নামায যেন একটি রক্ষাকারী দুর্গ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নামায যেন একটি রক্ষাকারী দুর্গ

মূলঃ ড. সুহাইব হাসান; ভাষান্তরঃ কায়সার আহমেদ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

নামায যেন একটি রক্ষাকারী দুর্গ

নামায হল প্রত্যেক ভালোকাজের সমষ্টি। নিম্নে কুর’আনের দুটি বর্ণনা তুলে ধরা হল, উভয় বর্ণনায় বেশ কিছু উত্তম কর্মের কথা বর্ণিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেক উত্তম আমলের পূর্বে এবং পরে নামাযের বর্ণনা এসেছে।

ক. সূরা আল-মু’মিনুন (২৩: ১-১১)

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ﴿١﴾ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ ﴿٢﴾ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ ﴿٣﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ ﴿٤﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ﴿٥﴾ إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ ﴿٦﴾ فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ ﴿٧﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ ﴿٨﴾ وَالَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ﴿٩﴾ أُولَٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ ﴿١٠﴾ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿١١﴾

“নিশ্চয় সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ- যারা তাদের নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত। যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। যারা যাকাত সম্পাদনকারী। যারা নিজ লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করে। নিজেদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ছাড়া অন্য সকলের থেকে, কেননা এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। তবে কেউ এ ছাড়া অন্য কিছু কামনা করলে তারাই হবে সীমালঙ্ঘনকারী। এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে। এরাই হল সেই ওয়ারিশ, যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের মীরাস লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।”

খ. সূরা আল-মাআরিজ (৭০: ১৯-৩৫)

إِنَّ الْإِنسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا ﴿١٩﴾ إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا ﴿٢٠﴾ وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا ﴿٢١﴾ إِلَّا الْمُصَلِّينَ ﴿٢٢﴾ الَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ ﴿٢٣﴾ وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَّعْلُومٌ ﴿٢٤﴾ لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴿٢٥﴾ وَالَّذِينَ يُصَدِّقُونَ بِيَوْمِ الدِّينِ ﴿٢٦﴾ وَالَّذِينَ هُم مِّنْ عَذَابِ رَبِّهِم مُّشْفِقُونَ ﴿٢٧﴾ إِنَّ عَذَابَ رَبِّهِمْ غَيْرُ مَأْمُونٍ ﴿٢٨﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ﴿٢٩﴾ إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ ﴿٣٠﴾ فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ ﴿٣١﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ ﴿٣٢﴾ وَالَّذِينَ هُم بِشَهَادَاتِهِمْ قَائِمُونَ ﴿٣٣﴾ وَالَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ﴿٣٤﴾ أُولَٰئِكَ فِي جَنَّاتٍ مُّكْرَمُونَ ﴿٣٥﴾

“মানুষ তো সৃজিত হয়েছে ভীরুরূপে। যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে। আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়। তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা নামায আদায়কারী। যারা তাদের নামাযে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে। এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে যাঞ্ছাকারী ও বঞ্চিতের। এবং যারা প্রতিফল দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে। এবং যারা তাদের পালনকর্তার শাস্তির সম্পর্কে ভীত-কম্পিত। নিশ্চয় তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্কা থাকা যায় না। এবং যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে, কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না। অতএব, যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে, তারাই সীমালংঘনকারী। এবং যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে। এবং যারা তাদের সাক্ষ্যদানে সরল-নিষ্ঠাবান। এবং যারা তাদের নামাযে যত্নবান। তারাই জান্নাতে থাকবে সম্মানজনকভাবে।”

এই আয়াতসমূহে মুমিনদের কয়েকটি চারিত্রিক ও আমলগত বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম বৈশিষ্ট্যে হল নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত হওয়া। মুমিনদের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য হলঃ

- তারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে।
- তারা যাকাত আদায় করে।
- তারা নিজেদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ছাড়া অন্য সকলের থেকে নিজ লজ্জাস্থানের হিফাজত করে এবং অবৈধ ও অনৈতিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে।
- তারা আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে।
- তারা তাদের সাক্ষ্যদানে সরল-নিষ্ঠাবান থাকে।
এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আবারো নামাযের কথা উল্লেখ করেন।

সূরা আল-মাআরিজ ও সূরা আল-মু’মিনুন উভয় বর্ণনায় আল্লাহ উত্তম আমল বা বৈশিষ্ট্যের শুরুতে এবং শেষে নামাযের আদেশ করেছেন। এতে বুঝা যায় যে, নামায হল একটি দুর্গ। এমন দুর্গ যা প্রত্যেক উত্তম আমলের রক্ষণাবেক্ষণ করে। একজন ব্যক্তির নামায ঠিক থাকলে তার বাকি সৎ কর্মও ঠিক থাকবে। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“নামায হল দ্বীনের স্তম্ভ”

তিনি আরো বলেন,
“হাশরের ময়দানে মানুষকে সর্ব প্রথম যে প্রশ্ন করা হবে তা হল নামায। যদি নামাজ সঠিক হয় তবে বাকি সব আমল তার ঠিক হবে। আর যদি নামাজ বিনষ্ট হয় তাহলে বাকি সবআমলই তার বিনষ্ট হবে।”- (আত তাবারানি)

এমএফ/

আরও পড়ুন...
নামায একটি রিমাইন্ডার
প্রথম কাতারে নামায : আল্লাহকে ভালবাসার উত্তম প্রতিযোগিতা
কেন নামায পড়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন?