প্রাত্যহিক জীবনে তাওবার গুরুত্ব

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রাত্যহিক জীবনে তাওবার গুরুত্ব

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮

প্রাত্যহিক জীবনে তাওবার গুরুত্ব

তাওবাহ মানে অন্ধকার ছেড়ে আলোর অভিমুখে বান্দার পুণ্যযাত্রা। তাওবাহ মানে অপরাধের অন্ধকার জগত ছেড়ে আল্লাহর আলোয় বান্দার ফিরে আসা। মহা মহিম রবের কাছে এ কাজ অত্যধিক পছন্দনীয়। কোন মানুষ যখন অপরাধের পর অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে এবং সংঘটিত গুনাহের জন্য তাওবাহ করে, আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করে নেন এবং এর মাধ্যমে বান্দাকে তাঁর প্রিয়দের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি মুমিন বান্দাদেরকে তাওবার নির্দেশ দিয়ে বলছেন-

وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ 

“হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে তাওবা [প্রত্যাবর্তন] কর, নিশ্চয় তোমরা সফলকাম হবে”। -সূরা নূর আয়াত: ৩১ 

আর যারা তাওবা করে না, তাদের আল্লাহ তাআলা নিজেদের উপর যুলুমকারি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمَن لَّمۡ يَتُبۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ

“যারা তাওবা করবে না, তারাই অত্যাচারী”। -সূরা হুজরাত:১১

উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দুটি দলে বিভক্ত করেছেন। এক. তাওবাহকারী, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, তারাই সফলকাম। দুই. যারা তাওবাহ করে না। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, তারাই অত্যাচারী ও যালিম। এ দুই দলের পর কোন তৃতীয় দলের কথা আল্লাহ বলেননি। আমাদেরকে এখন নিজেদের থেকে জেনে নিতে হবে, আমরা কোন দলের অন্তর্ভূক্ত?

বান্দা যখন কোন অপরাধের পর তাওবাহ করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন এবং তার প্রতি অত্যধিক খুশি হন। আনাস বিন মালেক রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

لله أشد فرحا بتوبة عبده حين يتوب إليه من أحدكم كان راحلته بأرض فلاة فانفلتت منه وعليها طعامه وشرابه فأيس منها فأتى شجرة فاضطجع في ظلها قد أيس من راحلته فبينما هو كذلك إذ هو بها قائمة عنده فأخذ بخطامها ثم قال من شدة الفرح : اللهم أنت عبدي وأنا ربك أخطأ من شدة الفرح " . رواه مسلم .

“আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দার তাওবায় ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে ব্যক্তি তার বাহন সাওয়ারী নিয়ে কোন জনমানব শূন্য মরু প্রান্তরে অবস্থান করছিল, হঠাৎ তার সাওয়ারীটি পালিয়ে গেল। সাওয়ারীটির সাথেই ছিল তার পানাহারের সবকিছু। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বাহন জন্তুটি আর পাওয়া গেলো না। অবশেষে হতাশ হয়ে একটি গাছের নিচে এসে তার ছায়ায় শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে উঠে সে দেখতে পেলো তার সাওয়ারিটি তার পার্শ্বে এসে দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে সাওয়ারির লাগাম চেপে ধরলো আর অধিক খুশিতে বলে ফেললো, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা এবং আমি তোমার রব! লোকটি অত্যধিক আনন্দের কারণে ভুলভাল বলে ফেলল”। (সহিহ মুসলিম) 

প্রিয় মুসলিম ভাই! মনে রাখবেন, আল্লাহ আমাদের হিসাব নেয়ার আগে আমরা যেন নিজেদের হিসাব করে নেই। এতে আপনার হিসাব দেয়া সহজ হবে। 

সম্ভব হলে প্রতিদিন একবার, নয়তো সপ্তাহে বা কমপক্ষে মাসে একবার তাওবা করুন এবং আপনি নিজের হিসাব গ্রহণ করুন। নিজের কাছে থেকে জবাবদিহিতা নিন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, এমন কোন কাজ করছেন কি যা আল্লাহর চাওয়ার পরিপন্থী? নামায কায়েমে আপনার কোন দুর্বলতা আছে কি? ইসলামের অন্যান্য মৌলিক বিষয়গুলি যথাযথ ভাবে আদায় করছেন কি? আপনি কি কোন কবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছেন? 

এখনো তওবা দ্বারা ক্ষমা করা হয়। শীঘ্রই সময় আসবে যখন প্রাণ হবে ওষ্ঠাগত, জান্নাত/জাহান্নাম চোখের সম্মুখে বাস্তব হয়ে ধরা দিবে, আযাবের ফেরেশতাগণ এসে শিয়রে উপস্থিত হবে, কিন্তু তখন তাওবার দরোজা বন্ধ হয়ে যাবে। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে সেই ভীতিকর সময় এসে যাওয়ার আগেই তাওবার মাধ্যমে এক সুন্দর অনন্ত জীবনের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন...
তাওবাহ মানে কী?
তাওবাহ: কেন করব, কিভাবে করব?
হতাশায় ভুগছেন? নবীজির মুখে শুনুন ফিরে আসার গল্প

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও