শয়তান যেদিন নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করবে

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

শয়তান যেদিন নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করবে

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৮

শয়তান যেদিন নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করবে

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,  إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ لَكُمۡ عَدُوّٞ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّاۚ

“নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু, তোমরা তাকে শত্রুরূপেই গ্রহণ করো।” –সূরা ফাতির:৬

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ كَآفَّةً وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

“হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” –সূরা বাকারাহ:২০৮

এমন আরও বহু আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে শয়তান সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কিন্তু এরপরেও যারা সতর্ক হবে না, প্রবৃত্তির চাহিদা মাফিক শয়তানের অনুগামী হবে, শয়তানের প্ররোচনা ও ওয়াসওয়াসার কারণে গুনাহ করবে এবং খারাপ পথে চলবে, শয়তান হাশরের দিন এ সকল দোযখীদেরকে দেখে বলবে, তোমাদের শাস্তির জন্য আমি দায়ি নই, বরং তোমরাই দায়ী। কোরআন এ মর্মে আমাদেরকে বলে:

﴿وَقَالَ ٱلشَّيۡطَٰنُ لَمَّا قُضِيَ ٱلۡأَمۡرُ إِنَّ ٱللَّهَ وَعَدَكُمۡ وَعۡدَ ٱلۡحَقِّ وَوَعَدتُّكُمۡ فَأَخۡلَفۡتُكُمۡۖ وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيۡكُم مِّن سُلۡطَٰنٍ إِلَّآ أَن دَعَوۡتُكُمۡ فَٱسۡتَجَبۡتُمۡ لِيۖ فَلَا تَلُومُونِي وَلُومُوٓاْ أَنفُسَكُمۖ مَّآ أَنَا۠ بِمُصۡرِخِكُمۡ وَمَآ أَنتُم بِمُصۡرِخِيَّ إِنِّي كَفَرۡتُ بِمَآ أَشۡرَكۡتُمُونِ مِن قَبۡلُۗ إِنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ لَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ ٢٢ ﴾ [ابراهيم: ٢٢]

“যখন সব কাজের ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছেন এবং আমি তোমাদের সাথে ওয়াদা করে ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর তো আমার কোন ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু এতটুকু যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছি, তারপর তোমরা আমার কথা মেনে নিয়েছো। সুতরাং তোমরা আমাকে র্ভৎসনা করো না, বরং নিজেদেরকেই ভৎর্সনা করো। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্যকারী নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্যকারী নও। ইতিপূর্বে তোমরা আমাকে যে আল্লাহর শরীক করেছিলে, আমি তা অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই যারা যালেম তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদয়ক শাস্তি। (সূরা ইব্রাহীম: ২২)

আল্লাহ তাআলাও বলবেন,
وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ (59) أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَن لَّا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ، إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ (60) وَأَنِ اعْبُدُونِي، هَٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ (61) وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنكُمْ جِبِلًّا كَثِيرًا، أَفَلَمْ تَكُونُوا تَعْقِلُونَ (62) هَٰذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ (63) اصْلَوْهَا الْيَوْمَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ (64) الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَىٰ أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (65)

(৬০) হে অপরাধীরা! আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও। (৬১) হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? (৬২) এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ। (৬৩) শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি? (৬৪) এই সে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হতো। (৬৫) তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ কর। –সূরা ইয়াসীন:৬০-৬৫

আমরা যেন শয়তানের অনুসরণ না করে মহান আল্লাহর একান্ত বাধ্য ও অনুগত বান্দা হতে পারি, আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমীন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
জান্নাতের পথে প্রতিবন্ধক যে স্বভাব
দাজ্জাল ও সূরা আল-কাহফে লুকায়িত রহস্য
জাহান্নামে যাবে কারা!
কোথায় আছে জান্নাত জাহান্নাম? তা কি এখন বিদ্যমান?