সন্দেহবাদিতার এই যুগ এবং চির সত্য কুরআন

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

সন্দেহবাদিতার এই যুগ এবং চির সত্য কুরআন

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

সন্দেহবাদিতার এই যুগ এবং চির সত্য কুরআন

আধুনিক যুগ সময়ের বিচারে দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগ – বিংশ শতাব্দির সাথে যার সমাপ্তি ঘটে। সেই যুগে জ্ঞান ও চার্চের মধ্যে এক তুমুল সংঘর্ষের পর জ্ঞানের জয় হয়। আর চার্চের সাথে স্রষ্টার ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করা হয়। কেননা সেই সময় পর্যন্ত মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে গিয়েছিলো যে, “দুনিয়ার যতো অকল্যাণের জড় ধর্ম – যা থেকে আমরা জীবন ছাড়িয়ে নিয়েছি”। 

ফলে, একদিকে পশ্চিমা সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক গণ্ডিতে ধর্ম অপরিচিত হয়ে ওঠে। অপরদিকে, কমিউনিজমের বিজয়ের পর সোভিয়েত ইউনিয়নে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসকে জোড় করেই অস্বীকারের উপর ভিত্তি করে এক উৎপীড়নকর শাসনের প্রতিষ্ঠা হয়। 

তথাপি বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে দুইটি বিশ্ব যুদ্ধে মারা পড়া কোটি কোটি মানুষ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে স্টালিন কর্তৃক হত্যাকৃত কয়েক মিলিয়ন মানুষের লাশ বহনের পর মানুষের এই অনুভূতি হয় যে দুনিয়ার অবস্থা যতটা খারাপ ছিল ধর্মের সাথে, তার চেয়ে বেশি খারাপ ধর্মহীনতার পরে হয়ে গেছে। 

তাই ধর্মকে আরও একবার ব্যক্তি পর্যায়ে কবুল করে নেওয়া হয়। এবং আজকের দিন পর্যন্ত এই প্রবণতা বাড়ছে। তথাপি মানুষের বিশ্বাসে এই ধর্ম এখন কোন বাস্তবতা বা চূড়ান্ত সত্যের নাম হিসেবে নেই। এটা কেবল একটা সাংস্কৃতিক প্রকাশ – যাকে বেশি থেকে বেশি একটি মানবিক প্রয়োজন বলা যায়। 

এই ধর্মে আল্লাহকে স্বীকার করা হয়, কিছু প্রথাগত ইবাদতও আদায় করে নেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে প্রায়োগিক জীবনের কাঠামোতে তার আবশ্যিক প্রবেশ ঘটানো হয় না। অর্থাৎ, আল্লাহ আছেন তো ঠিক, কিন্তু এজন্য যে দুঃখ-দুশ্চিন্তা বা ডিপ্রেশনে তার সামনে একটু কেঁদে নেওয়া যায় এবং বিপদ-মুসিবতে তাকে একটু ডেকে নেওয়া যায়। বাকী তার কোন হুকুম সেভাবে মান্য করার প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, তবে যদি মনে চায়, যখন ইচ্ছা আর যতটুকু ইচ্ছা আল্লাহ ও ধর্মের কথা মানা যেতে পারে। এ অবস্থা ব্যক্ত করতে দর্শনের ভাষা ধার করে বলা যেতে পারে – “religion is no more a true justified belief but just a belief” অর্থাৎ, ধর্ম কোন সর্ব সম্মত প্রমাণিত সু-নিশ্চিত বিশ্বাস নয়, বরং এটা কেবলই একটা বিশ্বাস। 

অতএব, এখান থেকেই ধর্ম সঠিক কি ভুল এই আলোচনা শেষ হয়ে যায় এবং ‘সকল ধর্মই ঠিক’ এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকতা লাভ করে। ফলে লোকেরা কার্যত নয় বরং যার যার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তাকে মেনে থাকে। 

মেনেও না মানার এই অবস্থাকে ‘স্কেপ্টিসিজম’ (skepticism) বা ‘সন্দেহবাদিতা’ বলা হয়। এটা সাধারণভাবে কার্যত দুনিয়ার প্রায় সকল শিক্ষিত মানুষের অবস্থা। 

এখন পরিস্থিতি এমন যে, কিছু কট্টর মানুষ ছাড়া, অন্যদের মাঝে ধর্মের সাথে সন্দেহবাদিতা ব্যাপক হয়েছে। যাদের বৈজ্ঞানিক মতাদর্শের জ্ঞান অর্জিত হয়ে যায় অথবা যারা সেগুলো শোনার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়, তারা আল্লাহকে অস্বীকার করা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর বাকী লোকেরা জীবন এইভাবে কাটায় যে ধর্মকে কেবল নির্দিষ্ট কিছু সীমানার গণ্ডিতে আবদ্ধ মনে করে। আর তারা সেই সকল বিধানই কেবল মানে যা তাদের মর্জিমতো মিলে যায়। এর বাইরে তারা কিছুই মানার জন্য প্রস্তুত নয়।

আল্লাহ তাআলা যিনি সমস্ত মানুষের খালিক এবং মালিক, ভবিষ্যতে ঘটিতব্য এমন এই ঘটনার জ্ঞান তাঁর পূর্ব থকেই ছিল। তাই তিনি এই বিষয়টি গুরুত্ব দিলেন যে, ধর্মের ইতিহাসে প্রথমবার কুরআনের আকৃতিতে এমন এক কিতাব নাযিল করলেন, যা নাযিল তো হচ্ছিল কৃষি যুগের পতিত সমাজে, কিন্তু এই কিতাব দ্বীনের যাবতীয় মৌলিক বিশ্বাসের উপর যুক্তিসঙ্গত দলীল দিয়ে পরিপূর্ণ। এই দলীলকে যদি বুঝে নেওয়া যায়, তাহলে মানুষ নিজেই নিজের সন্দেহ থেকে বের হয়ে সুনিশ্চিত বিশ্বাস অর্জন করে নেয়। এই দলীল দুনিয়ার সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া এখন আমাদের জন্য করণীয় সবচে বড় কাজ। রাব্বুল আলামিন আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএফ/

আরও পড়ুন... 
কুরআনের সত্যতার ৬ অভ্রান্ত প্রমাণ
নবীজির জীবন্ত মুজিজা
কুরআনের সংকলন ও বিন্যাসের ইতিহাস

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও