১ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

১ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

শাইখ জিয়াউর রহমান ১:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ০৭, ২০১৯

১ম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

পবিত্র রমযানুল মোবারকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল খতমে তারাবীহ। আমাদের দেশের অধিকাংশ মসজিদে ২৭ রমযান পর্যন্ত মোট ২৭ টি তারাবীহতে পূর্ণ কুরআন খতম করা হয়। প্রথম ছয় তারাবীহতে দেড় পারা করে মোট ৯ পারা পড়া হয়। পরবর্তী ২১ তারাবীহতে এক পারা করে বাকি ২১ পারা পড়া হয়। এভাবে ২৭ দিনে ৩০ পারা তথা এক খতম কুরআন পড়া হয়। আমাদের তারাবীহ আদায় যেন নিষ্প্রাণ প্রথাপালন না হয়ে বরং হয় কালামুল্লাহের উপলব্ধির সাথে- এ উদ্দেশ্যে ইনশাআল্লাহ, পরিবর্তন ডট কমের পাঠকদের জন্য প্রতিদিনের তারাবীহতে পঠিতব্য অংশের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হবে।

আজ ১ম প্রথম তারাবীহ। আজকের তারাবীহতে দদেড় পাড়া তথা প্রথম পারার সূরা ফাতেহা থেকে শুরু করে ২য় পারার দশম পৃষ্ঠার শেষে সূরা বাকারার ২০৩ নং আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে।

১ম পারা

সুরা ফাতেহা। ৭ আয়াত বিশিষ্ট মক্কায় অবতীর্ণ সুরা। এই সুরাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও পবিত্র কুরআনের মৌলিক বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্তাকারে ফুটে ওঠেছে। এ জন্যে এই সুরাকে “উম্মুল কুরআন” এবং “আসাসুল কুরআন”ও বলা হয়। অর্থাৎ কুরআনের মৌলিকত্বের দিক দিয়ে এই সুরা কুরআনের ভূমিকা এবং সারবস্তু।

কুরআনে কারীমের মৌলিক বিষয়বস্তু তিনটি। এক, তাওহীদ। দুই, রিসালত। তিন, কিয়ামত। এই সুরার প্রথম দুই আয়াত এবং চতুর্থ নং আয়াতে তাওহীদ সম্পর্কিত আলোচনা এসেছে। তৃতীয় আয়াতে কিয়ামতের আলেচনা। পঞ্চম এবং ষষ্ঠ আয়াতে নবুওয়াত এবং রিসালতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার নাম এবং গুণাবলির আলোচনা। আমরা তাঁরই ইবাদত করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই। তাঁর কাছে হেদায়াতের উপর দৃঢ় থাকার দুআ করি।

একদিকে নবীগণ এবং নেক বান্দাগণের আলোচনা। অপরদিকে ওই সম্প্রদায়ের পথ থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ যারা নিজেদের গোঁয়ার্তুমির কারণে আল্লাহ তাআলার আযাব এবং গজবের উপযুক্ত হয়ে গেছে।

সুরা ফাতেহা এমন এক সুরা যেখানে রয়েছে নজিরবিহীন দুআ এবং আল্লাহ তাআলার মা'রিফতের বিস্ময়কর ভাণ্ডার ও কুরআনি জ্ঞানের এমন স্বচ্ছ আয়না, যেখানে ১১৩ টি সুরার ঝলক আমরা একটি সুরার মধ্যে সংক্ষিপ্তাকারে দেখতে পাই। তাই তো এই ঝলক বারবার দেখানোর জন্যে প্রত্যেক নামাযের প্রত্যেক রাকআতে সুরা ফাতেহা পাঠের হুকুম করা হয়েছে।

সুরা বাকারা। কুরআনে কারিমের সবচে দীর্ঘতম সুরা। যেখানে ২৮৬ টি আয়াত রয়েছে। সুরা বাকারার বেশিরভাগ অংশ মদিনায় হিজরতের শুরুর দিকে নাযিল হয়েছে। বাকারা মানে গাভী। যেহেতু এই সুরায় বাকারা শব্দ এসেছে এবং গাভী জবাইয়ের ঘটনাও আলোচিত হয়েছে, তাই এই সুরার নাম 'বাকারা' নামকরণ করা হয়েছে।

বনি ইসরাইলের এক বিত্তশালী ব্যক্তিকে তার ভাতিজা মিরাস সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার লোভে হত্যা করে ফেলল। রাতের অন্ধকারে আরেকজনের দরোজায় লাশটি ফেলে রাখল। হত্যার দায় ওই ঘরের লোকটির উপর চাপানোর লক্ষে তার উপর হত্যার অভিযোগ আরোপ করল। এমনকী মূল হত্যাকারী এবং মিথ্যা অভিযুক্ত ব্যক্তির পরস্পর গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব বেড়ে অস্ত্র ধারণের উপক্রম হয়ে গেলো। কিন্তু আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা (আ.) এর মাধ্যমে তাদের একটি গাভী জবাই করে তার থেকে কিছু গোশত নিহত ব্যক্তির শরীরে স্পর্শ করানোর হুকুম দিলেন। এমনটা করতেই নিহত ব্যক্তি জীবিত হয়ে বসে পড়ল। এবং সে তার খুনির পরিচয় দিয়ে দিলো। ঘটনাক্রমে এ সময়েই বনি ইসরাইলের কিছুসংখ্যক মানুষ মৃত্যুপরবর্তী জীবন সম্পর্কে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। মানে তারা পরকালে অবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিল। নিহত ব্যক্তি জীবিত হওয়ার দ্বারা শুধু তার খুনির পরিচয়ই মেলে নি, বরং মৃত্যুপরবর্তী জীবনের উপর এক দলিলও খাড়া হয়ে গেলো। তাছাড়া দীর্ঘদিন মিশরিদের সঙ্গে বসবাসের কারণে গাভীর প্রতি বনি ইসরাইলের যে একটা শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছিল, জবাই করার হুকুম আসার কারণে সেটা দূর হওয়ার প্রেক্ষাপটও তৈরি হয়ে গেলো। গাভী 'মা' অথবা শ্রদ্ধার কোনো বস্তু হলে আল্লাহ তাআলা জবাই করার নির্দেশ দিতেন না।

এই সুরার শুরুতে রাসুল (সা.) এর চিরস্থায়ী মু'জিযা কুরআনে কারিমের আলোচনা এসেছে। যদিও ইন্দ্রিয়যুক্ত ও বস্তুগত অনেক মু'জিযা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু রাসুল (সা.) এর সবচে বড় মু'জিযা ছিলো ইলমি তথা জ্ঞানগত। এই সুরা শুরু হয়েছে হুরুফে মুকাত্তায়াত 'الم' দ্বারা। শুরুর এই নিয়ম আরবি ভাষাভাষিদের কাছে অপরিচিত ছিলো। এর দ্বারা তাদের মনোযোগ আকর্ষণ উদ্দেশ্য ছিলো। যার কারণে তারা কুরআনের প্রতি মনোযোগ প্রদানে বাধ্য হয়ে পড়ল। কুরআনে কারিমের যে সমস্ত সুরাই হুরুফে মুকাত্তায়াত দ্বারা শুরু হয়েছে, সেখানেই কুরআনের মহত্ব, সত্যতা, অলৌকিকত্ব ও হক্কানিয়াতের আলোচনা হয়েছে। এ জন্যে উলামায়ে কেরামের বড় এক অংশের রায় হলো, হুরুফে মুকাত্তায়াত এনে মূলত এই কুরআনকে মানুষের বানানো আখ্যা দানকারিদের চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে যে, বাস্তবেই যদি এই কুরআন রাসুল (সা.) এর নিজস্ব কথা হতো, তাহলে তোমরা এই অক্ষরগুলো দিয়ে- যে অক্ষরগুলো তোমরা সারাক্ষণ ব্যবহার কর- এমন কালাম বানিয়ে নাও। তোমাদের তো তোমাদের শুদ্ধতা চর্চা ও কথাসাহিত্য নিয়ে অনেক গর্ব ও অহংকার, যার কারণে তোমরা নিজেদের মোকাবেলায় অনারব সকল মানুষকে আজম (বোবা, বাকহীন) বল। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী না আগের কাফেররা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে, না হাল যামানার কাফেররা গ্রহণ করেছে। না কেয়ামত পর্যন্ত কেউ এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

মানুষ তিন মানুষ তিন প্রকারের : মুমিন, কাফির, মুনাফিক
মুমিনদের পাঁচ গুণাগুণ:
১. গায়েবের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। অর্থাৎ ওই সমস্ত বাস্তব সত্য বিষয়ের উপর ঈমান আনা, যেগুলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। যেমন জান্নাত, জাহান্নাম, হাশর কিয়ামত, আমলের হিসাব প্রভৃতি।

২. নামায কায়েম করা। অর্থাৎ নামাযের সমস্ত শর্তাদি ও আদবের প্রতি খেয়াল রেখে যথাযথ নিয়মে আদায় করা।

৩. যাকাত আদায় করা। কুরআনে কারিমে সাধারণভাবে নামায এবং যাকাতের আলোচনা একসঙ্গেই এসেছে। কেননা নামায আল্লাহর হক আর যাকাত বান্দার হক। আর একজন মুমিনের ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এই দুই প্রকারের হক আদায় না করবে।

৪. ওই সমস্ত আসমানি কিতাবের উপর ঈমান আনা, যেগুলো যুগে যুগে বিভিন্ন নবি ও রাসুলগণের উপর নাযিল হয়েছিল।

৫. পরকালকে এমন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা, যেখানে সন্দেহের সামান্যতম সংমিশ্রণ নেই।

আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের আলোচনা ৪ টি আয়াতে এবং কাফিরদের আলোচনা ২ আয়াতে করেছেন। আর ১৩ টি আয়াতে মুনাফিকদের ১২ টি আলামতের বর্ণনা দিয়েছেন। মুসলমানদের জন্যে জরুরি হলো এই মন্দ অভ্যাসগুলো থেকে নিজেদের হেফাজত করা। এই আলামত ও মন্দ অভ্যাসগুলো হলো- মিথ্যা বলা, ধোকা দেওয়া, অনুভূতিহীন হয়ে যাওয়া, অন্তরের রোগসমূহ (হিংসা, অহংকার, লোভ ইত্যাদি), প্রতারণা ও শঠতা, নির্বুদ্ধিতা, আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত বিধিবিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা, জমিনে ফিতনা-ফাসাদ করা, মূর্খতা, গোমরাহি ও ভ্রষ্টতা, ঈমানদারদের নিয়ে মশকরা করা।

অভিশপ্ত ইবলিসের সঙ্গে হযরত আদম ও হযরত হাওয়া আলাইহিমাস সালামের কাহিনি মূলত সমগ্র মানবকুল ও দুনিয়ার ইতিহাসের পুরো কাহিনি এটাই। এই ঘটনা হক ও বাতিলের, ভালো-মন্দের চিরন্তন দ্বন্দ্বের একটি রূপরেখা চিত্রিত করেছে। এই ঘটনা হযরত আদম (আ.) এর সেই উঁচু মর্যাদার কথাই বলে, যা এই জমিনের খেলাফতি বা প্রতিনিধিত্ব অর্জনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। হযরত আদম (আ.)কে এমন ইলম দ্বারা ভূষিত করা হয়েছে, যা ফেরেশতাগণের ছিলো না। তাই ফেরেশতাদেরকে আদম (আ.) এর সামনে সিজদা করার হুকুম দেয়া হয়েছে। খেলাফতের মহান দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ার কারণে আদম সন্তান এ বিষয়ের উপর আদিষ্ট যে, তারা এই জমিনে আল্লাহর বিধান প্রবর্তন করবে। দুনিয়াবি বিষয়াবলী সেভাবেই পরিচালনা করবে, যেভাবে আল্লাহ তাআলা চান।

কুরআনে কারিমের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলের আলোচনা করেছেন। তন্মধ্যে সুরা বাকারার প্রথম পারা তো প্রায় পুরাই তাদের আলোচনায় ভরপুর। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, দীনি ও দুনিয়াবি নিয়ামতরাজি প্রদান করেছেন, সেসবের আলোচনা। যেমন, তাদের মাঝে সর্বাধিক নবি প্রেরণ করেছেন। জাগতিক সমৃদ্ধি দান করেছেন। তাওহিদের আকিদা ও ঈমানের নিয়ামত দান করেছেন। ফেরাউনের যুলুম-নির্যাতন থেকে নিষ্কৃতি দান করেছেন। হযরত মুসা (আ.) এর নেতৃত্বে মিশর হিজরতের প্রাক্কালে ফেরাউন যে ধাওয়া করেছিল, তখন সমুদ্রে রাস্তা তৈরি করে দিলেন। আর যালিম ও নিপীড়ক গোষ্ঠীকে তাদের সৈন্য-সামন্তসহ সমুদ্রের তলদেশে চিবিয়ে মারলেন।

বনি ইসরাইল সিনা উপত্যকায় অত্যন্ত সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় ছিলো। আল্লাহ তাআলা তাদের আহার্য হিসেবে 'মান ও সালওয়া' এবং ছায়া হিসেবে শীতল মেঘমালার ব্যবস্থা করে দিলেন। তৃষ্ণা নিবারণের জন্যে পানির প্রয়োজন দেখা দিলো, তখন পাথর থেকে ১২ টি প্রবাহমান নদি সৃষ্টি করে দিলেন। কিন্তু তারা এসবের শুকরিয়া আদায় করল না, বরং লাগাতার নিয়ামতরাজির অকৃতজ্ঞতার রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ল। তারা সত্যকে লুকালো। শেষ নবি (সা.) এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করল। বাছুরকে মা'বুদ বানিয়ে নিলো। সিনা উপত্যকায় ধৈর্যহীনতা ও লোভ-লালসা প্রদর্শন করল। আরীহা শহরে অবনত মস্তকে প্রবেশ করার নির্দেশ থাকলেও তারা অহংকার বেশে প্রবেশ করল।

তারা আম্বিয়ায়ে কেরামকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তারা আল্লাহর কালামে শাব্দিক এবং অর্থগত বিকৃতি এনেছিলো। শরীয়তের কোনো বিধানের উপর ঈমান রাখত, আর কোনো বিধান অস্বীকার করত। তারা হিংসা-বিদ্বেষের রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলো। সীমাহীন দুনিয়ার মহব্বত ছিলো তাদের ভেতর। আল্লাহ তাআলার নৈকট্যশীল ফেরেশতাদের বেলায় তারা বিরূপ ধারণা পোষণ করত। যাদু ও তন্ত্রমন্ত্রতে তারা আগ্রহি ছিলো। তাদের কাছে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি এবং অবৈধ সম্পর্ক সৃষ্টিকারী বিদ্যার খুবই গ্রহণযোগ্যতা ছিলো। বদ-দীনি ও বেআমলি সত্ত্বেও তারা জান্নাতের একক ঠিকাদার হওয়ার দাবি করত। তারা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলত, জান্নাতে কেবল ইহুদিরাই যেতে পারবে। একই দাবি খ্রিস্টানরাও করত। তারা বলত, আমরাই কেবল হকের উপর রয়েছি। আমাদের বিরোধিদের কাছে কোনোই দলিল নেই।

ইহুদিদের উপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও নিয়ামতরাজির আলোচনা এবং তাদের অকৃতজ্ঞতা ও নাফরমানির বিবরণের পর হযরত ইবরাহীম (আ.) এর আলোচনা এসেছে। যাঁর মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বের বিষয়টি ইহুদি খ্রিস্টানরাও স্বীকার করে। এবং গর্বভরে তাঁর সঙ্গে তাদের সম্বন্ধের দাবি করে। অথচ তারা যদি তাদের দাবিতে সত্য হতো, তাহলে তারা অবশ্যই রাসুল (সা.) এর অনুসারি হতো। কেননা আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহীম (আ.)কে নানা রকমের পরীক্ষায় ফেলেছেন। কিন্তু তিনি সব পরীক্ষায় সর্বোত্তমভাবে কৃতকার্য হয়েছেন। পিতার মূর্তিপূজা থেকে নিজের সম্পর্কহীনতা, নিজ সম্প্রদায়ের অত্যাচার, নমরুদের সঙ্গে বাদানুবাদের সময়, অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপের ঘটনা, নিজ ভূমি থেকে হিজরত, ছেলে এবং স্ত্রীকে খাদ্য ও পানিশূন্য এলাকায় রেখে আসার নির্দেশনা পাওয়া, নিজের একমাত্র আদরের পুত্র সন্তানকে নিজ হাতে জবাই করার হুকুম পাওয়াসহ বিরাট বিরাট সবগুলো পরীক্ষায় খলীলুল্লাহ ইবরাহীম (আ.) চূড়ান্ত অবিচলতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

এই দৃঢ়পদ থাকার বরকতেই আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআগুলো কবুল করেছেন। মক্কা শহরকে চিরস্থায়ীভাবে নিরাপদ শহর বানিয়েছেন। সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য সবরকমের ফলফলাদির ব্যবস্থা হয়েছে। ইবরাহীম (আ.) এর দুআগুলোর মধ্যে সবচে বড় যে দুআ আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন, সেটি হলো, আল্লাহ তাআলা কুরাইশ গোত্রের প্রজন্ম থেকেই আখেরি নবী, খাতামুন-নাবিয়্যীন (সা.)কে পাঠিয়েছেন।

হযরত ইবরাহীম (আ.) এর আলোচনার পর আল্লাহ তাআলা বলছেন, ইবরাহিমের মিল্লাত থেকে তারাই মুখ ফিরিয়ে নেয় যারা নির্বোধ, হতভাগা এবং প্রবৃত্তির অনুসারি। ইহুদি এবং নাসারারা নিজেদেরকে তো ইবরাহীম (আ.) এর দিকে সম্পৃক্ত করে, কিন্তু তাদের বাতিল বিশ্বাস এই ছিলো যে, দীনে হানীফ তথা ইসলামের অনুসরণে নয়, বরং নাজাত লাভ হবে ইহুদি এবং খ্রিস্টবাদের অনুসরণের মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে হুকুম দিলেন যে, আপনি মানুষদেরকে দীনে হানীফ তথা ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করুন, যে দীন সমস্ত নবি-রাসুলের ছিলো। তারা যদি সেই আহ্বানে সাড়া দেয়, দীনের দাওয়াত কবুল করে, তাহলে তো তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে। অন্যথায় তাদের এই অগ্রাহ্যতা কোনো দলিলের ভিত্তিতে হবে না, বরং জিদ এবং বিদ্বেষের ভিত্তিতেই হবে। ইরশাদ হচ্ছে-

অতএব তারা যদি ঈমান আনে, তোমাদের ঈমান আনার মত, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে। সুতরাং এখন তাদের জন্যে আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। (১৩৭)

পারা নং-২

দ্বিতীয় পারা শুরু হয়েছে কিবলা পরিবর্তনের আলোচনা দিয়ে। রাসুল (সা.) এর মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরতের পর প্রায় ১৬ মাস পর্যন্ত বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে নামায পড়তে থাকেন। কিন্তু রাসুল (সা.) এর আন্তরিক কামনা ছিলো মুসলিমদের কিবলা যেন কা'বা হয়, যা মিল্লাতে ইবরাহিমের এক প্রকাশ্য নিদর্শন ছিলো। রাসুল (সা.) এর আগের সেই আন্তরিক কামনা বাস্তবায়নের লক্ষে আল্লাহ তাআলা কিবলা পরিবর্তনের হুকুম নাযিল করলেন। এই হুকুম নাযিলের পর মুশরিক এবং মুনাফিকরা তো ভিত্তিহীন আপত্তি উঠালো, কিন্তু এ বিষয়ক আপত্তি উত্থাপনে ইহুদিরা ছিলো সবচে অগ্রগামী। ওরা যদিও বাহ্যত আশ্চর্য হয়ে বলত, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে বলত-

কিসে মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে দিলো তাদের ঐ কিবলা থেকে, যার উপর তারা ছিলো?

আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুলকে হুকুম দিলেন-

আপনি বলুন: পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। (১৪২)

ব্যস্ তাঁর ইচ্ছা যেদিকে চান, কিবলা ঠিক করে দেবেন। যেন একথা বলে দিলেন যে, সবগুলো দিকই আল্লাহ তাআলার রাজত্ব ও মালিকানার ভেতর। সত্তাগতভাবে কোনো দিকই অপরদিকের চেয়ে অধিক মর্যাদার অধিকারি নয়। তাই কিবলা হওয়ার যোগ্যতা কেবল আল্লাহ তাআলার হুকুমেই অর্জিত হয়। তাই কিবলা পরিবর্তনের ব্যাপারে ইহুদিদের অভিযোগের কোনোই বাস্তবতা নেই। আল্লাহ তাআলার দিকে মনোযোগী হওয়াই হলো আসল বিষয়। কিবলা পরিবর্তনের হুকুম দেওয়ার পর আল্লাহ তাআলা এক মহান নিয়ামতের আলোচনা করলেন, যে মহান নিয়ামত হলেন, খোদ রাসূল (সা.), যাকে আমাদের মাঝে প্রেরণ করা হয়েছে। পৃথকভাবে কিবলা নির্ধারণ যেমন আমাদের উপর আল্লাহ তাআলার বড় অনুগ্রহ, ঠিক তদ্রূপ হেদায়াতের জন্য রাসূল (সা.)কে প্রেরণও আমাদের উপর আল্লাহ তাআলার নজিরবিহীন এহসান। (১৫১)

কিবলা পরিবর্তনের আলোচনা শেষ করে উপসংহারমূলক কথা হলো, বাস্তবিকপক্ষে নেক কাজের মাপকাঠি পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মুখ ফেরানো নয়, বরং আসল নেক কাজের মাপকাঠি তো হলো আকিদা, আমাল, লেনদেনের মুআ'মালা ও চারিত্রিক সৌন্দর্যের দিক বিশুদ্ধ হওয়া। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য শুধু চেহারার দিক নয়, বরং হৃদয় এবং পুরো জীবনের দিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এ জন্য ইরশাদ হচ্ছে-

সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।(সূরা-বাকারা: ১৭৭)

ليس البر ان تولوا وجوهكم

সুরা বাকারার ১৭৭ নং আয়াত থেকে উলামায়ে কেরাম কমবেশি ১৬ টি কায়দা গ্রহণ করেছেন। এই আয়াত দ্বারা এ বিষয়টিও প্রমাণিত হয় যে, দীনে ইসলাম কেবল কতেক ধর্মীয় রসুম-রেওয়াজের নাম নয়, যা কেবল উপাসনালয় এবং খানকাহে আদায় করা হয়। বরং এই দীন জীবনের প্রত্যেক শাখার সাথে সম্পর্কিত। এই দীন সর্বত্র মানুষের জীবনের সঙ্গী। ঘরে, বাজারে, মসজিদে, মাদরাসায়, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনে সর্বত্র মুসলমানের দিকনির্দেশনা করে। মুসলমানদের জন্যও জরুরি হলো, প্রতিটা পদক্ষেপ সেই আলোকে করবে। এই আয়াতকে “আয়াতে বির” বলা হয়। এরপর যে বিধিবিধান ও মাসাইলের আলোচনা হয়েছে সেগুলোকে “আবওয়াবে বির” বলা হয়। এই বিধিবিধানে মুসলমানদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, ব্যবসায়িক জীবন, দাম্পত্য জীবন এবং জিহাদি জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছুই এসেছে। এই বিধানগুলো এখানে সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনার প্রয়াস পাবো।

১. যেহেতু জাহিলিয়াতের যামানায় সাফা-মারওয়া নামক পাহাড়ে দুটি মুর্তি রাখা ছিলো। মুশরিকরা যেগুলোর ইবাদত করত। যার কারণে ইসলাম গ্রহণের পর সাহাবায়ে কেরাম সাফা-মারওয়া প্রদক্ষিণ করা থেকে বিরত থাকতেন। তাই ১৫৮ নং আয়াতে বলা হলো, এই পাহাড়দ্বয় তাওয়াফ করতে কোনো সমস্যা নাই।

২. মুশরিকরা নিজ পক্ষ থেকে কিছু জিনিসকে হালাল আর কিছু জিনিসকে হারাম সাব্যস্ত করে নিতো। এর খণ্ডনে কুরআনে বলা হলো, (তোমাদের সাব্যস্তকৃত জিনিস হারাম নয়) আল্লাহ তাআলা তো শুধু এই জিনিসগুলোই হারাম করেছেন-

মৃত জন্তু, প্রবাহমান রক্ত, শুকরের মাংস, আল্লাহ তাআলা ব্যতিত অন্যকিছুর নাম নিয়ে জবাইকৃত পশু। অবশ্য কেউ যদি ক্ষুধায় কাতর হয়ে জান বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে উপরোক্ত জিনিসগুলোর মধ্য থেকে কোনোকিছু খেয়ে ফেলে, তাহলে গোনাহ হবে না। তবে শর্ত হলো, খাওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য স্বাদ নেওয়া হতে পারবে না এবং প্রয়োজনের বেশি হতে পারবে না। বাস্তবেই আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, দয়ালু। (১৭৩)

৩. ইসলামি শরীয়তের ভিত্তি হলো ন্যায়-ইনসাফের উপর। এ জন্য মুসলিমদের উপর কিসাস তথা নিহত ব্যক্তিকে খুন করার শাস্তিস্বরূপ হত্যাকারীকে হত্যা করা ফরয করা হয়েছে। চাই নিহত ব্যক্তি এবং হত্যাকারীর মধ্যকার সামাজিক, বংশীয়, সম্পদ এবং শরীরের দিক দিয়ে যতই ব্যবধান থাকুক না কেন। কিসাসের মধ্যে জীবন রয়েছে। হত্যাকারীরও নিহত ব্যক্তিরও। যখন হত্যাকারী নিজের শাস্তির বেলায় নিশ্চিত হয়ে যাবে, তখন সে প্রবল ক্রোধান্বিত থাকা সত্ত্বেও হত্যা করা থেকে বিরত থাকবে। এই বিরত থাকায় উভয়পক্ষ তথা পুরো বংশ খুনোখুনি থেকে বেঁচে যাবে। ইসলাম হত্যার শাস্তিতে দয়া এবং ইনসাফ উভয় জিনিসকে একত্র করে দিয়েছে। নিহত ব্যক্তির অভিভাবক এবং উত্তরাধিকারীরা যদি হত্যাকারীর কাছ থেকে কিসাস চায়, তাহলে সেটা ইনসাফ হবে। আর যদি তারা মাফ করে দেয়, অথবা দিয়ত (রক্তপণ) নেয়ার উপর সম্মত হয়ে যায়, তাহলে এটা তাদের দয়া, অনুগ্রহ এবং রহমত বলে গণ্য হবে। (১৭৮-১৭৯)

৪. সম্পদের মালিক এমন ব্যক্তির মৃত্যু ঘনিয়ে আসা অনুমিত হবে, তার জন্য জরুরি হলো, সে তার সম্পদের ওসিয়ত করবে। (১৮০)

উল্লেখ্য যে, ওসিয়ত ফরয হওয়ার এই বিধান মীরাস সম্পর্কিত আয়াত দ্বারা রহিত করা হয়েছে। তেমনি বিদায় হজ্বের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশের মাধ্যমেও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা, এর বর্ণিত হাদিসটি রহিত হয়ে গেছে। বিদায় হজ্বের বিখ্যাত খুৎবায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছিলেন-

إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ ، فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ.

অর্থ: আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকদারের হক নির্ধারিত করে দিয়েছেন। সুতরাং এখন থেকে কোনো ওয়ারিসের পক্ষে ওসিয়ত করা জায়েয নয়। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)

৫. প্রত্যেক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের উপর রোযা ফরয। রোযা যদি প্রকৃতভাবে তার সমস্ত আদাব এবং নিয়ম মেনে রাখা হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে তাকওয়া অর্জনের পাশাপাশি মানবিক অনুভূতিগুলোও জাগ্রত হবে। যে মাসে রোযা ফরয করা হয়েছে, এই মাসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ও ফযীলতও যোগ হয়েছে যে, এ মাসে কুরআনের মতো মহান কিতাবও নাযিল হয়েছে।

৬. রামাযানের রাতগুলোতে স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা জায়েয আছে, কিন্তু এ'তেকাফ অবস্থায় জায়েয নয়। (১৮৬-১৮৭)

৭. যে কোনো অবৈধ পন্থায় সম্পদ লাভ করা জায়েয নয়, চাই তা জুয়া, চুরি, অবৈধ আত্মসাত, ঘুষ কিংবা ক্রয়-বিক্রয়ের অবৈধ পন্থা হোক না কেন। (১৮৮)

৮. চান্দ্রমাসের হিসাব রাখা ফরযে কেফায়া। এবং ইসলামের শে'য়ার তথা বিশেষ নিদর্শনও। অনেক ইবাদাত চান্দ্রমাসের তারিখের সঙ্গে জড়িত এবং সম্পর্কিত।

৯. মুসলমানদের উপর জিহাদ ও কিতাল ফরয। যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করে, তোমরাও তাদের সঙ্গে লড়াই করো। তবে সীমালংঘন করো না। জিহাদের উদ্দেশ্য আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা। যেহেতু হক-বাতিল এবং ভালো-মন্দের মধ্যকার সংঘাত চিরন্তন, এজন্যে জিহাদও সবসময় ছিলো এবং থাকবে। মুসলমানদের জন্য জরুরি হলো, তারা জিহাদের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকবে এবং শত্রুর সামনে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করবে না। (১৮৯-১৯৫)

১০. ইসলামের ভিত্তিগুলোর অন্যতম ভিত্তি হলো হজ্ব। আল্লাহ তাআলা চান, পুরো দুনিয়া থেকে মুসলমান বছরে একবার মক্কাভূমিতে জমায়েত হোক। এবং সেখানে তাঁরই প্রদর্শিত পন্থায় হজ্বের আ'মাল এবং কার্যাবলি সম্পন্ন করুক। হজ্বের এহরাম কয়েকটি বিশেষ মাসে বাঁধা হয়ে থাকে। অবশ্য উমরা বছরের যে কোনো সময় আদায় করা যায়। হজ্বের দিনসমূহে ব্যবসা-বাণিজ্য জায়েয। জাহিলিয়াতের যামানায় মুশরিকরা অনেকগুলো রসুম-রেওয়াজ বৃদ্ধি করে নিয়েছিল। তন্মধ্যে একটা রেওয়াজ ছিলো যে, কুরাইশরা হজ্বের মওসুমে মুযদালিফায় থেমে যেত। আরাফায় যাওয়া তাদের জন্য মর্যাদাহানিকর মনে করত। এ জন্যই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারাও সাধারণ মানুষের মতো আরাফায় গিয়ে ফিরে আসবে। এদিকে মুশরিকরা মিনায় একত্রিত হয়ে তাদের পূর্বপুরুষের গৌরবগাথা বর্ণনা করা শুরু করে দিত।। তাদের বলা হলো, তারা যেন এর জায়গায় যিকির-আযকার করতে থাকো। (১৯৬-২২০)

এমএফ/ 

আরও পড়ুন...
বরাহে করম! তারাবীর রাকাত-সংখ্যা নিয়ে বিবাদ ছাড়ুন
কুরআন তিলাওয়াত ও তারাবীর তিলাওয়াতে আমাদের অসতর্কতা
তারাবীহ: ফাযায়েল ও মাসায়েল