দুআ কবুল হচ্ছে না? আপনার জন্যই এই লেখা

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯ | ৮ চৈত্র ১৪২৫

দুআ কবুল হচ্ছে না? আপনার জন্যই এই লেখা

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৭:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

দুআ কবুল হচ্ছে না? আপনার জন্যই এই লেখা

হোয়াটস অ্যাপ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে অন্যতম। এটি সব দিক থেকে অতুলনীয় হওয়ার সাথে সাথে এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যার কারণে মানুষ এই অ্যাপটি বেশি থেকে বেশি ব্যবহার করছে। উদাহরণত, অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের তুলনায় হোয়াটস অ্যাপ তার বার্তা প্রেরণকারীকে সাথে সাথেই বলে দেয় যে তার মেসেজটি পড়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি কেবল প্রেরকের জন্যই যে স্বস্তির, শুধু তাই নয়, বরং এর পাঠক বা শ্রোতাদেরকেও এই তাগিদ করে যে যতো দ্রুত সম্ভব তার রিপ্লাই যেন দেওয়া হয়। এটা সেই আভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া যা বার্তার প্রেরক ও প্রাপক উভয়ের মাঝেই প্রভাব সৃষ্টি হয়।

কুরআন মাজিদেও আল্লাহর পক্ষ থেকে এই কথা পরিস্কার বলে দেওয়া হয়েছে যে, তিনি কেবল প্রত্যেক আহবানকারীর ডাক শুনেনই না, বরং তাৎক্ষণিক প্রতিউত্তরও করেন। (সূরা বাকারাহ:১৮৬) যদি কোন ব্যক্তি সত্যিকারের মুমিন হয় তাহলে কুরআন মাজিদের এই কথাও তার অন্তরের মাঝে গভীর প্রভাব সৃষ্টি করবে। এমন মুমিন বান্দা তার প্রত্যেক চাওয়া ও সমস্যার কথা তার প্রতিপালকের দরবারে পেশ করেই আশ্বস্ত হয়ে যায় যে তার ফরিয়াদ শুনে নেওয়া হয়েছে এবং ফেরেশতাদেরকে আদেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবু সাধারণ পর্যবেক্ষণ কুরআন মাজিদের এই কথার বিপরীতই মনে হয়। কিছু মানুষের কোন কোন দুআ তার সারা জীবনেও কবুল হয় না। কিছু মানুষের সমস্যা শেষ হয় না অথচ তার পুরোটা জীবন পার হয়ে যায়। আর কিছু মানুষের পছন্দের কোন জিনিস এতো বিলম্বে মিলে যে তখন পাওয়া আর না পাওয়া সমান হয়ে যায়।

তাই কিছু বিষয় আমাদের বুঝে নেওয়া চাই – যার পর এই ধরণের সকল দ্বন্দ্ব দূর হয়ে যাবে। প্রথম কথা তো এই যে, কুরআন মাজিদের এই বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক আহ্বানকারীর আহ্বানের জবাব দেন। কিন্তু তার ফয়সালা বাস্তবায়ন হতে তার প্রজ্ঞা অনুযায়ী সময় তিনি বিলম্ব করেন। সেই হিকমাত বা প্রজ্ঞা এই যে, তিনি যদি এমনটা না করেন তাহলে গায়বের পর্দা উন্মোচিত হয়ে যাবে। ফলে পরীক্ষাও শেষ হয়ে যাবে। এরপর আর কে আল্লাহকে অস্বীকার করতে পারবে? তাই পরীক্ষা চালু রাখার জন্য তিনি তার সিদ্ধান্ত কিছু সময় বিলম্ব করে বাস্তবায়ন করেন।

দ্বিতীয় কথা হল, এটা জরুরী নয় যে তিনি আমাদের সমস্যা আমাদের মর্জি মতই সমাধান করবেন। কেননা অধিকাংশ সময় আমরা যা চাই তা আমাদের জন্য ক্ষতিকরই হয়। তাই আল্লাহ তাআলা ভিন্ন কোন পথে, অন্য কোন মাধ্যমে আমাদের সমস্যা সমাধান করেন। আমরা তা পেয়ে যাই যা আমাদের জন্য অতি উত্তম হয়। আরা সেটা আমাদের দুআরই ফলাফল হয় কিন্তু আমরা সেটা পুরোপুরি অনুভব করতে পারি না।

তৃতীয় কথা হল, অল্প ব্যতিক্রম ছাড়া আমরা অধিকাংশ মানুষই আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে ধ্বংসশীল দুনিয়াকে প্রাধান্য দেই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা প্রাধান্য দেন চিরস্থায়ী আখেরাতকে। সুতরাং তিনি প্রত্যেক দুআর জবাবে প্রথমে বান্দার আখেরাতের কল্যাণকে দেখেন। এরপর সেখান থেকে যা উপরি হয় দুনিয়াতে দেন। তিনি যদি এটা না করেন তাহলে আমরা মৃত্যু পরবর্তী অনন্তকালের সে জীবনে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে উপস্থিত হবো। যতো পেরেশান এই দুনিয়াতে হচ্ছি, তার চেয়ে আরও বহুগুণ বেশি কেয়ামতের ময়দানে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে হতবিহবল অবস্থায় উপস্থিত হবো। তাই আল্লাহ তাআলা প্রথমে সেখানের প্রয়োজনগুলোকে দেখেন এরপর দুনিয়ার প্রয়োজনগুলো পূরণ করেন।

অতএব, একজন মুমিন বান্দাকে আল্লাহ থেকে হতাশ না হয়ে দুআ করতে থাকা চাই। তাকে হোয়াটস অ্যাপের একজন বার্তা প্রেরকের মত আশ্বস্ত হওয়া চাই যে, যা কিছু যবান থেকে বের হয়ে আল্লাহর পবিত্র দরবারে পেশ করা হয়েছে, তা অবশ্যই শুনে নেওয়া হয়েছে। তার কোন মেসেজই আনরিড নেই। আর যিনি শুনেছেন তিনি বড়ই দয়ালু তবে ততই প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ।

আসল প্রশান্তির সাথে আশ্বস্ত তো এর উপর হওয়া উচিত যে তাঁর দরবারের ফকীরও পৃথিবীর বাদশা হয়। আপনার প্রতিটি চাওয়া পূরণ হয়, চাই এই দুনিয়াতে হোক, বা আখেরাতে। চাই এভাবে হোক, বা অন্যভাবে। এটাই সেই ইয়াকিন যা একজন মুমিন বান্দাকে না হতাশ হতে দেয়, আর না অন্য দরবারে মুখাপেক্ষী হতে দেয়।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
দুআ করছেন, কবুল হচ্ছে না?
দুঃখ ভারাক্রান্ত আত্মার জন্য প্রশান্তির বার্তা
যে দু’আ কবুল করেন না আল্লাহ!
দু’আ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আদব
আয় বাড়াতে যে আমলগুলো করবেন
আপনার হজ-পরবর্তী জীবনাচার যেমন হওয়া উচিত
ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচতে নবীজি (সা.) যে দুআ করতেন
আশাহত মানুষের প্রতি কুরআনের বার্তা
প্রথম কাতারে নামায : আল্লাহকে ভালবাসার উত্তম প্রতিযোগিতা
জুমআর দিনে নিশ্চিত দুআ কবুলের যে মুহূর্ত
টেনশন দূর করার অব্যর্থ তিন দোয়া