১০ম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বিষয় :

১০ম তারাবীহ

সাত রমযান

তারাবীহ’র আলোচনা

আজকের তারাবীহ

সূরা ইউসুফ

সূরা রা’দ

সূরা ইবরাহীম

১৩ পারা

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

১০ম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

মুফতী জিয়াউর রহমান ৬:১৫ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

১০ম তারাবীহ: তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

দশম তারাবীহ অনুষ্ঠিত হবে আজ। আজকের তারাবীহতে সূরা ইউসুফের ৫৩ থেকে সূরার শেষ ১১১ আয়াত পর্যন্ত এবং পূর্ণ সূরা রাদ ও সূরা ইবরাহীম পড়া হবে। পারা হিসাবে আজ পড়া হবে ১৩তম পারা। আজকের তারাবীহতে পঠিতব্য অংশের সারসংক্ষেপ আলোচনা তুলে ধরা হলো।

সূরা ইউসুফে বর্ণিত ঘটনা থেকে শিক্ষণীয় উপদেশমালা

আল্লাহ তাআলার উপর পরিপূর্ণ ঈমান এবং আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে দৃঢ়তা থাকলে মুসিবত সহ্য করা এবং সম্ভ্রমের হেফাজত করা সহজ হয়ে যায়।

মুমিনের জন্য উচিত হলো, সংকট এবং পেরেশানির সময় কেবল আল্লাহ তাআলার প্রতি মনোনিবেশ করা। আযীযে মিসরের স্ত্রীর পক্ষ থেকে কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় জেলের হুমকি পেয়েও তিনি গোনাহে জড়িত হওয়ার স্থলে গ্রেফতারিকেই প্রাধান্য দিলেন। বললেন- হে পালনকর্তা! তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহবান করে, তার চাইতে আমি কারাগারই পছন্দ করি।

সত্যিকার আল্লাহর পথের দাঈ চরম কঠিন এবং পেরেশান হালতেও দাওয়াতের যিম্মাদারি থেকে গাফেল হন না। ইউসুফ আলাইহিস সালাম জেলে থেকেও দাওয়াত, তাবলীগ ও ইসলাহি কার্যক্রমের মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া হতে দেন নি। যারা তাঁর কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে এসেছিল, তাদেরকেও প্রথমে তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছিলেন, তারপর স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলেছিলেন। বর্ণিত আছে, ইউসুফ (আ.) এর দাওয়াতের প্রভাবে জেলের সবাই ঈমান নিয়ে এসেছিল। এমনকি মিসরের সম্রাট পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছিল।

ইউসুফ আলাইহিস সালাম তারবিয়াত ও উত্তম দীক্ষা পেয়েছেন এমন মহান বাবার হাত ধরে, যিনিসহ নবুওয়তের ধারাবাহিকতা তাঁর পূর্বপুরুষ থেকে চলে আসছিল। পূর্বপুরুষের দৃষ্টান্তহীন আখলাক ও দীক্ষা তিনি পরিপূর্ণভাবেই পেয়েছিলেন। যার কারণে কঠিন মুসিবত সামনে আসার পরও তা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। যার কারণে বাহ্যিক ও সাময়িক প্রতিকূল পরিস্থিতির পর মর্যাদাপূর্ণ জীবন লাভ হয়েছে।

প্রত্যেক মুসলমানের জন্য, বিশেষত দাঈ’র জন্য নিজের চারিত্রিক নিষ্কলুষতা অপরিহার্য। ইউসুফ আলাইহিস সালাম কয়েকবছর জেল খাটার পরও নিষ্কলুষ এবং বেকসুর ঘোষণা না পেয়ে জেল থেকে বের হতে চান নি। যাতে মানুষ এই বলে নিন্দা করার সুযোগ না পায় যে, নাউযুবিল্লাহ তিনি মুচলেকা দিয়ে জেল থেকে বেরিয়েছেন। এজন্যে নির্দোষ ঘোষিত হওয়ার খুব প্রয়োজন ছিলো।

ইউসুফ (আ.) এর ঘটনাবহুল জীবনের আদ্যোপান্ত পর্যালোচনা করলে কেবল ধৈর্য আর ধৈর্যের ফযীলত এবং সুফলের শিক্ষা পাওয়া যায়। সর্বোত্তম ফলাফল ভোগের দৃঢ় বিশ্বাস এবং ইয়াকীন জন্ম নেয়। ইয়াকুব (আ.) এর পুত্র-বিয়োগের পর ধৈর্য, ইউসুফ (আ.) এর কূপের গভীরে নিক্ষিপ্ত হওয়া থেকে নিয়ে জেলে বন্দী হওয়া পর্যন্ত, আযীযে মিসরের ঘর থেকে নিয়ে ভাইদের ক্ষমা করা পর্যন্ত সব জায়গায় ধৈর্যকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন। এই ধৈর্যের সুফলও কারো কাছে গোপন নয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ধৈর্য হচ্ছে, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চাবিকাঠি। আল্লাহ তাআলার রহমত এবং সাহায্যপ্রাপ্তির মাধ্যম।

আল্লাহ তাআলা যদি কাউকে কষ্টে নিপতিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন, তাহলে সেই ফয়সালা এবং তাকদীরকে কেউ টলাতে পারবে না। আর কারো জন্যে কল্যাণ এবং সম্মানের ফয়সালা করলে সেটাও কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

সূরা ইউসুফের একেবারে শেষের দিকে আল্লাহ তাআলা বললেন: পূর্ববর্তী লোকদের এ কাহিনীর মধ্যে বুদ্ধি ও বিবেচনা সম্পন্ন লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। এখান থেকে সূক্ষ্মভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সুসংবাদের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যেমন আল্লাহ তাআলা যেভাবে ইউসুফ আলাইহিস সালামকে গভীর কূপ থেকে উঠিয়ে নবুওয়াত দিয়েছেন, রাজ্যের সিংহাসনে বসিয়েছেন, প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে রয়েছে যে, রাসূলে আকরাম (সা.)কেও আল্লাহ তাআলা সম্মানিত করবেন এবং তাঁর আনীত দ্বীনকে অন্য সমস্ত দ্বীনের উপর বিজয়ী করবেন। পরে সেই সুসংবাদ বাস্তবায়নের বিষয়টি তো বিশ্ববাসী দেখেছেই।

সূরা রা’দ
সূরা রা’দ মক্কায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ৪৩ টি আয়াত ও ৬ টি রুকু রয়েছে। রা’দ অর্থ: বজ্র। যেহেতু এই সূরায় বজ্রও তার সৃষ্টিকর্তার তাসবিহ পাঠ করার কথা এসেছে, তাই এর নামকরণ ‘রা’দ’ করা হয়েছে। এই সূরায় প্রথমে তিনটি মৌলিক আকিদা- তাওহিদ, রিসালাত এবং আখেরাতের আলোচনা এসেছে। মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সম্পর্কিত বিষয় সন্নিবেশিত হয়েছে। একটি লক্ষণীয় সূক্ষ্ম বিষয় হলো, যে সূরার শুরুতেই হুরূফে মুকাত্তা’আত আসে, সেই সূরা শুরু হয় কুরআনের সত্যতা সম্পর্কিত আলোচনা দ্বারা। যাতে কুরআন বিরোধীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ পাকাপোক্ত হয় এবং তাদের অক্ষমতা স্পষ্ট হয়।

সূরার শুরুতে আল্লাহর অস্তিত্ব এবং একত্ববাদের দলিলাদি বর্ণনা করা হয়েছে। আসমান-যমীন, সূর্য-চন্দ্র, রাত-দিন, পাহাড়-নদী, ফলফলাদি, বিভিন্ন রঙের সুস্বাদু এবং সুবাসযুক্ত ফলের স্রষ্টা তো তিনিই। জীবন-মৃত্যু, উপকার-অপকার সবই তাঁর হাতে।

অনেক ভূমিখণ্ড পরস্পর সংলগ্ন হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যে বিভিন্নরূপ। কোনোটি উর্বর ও কোনোটি অনুর্বর, কোনোটি নরম ও কোনোটি শক্ত এবং কোনোটি শস্যের উপযোগি এবং কোনোটি বাগানের উপযোগি। এসব ভূখণ্ডে রয়েছে আঙ্গুরের বাগান, শস্যক্ষেত্র এবং খেজুরবৃক্ষ। (১-৪)

কিয়ামতের দিনে পুনরুত্থান এবং প্রতিদান দিবসকে প্রমাণিত করা হয়েছে। এই বিষয়টি মুশরিকদের বুঝে আসে না। অথচ তারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। আসমান-যমিনের স্রষ্টা হিসেবে আল্লাহকে স্বীকার করে। কিন্তু মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের বিষয়টি অস্বীকার করে ফেলে। আল্লাহ তাআলা তাদের অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন-

আর যদি আপনি বিস্মিত হন, তবে বিস্ময়ের বিষয় তাদের কথা: ‘মাটিতে পরিণত হওয়ার পরও কি আমরা নতুন জীবন লাভ করব?’ এরাই তারা, যারা তাদের রবের সাথে কুফরী করেছে। (৫)

আল্লাহ তাআলা এমন কিছু ফেরেশতা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন, যারা আল্লাহর হুকুমে মানুষের হেফাজতের দায়িত্ব পালন করেন।

একটা মূলনীতি হচ্ছে, আল্লাহ ততক্ষণ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ স্বয়ং তারাই নিজেদের অবস্থা কাজকর্ম মন্দ ও অশান্তিতে পরিবর্তিত করে না নেয়। কোনো সম্প্রদায় যদি নিজ থেকে নিয়ামত এবং সমৃদ্ধির পরিবর্তে মুসিবত এবং সংকটে জর্জরিত হওয়ার উপযুক্ত হয়ে যায়, তাহলে সেটাই তাদের প্রাপ্তি হবে। তাই সম্মান প্রাপ্ত হতে হলে অপমানের উপকরণ ত্যাগ করতে হবে। ভাগ্য পরিবর্তন হতে হলে দুর্ভাগ্যের উপকরণ ছাড়তে হবে।

বাতিলকে আল্লাহ তাআলা ওই ফেনারাশির সঙ্গে তুলনা করলেন, যা বাহ্যত সব জিনিসকে ঢেকে দেয়। কিন্তু শেষতক শুকিয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। হক এবং হকের ঝাণ্ডাবাহী কাফেলাকে ওই সোনা-রোপার সঙ্গে তুলনা করলেন, যা জমিনের উপর ভেসে থাকে। তারপর আগুনের প্রক্রিয়ায় খাঁটি সোনায় পরিণত হয়ে যায়। খাদসমূহ তা থেকে পৃথক হয়ে যায়। দেখা যাচ্ছে দুনিয়াব্যাপী বাতিলের ফেনারাশি উথলে উঠেছে। নিজ থেকেই তা অবদমিত হয়ে যাবে। তবে শর্ত হচ্ছে, তার মোকাবেলায় হকের উপর হকের ঝাণ্ডাবাহী কাফেলা দাঁড়িয়ে যেতে হবে। কিন্তু বাস্তবে হক-বাতিলের মাখামাখি প্রায় সর্বত্র দৃশ্যমান। স্বাতন্ত্র্য এবং দ্বীনি গায়রতবোধ আমাদের থেকে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।

তাকওয়াবান এবং সত্যিকার বুদ্ধিমানগণের আটটি গুণাগুণ বিবৃত হয়েছে-

এক. তারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পুরা করে, অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।
দুই. যে স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্কের বন্ধন অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, সেটা তারা রক্ষা করে।
তিন. স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে।
চার. পরকালীন হিসাব-নিকাশের ভয় করে।
পাঁচ. আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষে ধৈর্যধারণ করে।
ছয়. নামায কায়েম করে।
সাত. আল্লাহর দেয়া সম্পদ হতে গোপনে এবং প্রকাশ্যে খরচ করে।
আট. উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্ব্যবহারের জবাবদেয়। (২০-২৪)

এর বিপরীত দুর্ভাগা লোকদের তিনটি উল্লেখযোগ্য আলামত হচ্ছে, প্রথমত আল্লাহর প্রতিশ্রুতি তারা ভঙ্গ করে। দ্বিতীয়ত আল্লাহ যে আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্কের বন্ধন বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, তারা সেটা বজায় না রেখে ছিন্ন করে দেয়। তৃতীয়ত তারা ভূপৃষ্ঠে ফাসাদ সৃষ্টি করে।

নবীগণও অন্য মানুষদের মতোই মানুষ এই হিসেবে যে, তাঁদেরও স্ত্রী-সন্তান হন। যে মু’জিযা তাঁদের থেকে সংঘটিত হয়, তা তাদের নিজস্ব কোনো কৃতিত্ব নয়; বরং আল্লাহর হুকুমেই তা সংঘটিত হয়। তাদের তো নবুওয়তের স্তর সম্পর্কে ধারণা নেই, যার কারণে নবী মানুষ হওয়ার কারণে তারা অস্বীকার করে ফেলল।

সূরার শেষদিকে আল্লাহ তাআলা নিজেই স্বীয় নবীর নবুওয়াত এবং রিসালাতের সাক্ষ্য দিলেন। ঠিক তদ্রূপ আহলে কিতাবের নবুওয়তেরও সাক্ষ্য দিলেন।

সূরা ইবরাহীম
সূরা ইবরাহীম মক্কায় অবতীর্ণ সূরা। এতে ৫২ আয়াত এবং ৭ টি রুকু রয়েছে। এই সূরার শুরুতেও হুরূফে মুকাত্তা’আত এসেছে এবং নিয়ম মোতাবেক কুরআনে কারীমের আলোচনা করা হয়েছে। কুরআন নাযিলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে- এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।

সূরা ইবরাহীমে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলোর আলোচনা এসেছে-

এক. তিন মৌলিক আকিদা তথা তাওহিদ, রিসালাত এবং পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসের উপর ঈমান আনয়নের আলোচনা।
দুই. কাফিরদের নিন্দা ও তাদের ঠিকানা জাহান্নাম এবং মুমিনদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা।
তিন. রাসূলে আকরাম (সা.)কে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হয়েছে যে, পূর্বেকার আম্বিয়ায়ে কেরামকে তাঁদের কওমের লোকেরা অস্বীকার, প্রত্যাখ্যান এবং শত্রুতার নীতি গ্রহণ করেছিল, যেমনটা আপনার কওমের লোকেরা আপনার সঙ্গে করছে।

তাওহিদ এবং আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের ব্যাপারে মুশরিকরা সন্দেহ পোষণ করে। বলা হচ্ছে, হে আল্লাহর বান্দারা! যিনি আসমান-যমীন সৃষ্টি করেছেন, তাঁর ব্যাপারে তোমরা সন্দেহ করছ?

আল্লাহ তাআলার মাখলুকাতের প্রতিটা কণা ও তার নড়াচড়ার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য। সূর্য উদিত হলে দিনের ব্যাপারে যেমন কারো সন্দেহ থাকে না, ঠিক তদ্রূপ আল্লাহর সৃষ্ট মাখলুকাতের প্রতি গভীরভাবে তাকালে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণে আলাদা দলিলের প্রয়োজন নেই।

মুশরিকদের ধারণা ছিলো মানুষ নবী হতে পারেন না। নবীগণ জবাব দিলেন, নিঃসন্দেহে আমরা মানুষ। মানুষ নবী হওয়া অসম্ভব কিছু না। রাসূল তো বলা হয়, যাঁর উপর ওহী নাযিল হয়। আমাদের উপরও ওহী নাযিল হয়। আল্লাহ তাআলার বিধি এটাই যে, মানুষের নিকট কোনো মানুষকেই নবী হিসেবে প্রেরণ করবেন।

আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতি এবং নিয়ম হলো, তিনি শুকরিয়া আদায়কারীদের নিয়ামত বাড়িয়ে দেন এবং অকৃতজ্ঞদের কঠিন শাস্তি দেন।

এই সূরায় হযরত ইবরাহীম (আ.) এর ওই দুআ বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তিনি বায়তুল্লাহ নির্মাণের পর মক্কা এলাকা, মক্কাবাসী, স্বীয় সন্তানাদি এবং খান্দানের মানুষদের জন্য করেছেন। এই দুআয় তিনি নিরাপত্তা, রিযিক, এই শহরের প্রতি মানুষের অন্তরের আকর্ষণ সৃষ্টি, নামায কায়েম করা এবং মাগফিরাতের বিষয় উল্লেখ ছিলো।

ঈমানের কালিমাকে পবিত্র বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যার শিকড় মজবুত এবং ফল মিষ্টি হয়। আর মন্দ কালিমার তুলনা করলেন মন্দ গাছের সঙ্গে, যা নড়বড়ে এবং নিষ্ফল হয়।

সূরা ইবরাহিমের শেষদিকে কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা এবং জাহান্নামের ভয়ঙ্কর শাস্তির কথা আলোচনা করা হয়েছে।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
৭ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৪র্থ তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
৩য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

২য় তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা
১ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা