আপনার শিশুকে অনুগ্রহশীল হবার শিক্ষা দিন!

ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

আপনার শিশুকে অনুগ্রহশীল হবার শিক্ষা দিন!

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৮

আপনার শিশুকে অনুগ্রহশীল হবার শিক্ষা দিন!

“যে নিজে অনুগ্রহশীল, আল্লাহও তার প্রতি অনুগ্রহশীল। সুতরাং, তোমরা যমিনের অধিবাসীদের প্রতি অনুগ্রহ কর, আকাশের অধিপতিও তোমাদের উপর অনুগ্রহ করবেন।” (আবু দাউদ, তিরমিযী)

বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের এ উন্নত আধুনিক যুগে এসে শিশুরা যখন সর্বত্রই দেখছে সীমাহীন সহিংসতার ছড়াছড়ি, তখন আমাদের পুস্পতুল্য শিশুদের জন্য যাবতীয় শিক্ষার মাঝে সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের দয়া ও অনুগ্রহের শিক্ষা দেওয়া। দয়ার সবচেয়ে সহজ প্রকাশ হতে পারে নির্মল হাসির মাধ্যমে। হাসতে শেখানোর মাধ্যমে আমরা দয়ার শিক্ষাদান শুরু করতে পারি। রাসূল (সা.) সবসময় হাসিমুখে থাকতেন। তাই হাসিখুশি থাকা ও এর আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের জন্য সুন্নত।

কুরআন আমাদের চারপাশের লোকদের প্রতি অনুগ্রহ করতে শিক্ষা দেয়। এর জন্য অতিরিক্ত কোন পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়না। যখনই আপনি আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদেশ্যে মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন, এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন আপনার জন্য আল্লাহর কাছে পুরস্কার জমা থাকবে।

হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে- “কোন উত্তম কাজকেই ছোট মনে করো না, যদি তা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলাও হয়।” (মুসলিম)

পিতা-মাতার কাছ থেকে শিক্ষা
শিশুরা অন্যদের অনুসরণ ও অনুকরণ করে সবকিছু শিখে। সুতরাং, আপনি আপনার সন্তানকে নিজে অনুশীলনের মাধ্যমে দয়া ও অনুগ্রহশীলতার শিক্ষা দিন। ছোট ছোট কথা, ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে আপনি এ শিক্ষা দিতে পারেন। শুরুটা হতে পারে কারো সাথে সৌজন্যমূলক কথা বা সম্ভাষণ শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে। সালামের শিক্ষা এক্ষেত্রে একটি উত্তম উদাহরণ। এছাড়া বয়সভেদে, পারিবারিক বিভিন্ন কাজে পিতা-মাতাকে সাহায্য করার শিক্ষা শিশুকে দেওয়া যেতে পারে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিশুরা তাদের প্রতি পিতা-মাতার ত্যাগ, পরিচর্যা ও যত্নের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শেখে। পরবর্তীতে ইসলাম সম্পর্কে তারা যতই জ্ঞান আহরণ করবে, ততই তারা দয়ালু, ধৈর্যশীল, শ্রদ্ধা ও সহানুভূতিশীল হয়ে উঠবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন- وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ “নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। (সূরা লুকমান, আয়াত: ১৪) 

ক্ষমা ও অনুকম্পা
মুসলমানের একটি স্বাভাবিক গুণ হল সে ক্ষমাশীল হবে। দয়ার সাথে সামঞ্জস্যশীল এই গুণটি সবসময় অন্যের ত্রুটি ভুলে যেতে এবং তার জন্য তাকে শাস্তি না দিতে মানুষের মনকে উৎসাহিত করে। শিশুরাও তাদের শৈশব থেকে এই মহৎ গুণটির অনুশীলন করতে পারে। একটি খেলনা নিয়ে নিজে একাকী খেলার পরিবর্তে তার অন্যান্য ভাইবোনের সাথে একত্রে খেলার মাধ্যমে সে দয়া, ক্ষমা ও অনুকম্পার শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

হাদিস শরীফে এসেছে- “যে অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, তার প্রতিও দয়া প্রদর্শন করা হয় না।” (বুখারী, মুসলিম)

পশু-পাখির প্রতি দয়া
বন্য বা পোষা যে প্রকারই হোক না কেন, আমরা ও আমাদের শিশুরা জীবনে মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার প্রাণী, কীটপতজ্ঞ ও পশু-পাখির সংস্পর্শে আসি। তাই এই পশু-পাখির প্রতিও আমাদের আচরণ কেমন হবে তা শিশুদেরকে শিক্ষা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে চারপাশের সকল পশু-পাখির প্রতি আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন।

কেউ যদি কোন পশু-পাখির ক্ষতি করে বা অকারণেই হত্যা করে, তবে কিয়ামতের দিন ঐ পশু বা পাখি তার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবে। সুতরাং আপনার শিশুকে পশু-পাখির প্রতিও দয়াশীল হবার শিক্ষা দিন।

হাদিস শরীফে এসেছে- “আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি যারা অনুগ্রহ করে, সে নিজের প্রতিই অনুগ্রহ করে।” (বুখারী ও মুসলিম)

কৃতজ্ঞতাবোধ
কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষের সৃষ্টির সাথে সামঞ্জস্যশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ। সামান্য ‘ধন্যবাদ’ শব্দটি শিশুকে শেখানো হয়তো খুব কঠিন কোন কাজ নয়, কিন্তু এটির প্রভাব জীবনের বহু অধ্যায়ে বিস্তৃত। কৃতজ্ঞতাবোধের উদাহরণ হতে পারে, কেউ কোন উপহার দিলে তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অথবা নিজের দোয়ায়ও অপরকে শামিল রাখা প্রভৃতি। কৃতজ্ঞতাবোধ ঈমানের দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে এবং এর মাধ্যমে মানুষের মাঝে দয়ার অনুশীলন হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন- وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِن شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৭)

মহত্ত্ব
মহত্ত্বের শিক্ষা দান বিভিন্ন প্রকারে হতে পারে। শিশুরা অন্য শিশুর সাথে তাদের আচরণের মধ্য দিয়ে মহত্ত্ব শিখতে পারে। ভাইবোনদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার মাধ্যমে এই মহত্ত্বের অনুশীলন করতে পারে। বয়সভেদে তারা তাদের অর্থ বিভিন্ন দাতব্য কাজ বা উত্তম কোন কাজের জন্য খরচ করতে পারে। শুধু অর্থের মধ্য দিয়েই নয়, তারা তাদের পুরাতন কাপড় বা খেলনা অভাবগ্রস্থ শিশুদের দান করার মাধ্যমে তাদের মহত্ত্বের অনুশীলন করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন- وَمَا أَنفَقْتُم مِّن شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ “তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, তিনি তার বিনিময় দেন। তিনি উত্তম রিযিক দাতা। (সূরা সাবা, আয়াত: ৩৯)

সচেতনতার সাথে আপনার শিশুকে দয়া অনুগ্রহশীলতা শেখানোর মাধ্যমে আপনি যেমন আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত হবেন, তেমনি আপনার শিশুও দয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে থাকবে। দয়া অর্থের সাথে সংযুক্ত নয়, বরং এর সংযোগ হৃদয়ের সাথে। আমাদের সার্বিক কথা ও কাজের মাধ্যমেই এই দয়া ও অনুগ্রহের প্রকাশ ঘটে।
এমএফ/
আরও পড়ুন...
পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারে কুরআনের আদেশ
নামাযের পর সর্বোত্তম আমল হলো মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার
এক মিনিটেই আপনি যে আমলগুলো করতে পারেন

জেনে নিন ফরয নামায পরবর্তী সহিহ দু’আ ও জিকির সমূহ
মৃত বাবা-মায়ের জন্য যে আমলগুলো শিখিয়েছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল
আয় বাড়াতে যে আমলগুলো করবেন

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও