার অতিক্রান্ত হওয়ার পরও একটি নুকতারও হেরফের করা সম্ভব হয় নি। এটাই কুরআনি মু'জিযা। কুরআনের হিফজ করা সেই হেফাজতের অংশ মাত্র।

৪. এই সুরার অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলার কুদরত এবং একত্ববাদের দলিলাদির আলোচনা এসেছে। আকাশমণ্ডলী, যমীনসমূহ, চাঁদ-সিতারা, পাহাড়, জঙ্গল, সাগর, নদী, গাছগাছালি, পাখ-পাখালির আকৃতিতে মহান রবের অস্তিত্বের দলিল ছড়িয়ে রয়েছে এবং তাঁর বড়ত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে। বলা হয়েছে- “নিশ্চয় আমি আকাশে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে দর্শকের জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি।”

একটু পর বলা হচ্ছে- “আমি ভূপৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।”

বাতাস হাজার হাজার টন ওজনের পানি বহন করে আকাশে ওঠায় এবং প্রয়োজনমতো যমীনে বর্ষণ করে।

৫. আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ এবং কুদরতের দলিলাদির আলোচনার পর মানুষ সৃষ্টির প্রাথমিক অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। যা হযরত আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টির আকারে সেই অবস্থা সামনে এসেছে। আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টি নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার কুদরতের এক মহা নিদর্শন। কেননা প্রাণহীন মাটি থেকে এমন ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করলেন, যিনি নড়াচড়া করা, উঠাবসা এবং চলাফেরা করতে পারেন। বোঝাপড়া, চিন্তাভাবনা, উন্নতি-অগ্রগতির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার শক্তি এবং সামর্থ রাখেন। এই ক্ষমতা এবং যোগ্যতা আদম আলাইহিস সালাম থেকে সৃষ্ট সমস্ত মানবজাতিকে দেয়া হলো।

৬. যখন আদম সৃষ্টি পূর্ণতা পেলো, ফেরেশতাদেরকে আদমের সামনে সিজদা করার হুকুম দেয়া হলো। ফেরেশতারা সবাই সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। কেবল ইবলিস সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানাল। ইবলিস ফেরেশতা ছিলো না, বরং জিন জাতির এক সদস্য ছিলো। কিন্তু ফেরেশতাদের মাঝে থাকত। সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে আসমান থেকে বিতারিত করা হলো। চিরকালের জন্য অভিশপ্ত হলো। আদম থেকে এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত জীবন প্রলম্বিত হওয়ার আবেদন মঞ্জুর করাল। পৃথিবীর নানা সৌন্দর্য ও চাকচিক্যের প্রলোভনে ফেলে বনি আদমকে পথভ্রষ্ট করার অঙ্গীকার করল। (৩৯)

আল্লাহ তাআলা বললেন, আমার প্রকৃত বান্দার উপর তোমার কোনো প্রভাব চলবে না। তবে যারা হতভাগা, তারা তোমার অনুসরণ করবে। তাদের জন্য তো জাহান্নাম প্রস্তুত আছেই। যার সাতটি দরজা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এও ঘোষণা দিলেন, যারা সৌভাগ্যবান তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যেখানে কোনো কষ্ট, পেরেশানি থাকবে না। তারা নিরাপত্তা ও শান্তি সহকারে প্রবেশ করবে। (৪৪)

৭. জান্নাতের নিয়ামতের আলোচনার পর বান্দার উপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ এবং করুণার আলোচনা এসেছে। বান্দা যত বড়ই গোনাহগার হোক না কেন; আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা সকল গোনাহ মাফ করে দিতে সক্ষম। এবং আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁর গজবের উপর বিজয়ী। বলা হচ্ছে, “হে নবী! আপনি আমার বান্দাদের জানিয়ে দিন যে, আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু। এবং এ-ও যে, আমার শাস্তিই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (৪৯-৫০)

ভয় এবং আশার সমষ্টির একটি আয়াত হচ্ছে এটি। মুমিনের অন্তরে ভয়ও থাকা উচিত, রহমতের আশা রাখাও উচিত।

৮. এরপর ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মেহমানদের আলোচনা এসেছে। যারা মূলত ফেরেশতা ছিলেন। মানুষের আকৃতিতে এসেছিলেন ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ শোনানোর জন্য। তখন তাঁর বয়স ছিলো ১২০ বছর। আহলিয়াও ছিলেন খুব বয়স্ক। বাহ্যত সন্তান পাওয়ার বয়স এটি ছিলো না। এজন্যে সুসংবাদ শুনে যেমন আনন্দিত হলেন, তেমনি খুব অবাক হলেন। তারা বললেন- আমরা আপনাকে সত্য সুসংবাদ দিচ্ছি। অতএব আপনি নিরাশ হবেন না। তিনি বললেন: পালনকর্তার রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয়? (৫৫-৫৬)

৯. ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে সুসংবাদ শোনানোর পর ফেরেশতারা লুত আলাইহিস সালামের খেদমতে গিয়ে আরয করলেন, তিনি যেন রাতেই স্ত্রীকে নিয়ে বস্তি থেকে বের হয়ে যান। লুত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের এই বস্তির লোকেরা নাফরমানি করতে করতে এমন চরম সীমায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, আল্লাহ তাআলা এদের অপবিত্রতা থেকে জমিনকে পবিত্র করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। বাস্তবেও তেমনটাই হলো। ইরশাদ হচ্ছে: “অতঃপর আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম এবং তাদের উপর কঙ্করের প্রস্তর বর্ষণ করলাম।” (৭৪)

১০. হিজর উপত্যকায় বসবাসকারী সালেহ আলাইহিস সালামের কওমও অন্যায় এবং সীমালঙ্ঘনের পথযাত্রী ছিলো। বারংবার বোঝানো সত্ত্বেও মূর্তিপূজা ছেড়ে আসতে চাচ্ছিল না তারা। তাদেরকে অনেক মু'জিযাও দেখানো হলো। পাহাড়ি বৃহদাকার পাথরের ভেতর থেকে উটনীর জন্ম নেয়ার মু'জিযা। মূলত এটি ছিলো কয়েকটি মু'জিযার সমষ্টি। পাথর থেকে বের হয়ে আসা, সাথে সাথেই বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসা, তার শরীর অস্বাভাবিক বড় হওয়া, অনেক বেশি দুধ দেওয়া। কিন্তু হতভাগারা একটি এই মু'জিযাসমূহের কোনোই মূল্যায়ন করে নি। এসব দেখে ঈমান আনা তো দূরের কথা, দুর্ভাগ্যবশত আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক উটনীকে তারা হত্যা করে ফেলল। যার কারণে হিজর উপত্যকায়ও আযাব চলে এলো।

১১. আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে বলছেন: “আপনাকে আমি সাতটি বারবার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কুরআন দিয়েছি।” (৮৭-৮৮) এখানে সুরা ফাতেহা এবং পরিপূর্ণ কুরআনের নিয়ামতের আলোচনা করা হয়েছে। কুরআনের নিয়ামত আল্লাহ তাআলা যাদের দিয়েছেন, সম্পদশালীদের দিকে চোখ তুলে তাকানোও তাদের জন্যে উচিত নয়। কুরআনের নিয়ামতের কাছে দুনিয়ার সম্পদ একেবারেই সামান্য।

সূরা নাহল

১২. সুরা নাহল মক্কায় অবতীর্ণ সুরা। এতে ১২৮ টি আয়াত এবং ১৬ টি রুকু রয়েছে। নাহল হচ্ছে, মৌমাছি। যেহেতু এই সুরায় মৌমাছির আলোচনা এসেছে, তাই এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। মৌমাছির মধ্যে আল্লাহ তাআলা এমন কিছু যোগ্যতা রেখে দিয়েছেন যে, তারা এমন কাজ করতে সক্ষম যা, রীতিমতো বিস্ময়কর! মানুষের বুদ্ধি পর্যন্ত যেখানে অক্ষম হয়ে যায়। বাসা বানানোর কাজ বলুন আর নানা রকমের দায়িত্ব এবং যিম্মাদারি পালন বলুন বা দূরদূরান্তের গাছগাছালি, বাগান এবং ফসল থেকে একটু একটু করে মধু সংগ্রহের কথা বলুন, তাদের সকল কাজ বড়ই আশ্চর্যজনক! তাদের তৈয়ারকৃত ঘরে বিশ থেকে ত্রিশ হাজার কক্ষ হয়ে থাকে। সেগুলো হচ্ছে, মধু সংগ্রহের পর রাখার জন্য স্টোর রুম। বাচ্চা জন্ম হওয়া এবং বড় হওয়ার চাইল্ড হোম এবং আবর্জনা রাখার গুদাম। সবকিছু পৃথক পৃথক।

হাজার হাজার মৌমাছি শাসনের জন্য এক সম্রাজ্ঞী হয়ে থাকে। এই ছোট্ট রাজ্যে তারই শাসন চলে। তারই নির্দেশে বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। কেউ দারোয়ানের দায়িত্বে, কেউ ডিম সংরক্ষণের দায়িত্বে, এবং কেউ নবজাতক শিশুর দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে। কেউ বাসা মেরামত এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দায়িত্বে থাকে। একটি মৌমাছি মধু তালাশের জন্য বের হয়ে যখন কোথাও মধুর সন্ধান পায়, তখন ফিরে এসে মধু আহরণের জন্য অন্য এক কাফেলাকে নিয়ে যায়। কেউ যদি ভুলক্রমে মধুর বদলে বিষাক্ত কিছু নিয়ে আসে, তাহলে চেকিংয়ে থাকা সেন্ট্রিরা তাকে বাইরে বের করে দেয়। ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, “মৌমাছি এ সবকিছুই আমার হুকুমে করে।”

১৩. সুরা নাহলের আরেক নাম সুরা 'নিয়াম'। এই সুরায় অধিক পরিমাণে আল্লাহ তাআলার নিয়ামতের আলোচনা এসেছে। তিনি যমীনকে বিছানা এবং আসমানকে ছাদ বানিয়েছেন। মানুষকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন। চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন। এতে আমাদের জন্য নানা রকমের উপকার রেখে দিয়েছেন। জন্তু তার মালিকের জন্য গর্ব এবং সৌন্দর্যের কারণ হয়। ঘোড়া, খচ্চর এবং গাধাকে মালবাহী হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যও রয়েছে।

১৪. তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন। এই বৃষ্টির মাধ্যমে যায়তুন, খেজুর, আঙ্গুর এবং অন্যান্য ফলফলাদি সৃষ্টি করেন। রাত, দিন, সূর্য, চন্দ্র এগুলোকে তিনি মানুষের খেদমতে লাগিয়ে রেখেছেন। সমুদ্র থেকে তাজা (মাছের) গোশত এবং মূল্যবান পরিধেয় অলংকারের তিনিই ব্যবস্থা করে দেন। সামুদ্রিক জলযান তাঁরই হুকুমে চলে। এতসব নিয়ামতের আলোচনার পর আল্লাহ তাআলাই বলেন: যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। (১৮)

যেখানে নিয়ামত গণনা করেই শেষ করা সম্ভব নয়, তাহলে এগুলোর শুকরিয়া আদায় করতে পারা তো সুদূরপরাহত বিষয়।

১৫. এই সুরায় একটি ব্যাপক অর্থবোধক আয়াত আছে, যার ব্যাপারে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন- কুরআনে কারীমের এই আয়াত ভালোমন্দ সম্পর্কিত সবচে ব্যাপক আয়াত। এই আয়াত শুনে ওয়ালিদ বিন মুগীরার মতো ইসলামের বড় শত্রুও ইসলামের প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছে। এর ব্যাপকতার কারণেই উমার ইবনে আবদুল আযীয রাহ,র যামানা থেকে এটি প্রত্যেক খতিব জুমুআর খুতবায় পড়েন। এটি সুরা নাহলের ৯০ নং আয়াত।

১৬. এই আয়াতে তিন বিষয়ের হুকুম দেয়া হয়েছে এবং তিন বিষয় হতে নিষেধ করা হয়েছে। ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়স্বজনকে দান করার আদেশ দেন। অশ্লীলতা, অসঙ্গত তথা শরীয়ত বিরোধি কাজ এবং অবাধ্যতা তথা সীমালঙ্ঘনমূলক কাজ থেকে বারণ করেন।

এক. আদল তথা ন্যায়পরায়ণতার হুকুম ব্যাপক। বিধিবিধান এবং লেনদেনেও আদল জরুরি। ফরয এবং ওয়াজিবেও আদল জরুরি। সন্তানের সঙ্গে, স্ত্রীদের সঙ্গে, খাদেম এবং অধিনস্থদের সঙ্গে, বন্ধু এবং শত্রুর সঙ্গেও সুবিচার জরুরি।

দুই. প্রত্যেক ভালো কাজের নামই এহসান। এহসান তথা সদাচরণের সম্পর্ক আল্লাহর সাথেও সম্প্রদায় এবং গোত্রের সঙ্গেও। এমনকি প্রানীদের সাথেও সদাচরণ করার হুকুম এসেছে।

তিন. এমনিতেই তো প্রত্যেক আর্ত-পীড়িত মানুষের সাহায্য করা উচিত। কিন্তু আত্মীয়দের সহযোগিতা করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যাবে।

চার. ওই গোনাহের কাজ, যা করা যে গোনাহ এবং অপরাধ, সেটি একেবারে পরিষ্কার। কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। এমন কাজকে ফাহশা বলে। যেমন যিনা, সমকামিতা, মদ্যপান, জুআ খেলা।

পাঁচ. মুনকার বলা হয় এমন গোনাহ যা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় এবং মন থেকে ঘৃণা জন্মে।

ছয়. বাগি বলা হয়, মানুষের ইজ্জত, সম্ভ্রম এবং তাদের সম্পদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা।

১৭. হালাল ভক্ষণ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর হারাম যেমন, মৃত, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা জবাইকালে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, সেগুলো হতে নিষেধ করা হয়েছে।

১৮. সুরার শেষের দিকে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রশংসা করা হয়েছে যে, তিনি জীবনভর তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও মিল্লাতে ইবরাহিমের উপর চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১৯. দাওয়াতের মূলনীতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হচ্ছে, আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বলে, বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দযুক্ত পন্থায়। (১২৫)

২০. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলমানদের প্রতি এও নির্দেশ দেয়া হলো যে, প্রতিশোধ গ্রহণ করতে হলে এ পরিমাণ করবে, যে পরিমান তারা তোমাদের কষ্ট দিয়েছে। এর বেশি নয়। আর ধৈর্য ধরলে, সেটাই হবে উত্তম।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
৭ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৪র্থ তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৩য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

২য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১০ম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও