যে কারণে তাওবাহ করবেন

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

যে কারণে তাওবাহ করবেন

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮

যে কারণে তাওবাহ করবেন

তাওবাহ যে কারণে করতে হবে, তার অন্যতম হল, যাতে আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্যের ইবাদত করার সৌভাগ্য লাভ হয়। কারণ, গুনাহের মন্দ পরিণতি হল, গুনাহের কারণে বান্দা যাবতীয় কল্যাণ হতে বঞ্চিত হয় এবং অপমান অপদস্থ হয়। গুনাহ একজন মানুষকে আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও তাঁর আবদিয়্যাতের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে বাঁধা দেয়। যার গুনাহের বোঝা ভারি হয়ে যায়, তার জন্য নেক কাজ করা এবং কল্যাণকর কাজে তৎপর হওয়া আর সহজ হয় না।

সব সময় গুনাহে লিপ্ত থাকার কারণে মানুষের অন্তরসমূহ কালো হয়ে যায়। ফলে তা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় এবং তা পাথরের মত কঠিন হয়ে পড়ে। তাতে আর কোন ইখলাস থাকে না ইবাদাত বন্দেগীতে কোন স্বাদ উপভোগ উপলব্ধি হয় না। আল্লাহ তাআলা যদি তার প্রতি অনুগ্রহ না করেন তাহলে গুনাহ গুনাহগার ব্যক্তিকে কুফর ও অবিশ্বাসের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

যে গুনাহ ও পাপাচারে লিপ্ত তাকে কীভাবে আল্লাহ তার পবিত্র ইবাদতের চৌকাঠে জায়গা দিবেন। কীভাবে তাকে তার দ্বীনের খেদমতের জন্য ডাকবেন যে সর্বদা তার নাফরমানী ও অবাধ্যতায় নিমগ্ন। কীভাবে তাকে মুনাজাতের জন্য কাছে টেনে আনবেন যে ময়লা আবর্জনা ও নাপাকীতে আকুণ্ঠ নিমজ্জিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন

إذا كذب العبد تنحى عنه الملكان من نتن ما يخرج من فيه فكيف يصلح هذا اللسان لذكر الله عز وجل

“যখন কোন বান্দা মিথ্যা কথা বলে তখন তার মুখ থেকে যে দুর্গন্ধ বের হয় তাতে তার থেকে দুইজন ফেরেশতা দূরে সরে যায়। ফলে এ জিব্হা কীভাবে হবে আল্লাহর যিকির করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে?” –সুনানে তিরমিযি : ১৯৭২

সুতরাং, এতে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ নেই, যে লোক আল্লাহর নাফরমানী ও তার হুকুমের বিরোধিতার উপর অটল থাকে, সে কখনো আল্লাহর আনুগত্য করা ও ভালো কাজ করার তাওফীক লাভ করতে পারে না, তার জন্য নিজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে আল্লাহর ইবাদাতে কাজে লাগানো সহজ হয় না। সে যদি ভালো কাজে খরচ করে তবে তাকে অনেক কষ্টে খরচ করতে হয়, তাতে সে মানসিক স্বস্তি ও আত্মতৃপ্তি পায় না। ইবাদাতে সে কোন স্বাদ উপভোগ করে না।

এমন হবার মূল কারণ হচ্ছে, সে সব সময় গুনাহতে নিমগ্ন থাকে এবং আল্লাহর দরবারে তাওবাহ করা ছেড়ে দেয়। সুতরাং, আপনাকে আল্লাহর দরবারে বার বার তাওবাহ করতে হবে এবং গুনাহের কাজসমূহ হতে বিরত থাকতে হবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

يا أيها الناس توبوا إلى الله فإني أتوب في اليوم مائة مرة رواه مسلم

“হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর দরাবরে তাওবাহ কর। নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন আল্লাহর নিকট একশত বার তাওবাহ করি”। -সহিহ মুসলিম: ২৫৪৩

মহান আল্লাহ আমাদের অধিক পরিমাণে তাওবাহ করার তাওফীক দান করুন। আমিন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
প্রাত্যহিক জীবনে তাওবার গুরুত্ব
তাওবাহ মানে কী?
তাওবাহ: কেন করব, কিভাবে করব?
হতাশায় ভুগছেন? নবীজির মুখে শুনুন ফিরে আসার গল্প

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও