পঞ্চম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

পঞ্চম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:১৬ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৮

print
পঞ্চম তারাবীহ : তিলাওয়াতের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ আলোচনা

আজ চতুর্থ রোযা, পঞ্চম তারাবীহ। আজকের তারাবীহতে তিলাওয়াত করা হবে সূরা মায়েদাহর ৮৩ নম্বর আয়াত থেকে সূরার শেষ- ১২০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত ও সঙ্গে সূরা আনআমের পুরো অংশ এবং পরবর্তী সূরা আরাফের ১ নম্বর আয়াত থেকে ১১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। পারা হিসেবে আজ সাত নং পারা থেকে শুরু করে আট নং পারার প্রথমার্ধ পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো।

সূরা মায়েদাহ : (৮৩-১২০)
কুরআনুল কারিমের ৫ম সূরা। এসূরার ৮৩ থেকে ৮৬ নম্বর আয়াতে আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা সত্যনিষ্ঠ, তাদের প্রশংসা করা হয়েছে।
৮৭ থেকে ৯৩ নম্বর আয়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান দেওয়া হয়েছে। কসম-শপথ ভাঙার কাফফারা, মদ-জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্যনির্ণায়ক তির বা পাশা হারাম করা হয়েছে এ রুকুতে।

৯৪ থেকে ১০০ নম্বর আয়াতে ইহরাম অবস্থায় শিকার নিষেধ করা হয়েছে। কেউ যদি ইহরাম অবস্থায় শিকার করে ফেলে, তবে তার কাফফারা কী হবে, তা-ও বলা হয়েছে এ রুকুতে।

১০১ থেকে ১০৬ নম্বর আয়াতে অহেতুক প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, অহেতুক প্রশ্ন তোমাদের জন্য অকল্যাণ ডেকে আনে। তাই এ থেকে বিরত থাকো। আরও বলা হয়েছে, কারও মৃত্যুর সময় অসিয়ত করা জরুরি। আর অসিয়তের সময় যেন দুইজন সাক্ষী রাখা হয়। সাক্ষীদের থেকে যদি মিথ্যার আশঙ্কা থাকে অথবা অন্য কেউ যদি দাবি করে আমাকে ভিন্নরকম অসিয়ত করা হয়েছে- এমন নাজুক পরিস্থিতি কসমের মাধ্যমে সমাধান করতে বলা হয়েছে।

১০৯ থেকে ১২০ নম্বর আয়াতে কেয়ামতের দিন হজরত ঈসা আ. এবং তার মা হজরত মরিয়ম আ. এর সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কী কথা বলবেন, খ্রিষ্টানদের সম্পর্কে কী জিজ্ঞেস করবেন- এ কথা বলে সূরার শেষ করা হয়েছে।

সূরা আনআম (১-১৬৫)
কুরআনুল কারিমের ৬ষ্ঠ সূরা। ১৬৫ আয়াতসংবলিত এ সূরা অবতীর্ণ হয়েছে মক্কায়। আজকের তারাবীহতে সম্পূর্ণ সূরাই তিলাওয়াত করা হবে। সূরার ১ নম্বর আয়াত থেকে ৪১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত কাফেরদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব, তাদের হঠকারী আচরণের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, তোমরা একটু চোখ মেলে দেখ ও ভাব। তোমরা যা বলছ ও করছ তা কতটুকু সঠিক?
৪২ থেকে ৯০ নম্বর আয়াত পর্যন্তও আগের ধারাবাহিকতায় আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস ও ইমানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এখানেও কাফেরদের মনে জাগা ও মুখে তোলা অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও আখেরাতের বিশালতা উল্লেখ করে মোমিন সম্প্রদায়কে নসিহত করা হয়েছে। এক পর্যায়ে ইবরাহিম আ. এর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে তিনি ঈমানের নির্দেশ পেলেন, তা বলা হয়েছে বিস্তারিতভাবে। ৯১ থেকে ৯৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাযিলের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা আলোচনা করা হয়েছে।

৯৫ থেকে ১১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কীভাবে বিশ্বরাজ্য পরিচালনা করছেন, এর কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে তার প্রতি ঈমান আনার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপরও যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে না, তাদের শাস্তি কী হবে, তা-ই বলা হয়েছে।

১১১ থেকে ১২৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, চোখের সামনে এতসব নিদর্শন দেখেও অনেকেই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে না। তারা উল্টো হঠকারী আচরণ করবে। পরকালে এদের জীবন কত কষ্ট ও যন্ত্রণাদায়ক হবে, তা-ও বলা হয়েছে। সাধারণ নসিহত করা হয়েছে, যাতে মানুষ আল্লাহ, কিতাব, নবী ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আনতে পারে।


১৩০ থেকে ১৫৪ নম্বর আয়াতে উম্মতে মোহাম্মদির জন্য আল্লাহ তায়ালা কী খাদ্য হারাম করেছেন আর ইহুদিদের জন্য কী হারাম করেছিলেন, তার একটা তুলনামূলক পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরপর আল্লাহ তায়ালা বিকৃত ইহুদি ধর্মের সঠিক রূপ বলে দিয়েছেন। ওই ধর্মে আসলেই কী কী নিষিদ্ধ ছিল, তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

১৫৫ থেকে ১৬৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, পূর্ববতী কিতাব যা হারাম করেছে, কোরআনও তা-ই হারাম করেছে। তাই কোরআনের দাওয়াত মেনে নেওয়ার জন্য আর কোনো অজুহাত দেখানো যাবে না। এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেই সূরা আনআম শেষ করা হয়েছে।

সূরা আরাফ : (১-১১)
কুরআনুল কারিমের ৭ম সূরা। এসূরা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াতসংখ্যা ২০৬। আজ তিলাওয়াত করা হবে ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত।

১ থেকে ১০ নম্বর আয়াতে কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ কিতাব মানুষের হেদায়েতের জন্য নাযিল করা হয়েছে। এর পর বলা হয়েছে, অতীতে যারাই আল্লাহর কালাম অমান্য করেছে, তাদের বিভিন্ন আযাব দিয়ে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। এখনও যারা আল্লাহর কিতাব মানবে না, তাদেরও একইভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। এরপর ১১ নম্বর আয়াতে মানব সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এমএফ/

 
.


আলোচিত সংবাদ