বৈশাখে বৈঠকখানায় কুশনের বাহার

ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বৈশাখে বৈঠকখানায় কুশনের বাহার

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

বৈশাখে বৈঠকখানায় কুশনের বাহার

এখন সব বাড়িতেই পহেলা বৈশাখের আয়োজন চলছে। কেনাকাটা, রান্নাবান্না, সাজ পোশাক সব আয়োজন বাকি। কিন্তু সবাইকে যে নতুন বছর উপলক্ষে বাড়িতে আমন্ত্রণ করেছেন, বাড়ি বা বসার ঘর সজানো শেষ করেছেন? এটা না হলে যে আপনার সব পরিশ্রম পানিতে যাবে। তাহলে কী উপায়? এবার আপনার বাড়ির বৈঠকখানাটি সাজিয়ে ফেলুন কুশন দিয়ে। আসুন আজ আমরা দেখে নেই কিছু কুশন ডিজাইন ও ডেকোরেশন ডিজাইন।

বৈশাখে কুশন কাভারগুলো একটু রঙিন রাখার চেষ্টা করুন। কারণ পহেলা বৈশাখ মানের রঙের উৎসব। তাই আপনার বৈঠকখানার কুশনগুলো একটু কালারফুল রাখুন।

কালার মানেই যে সব লাল, নীল, হলুদ, সবুজ হতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনার যদি ব্রাইট কালার ভালো না লাগে তাহলে ম্যাট বা হালকা কালারের কুশনও রাখতে পারেন।

বর্তমানে বড় ফ্ল্যাটের তুলনায় ছোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা বেশি। কিন্তু তারপরও অনেকেই ছোট্ট ফ্ল্যাটটি গুছিয়ে রাখাতেই বেশ চিন্তায় পড়ে যান। আসল সমস্যা হয় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা নিয়ে।

কিন্তু এতে চিন্তার কোনো প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু একটু সৃজনশীল মনের। আসলে সময় বদলেছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলেছে আমাদের লাইফস্টাইল।

তার প্রভাব যে অন্দরসাজেও পড়বে, সেটাই তো স্বাভাবিক। আর অন্দরসাজের মূল কথাই তো পরিসর অনুযায়ী সাজগোজ।

তবে ঘর সাজানোর বিষয়টি চিন্তা করলে প্রথমেই যে ঘরটার কথা মাথায় আসে তা হলো বসার ঘর। আগে পুরনো বাড়ির বসার ঘরে টানা মাদুর পাতা। লোকজন এলে তার ওপর পাতা হতো রঙিন চাদর। সাজিয়ে দেওয়া হতো বালিশ।

কোনো কোনো বাড়িতে আবার থাকতো জলচৌকি। বসার জন্য উত্তম ব্যবস্থা।

সোফার প্রচলন তো অনেক পরে। পুরনো যেকোনো জিনিসের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মায়া, মমতা, নস্টালজিয়া। আর তাই সেগুলোই নতুন রূপে আমরা বার বার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি।

লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট যেন সেই মাটিতে বসে আড্ডা মারার রীতিরই আধুনিক সংস্করণ।

আসলে বসার ঘর মানেই যে সব সময় কার্পেট বিছানো মেঝের ওপর মখমলের গদি আঁটা বড় সোফা, ঢাউস সেন্টার টেবল বা দেওয়াল জোড়া সেল্ফ হতে হবে, তার কোনো মানে নেই। বসার ঘর তো আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব এবং জীবনযাপনের পরিচায়ক।

তাই চিরচেনা আসবাবের বদলেও শুধু মেঝেতেই করা যেতে পারে বসার সুন্দর পরিপাটি ব্যবস্থা।

সেক্ষেত্রে সোফার বদলে মেঝেতে ফোম বসিয়ে বা মাদুর, শতরঞ্জি পেতে এর ওপর বড় কুশন দিয়েও বসার আয়োজন করা যেতে পারে।

এর জন্য লম্বা আকৃতির একটা ফোম বসিয়ে তার ওপর নকশা করা একটা রঙিন চাদর বিছিয়ে ওপরে কিছু রং বেরঙের কুশন ছড়িয়ে দিতে হবে।

আর তার সামনেই পেতে দিতে হবে একটা রঙিন শতরঞ্জি। শতরঞ্জির ওপর একটা খুব ফ্ল্যাট আকৃতির কাঠের টেবিল বা পিঁড়ি পেতে বানানো যেতে পারে সেন্টার টেবিল। ঘরের কোণায় রাখা ছোট্ট টেবিল ল্যাম্পই হোক বা মাটিতে করা বসার ব্যবস্থা, সব কিছুই তো আসলে আপনার পছন্দকে প্রতিফলিত করে।

তাই নরম গদির সোফার কী প্রয়োজন? যদি ছোট্ট বেতের মোড়া বা সেন্টার টেবিলেও দিব্ব্যি জুটে যায় পরিচিতদের প্রশংসা।

ইসি/