শিশুর আঁকিবুঁকি থেকে ঘরের দেওয়াল বাঁচানোর উপায়ে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

শিশুর আঁকিবুঁকি থেকে ঘরের দেওয়াল বাঁচানোর উপায়ে

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ০৮, ২০১৯

শিশুর আঁকিবুঁকি থেকে ঘরের দেওয়াল বাঁচানোর উপায়ে

আপনি কি জানেন আপনার বাড়িতেই রয়েছে বড় বড় সব চিত্র শিল্পী? পিকাসো, মাতিস, ভ্যান গঘ। সবাই আপনার ঘরেই থাকে। আর তাদের সব শিল্পকর্ম আপনার দেয়ালজুড়ে। কেবল হোমওয়ার্ক শেষ হওয়ার অপেক্ষা। তার পরই ঢাল-তলোয়ার, থুড়ি, রং-পেন্সিল নিয়ে যুদ্ধে যাবেন তারা। নানা অদ্ভুত আঁকিবুকিতে ভরে উঠবে আপনার শৌখিন দেওয়াল। সেই শিল্পের রহস্য উদ্ধার করা আপনার কাজ নয়। সদ্য রং করা দেওয়ালটির মায়াও কম নয়। প্রতিটি রঙের আঁচড় বুকে মোচড় দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই সব মহান শিল্পীদের থামাবেন সেই সাধ্য আছে!

প্রত্যেকের বাড়িতেই আছে এমন খুদে স্ক্রিবলার, যাদের আঁকার খাতার চেয়েও প্রিয় বাড়ির দেওয়ালই ভরসা। আপন খেয়ালে দেওয়ালে-দেওয়ালে তারা আসলে নিজেকেই ব্যক্ত করতে চায়। শিশু মনস্তাত্ত্বিক সোমা মুখোপাধ্যায় বলছেন, শিশুর লেখার প্রথম ধাপই হচ্ছে আঁক কাটা। আসলে শিশু যা দেখে, তার সঙ্গে কল্পনার রং মিশিয়ে আঁকতে চায়। ভাবনাকে অবয়বে ধরার জন্যেই যত কারসাজি।

তাকে আটকানো মানে তার কল্পনাকে বাধা দেওয়া। কে বলতে পারে, পরিচর্যা পেলে আপনার কচি ডুডলারটিও হয়তো এক দিন হয়ে উঠবে বড় কোনো বিখ্যাত চিত্রকর। এ এক অদ্ভুত দোটানা। শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা। তা হলে কি বাজারের দামি রঙে রাঙানো দেওয়ালটা তার হাতে নিশ্চিন্তে ছেড়ে দেব? আমার নিজস্ব শৌখিনতার কোনো মূল্যই থাকবে না?

মনোবিদরা জানাচ্ছেন তা কেন? বরং এমন কিছু পদ্ধতি আছে যা প্রয়োগে খুদে মনটিও নিরাশ হবে না, আপনার দেওয়ালও থাকবে পরিপাটি। জানেন সে সব?

শিশুরা নকল করতে করতে শেখে। বাড়িতে বড় হোয়াইটবোর্ড একে সেখানে নিজে মাঝে মাঝে তাকে দেখিয়েই রং-বেরঙের রেখা টানুন। সেও ছবি আঁকার সময়ে হোয়াইট বোর্ডই ব্যবহার করতে চাইবে।

অনুরোধ করে বুঝিয়ে বলুন। বকাঝকা নয়, আপনার কথার ধরনে সে যেন বুঝতে পারে, তার সক্রিয়তা নিয়ে অপনার অসুবিধা নেই। আপনি তাকে শুধু সঠিক মাধ্যমটি ধরিয়ে দিতে চাইছেন।

শিশুকে অবসরে নানা রকম ছবি দেখান। একই সঙ্গে ছবি এঁকেই মুছে ফেলা যায়, তাতে ছবিটি আরো নিখুঁত হতে পারে সেইটা বুঝিয়ে দিন। সে ভালো আঁকার তাড়নাতেই দেওয়ালে আর তাকাবে না।

ছোটরা প্রশংসা ভালবাসে। খাতায় বা হোয়াইট বোর্ডে শিশুর আঁকার প্রশংসা করুন, দেওয়ালেরগুলোয় ততটা আগ্রহ দেখাবেন না। সে তখন খাতা ও হোয়াইট বোর্ডের মাধ্যমটির প্রতি আরও আকৃষ্ট হবে।

বাজারে কিছু স্ল্যামবুক এখনো কিনতে পাওয়া যায়। শিশুর ছবি থেকে আঁকিবুকি, গোটা বড় হওয়াটা ধরে রাখা যায় তাতে। এই বইটির সাদা পাতা শিশুর সময় কাটানোর ভালো সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে। আর স্মৃতি রোমন্থনের এমন সুযোগ, তাও বাড়তি পাওনা।

তবে সেরা উপায় আজকাল বিভিন্ন নামী সংস্থার বিশেষ কিছু রং আছে, যা ওয়াশেবল। অর্থাৎ নোংরা হলেও তা মুছে ফেলা যায়। তেমন রংও করতে পারেন বাড়ির দেওয়ালে।

ইসি/