শুধু দাঁত নয়, টুথব্রাশেরও যত্ন নিন

ঢাকা, ১ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

শুধু দাঁত নয়, টুথব্রাশেরও যত্ন নিন

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০১৯

শুধু দাঁত নয়, টুথব্রাশেরও যত্ন নিন

মুখ ও দাঁতের যত্নে আমরা কত কিছুই না ব্যবহার করি। কিন্তু, দাঁতের যত্নের জন্যে ব্যবহৃত যে টুথব্রাশ, তারও তো যত্ন নেওয়া চাই! সকালে উঠেই ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাঁত পরিষ্কার সেরে ফেলেন৷ তারপর ব্রাশটা যথাস্থানে রেখে দিলেন৷ কিন্তু জানেন কি? এই ব্রাশ যদি যত্ন না রাখেন, তাহলে কিন্তু এই ব্রাশ থেকেই রোগ হতে পারে! আসুন, জেনে নিই টুথব্রাশের যত্ন নেওয়ার টুকিটাকি।

আপনার ট্রুথ ব্রাশটি কি প্রসিদ্ধ কোনো ব্র্যান্ডের? না হলে আজই বদলে ফেলুন। রাস্তার হকাররা যেসব সস্তা ব্রাশ বিক্রয় করেন, সেগুলো মাড়ির জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর।

ট্রথব্রাশকে বাথরুমের বাইরে কোথাও রাখুন। প্রতিদিন ব্রাশ শেষে ব্রাশটি ভালো করে পরিষ্কার করুন। সঙ্গে সঙ্গে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পানির সাথে হালকা পরিমাণ ডেটল অথবা অন্য কোনো অ্যান্টি-সেপটিক লিকুইড ব্যবহার করতে পারেন।

প্রতি সপ্তাহে একবার মিনিট দুয়েকের জন্য গরম পানিতে আপনার ব্রাশটি ভিজিয়ে রাখুন। এতে ব্রাশ জীবাণু মুক্ত থাকবে।

টুথব্রাশ যদি ৫ মিনিটের বেশি মেঝেতে পড়ে থাকে তবে জীবাণু সেখানে ছড়িয়ে যায় এবং আমাদের পায়ের পাতার মধ্যে দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। তাই, খুব সাবধানে রাখুন নিজের টুথব্রাশকে।

একজনের টুথব্রাশ আরেকজনের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। এতে তার শরীরের জীবাণুসমূহ আপনার শরীরে প্রবেশ করে আপনাকে রোগাক্রান্ত করতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে কাউকে সুস্থ মনে হলেও তার টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত নয়।

টুথব্রাশ ব্যবহারের পর তা একটি লম্বাকৃতির কন্টেইনারে এমনভাবে খাড়া করে রাখতে হবে, যেন একটি টুথব্রাশের সঙ্গে অপরটি স্পর্শ না করে।

খোলামেলা, আলো বাতাসযুক্ত শুকনো স্থানে টুথব্রাস রাখা উচিত। ভেজা, স্যাঁতসেতে জায়গায় বা বন্ধ কন্টেইনারে টুথব্রাশ রাখলে তাতে জীবাণু আক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণত আমরা সিংকের পাশে টুথব্রাস কন্টেইনার রেখে থাকি। আপনার বাড়িতে টয়লেট ও সিংক যদি একইসাথে হয়, তবে খেয়াল রাখুন টুথব্রাসের কন্টেইনারটি যেন টয়লেট সিটের চেয়ে বেশ দূরে এবং ওপরে থাকে। প্রতিবার টয়লেট ফ্লাস করার সময় অবশ্যই কমোডের ঢাকনা বন্ধ রাখুন।

ব্যবহারের আগে ও পরে ট্যাপের পানির ধারায় টুথব্রাশ ধরে রেখে পরিষ্কার আঙ্গুল দিয়ে ব্রিসলগুলো ঘষে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ব্রাশ থেকে অতিরিক্ত পানি ঝেড়ে ফেলতে হবে।

ভ্রমণে যাওয়ার সময় টুথব্রাশের ব্রিসলের অংশটুকু ঢেকে রাখে, এমন কাভার ব্যবহার করতে হবে। তবে ঢাকা অবস্থায়ও যাতে আলো বাতাস চলাচল করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

দাঁতে অতিরিক্ত জোরে টুথব্রাশ ঘষা উচিত নয়। এটি দাঁতের জন্যে যেমন ক্ষতিকর, তেমনি টুথব্রাশের জন্যেও। দাঁত ব্রাশ করার সময়ে টুথব্রাসের ব্রিসল–এ কামড় দেওয়া যাবে না। এতে ব্রিসল এর আকৃতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ব্রিসল ছিঁড়ে গিয়ে দাঁতের ফাঁকে আটকেও থাকতে পারে।

সাধারণত প্রতি ৩–৪ মাস পরপর টুথব্রাশ পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও, ব্রিসল এর অগ্রভাগ বেঁকে যেতে শুরু করলেই টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। ব্রিসল এর আকার বিকৃত হয়ে গেলে তা দিয়ে দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার হওয়া সম্ভব নয়।

পরিশেষে বলতে চাই, আমরা দাঁতকে জীবানুমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে টুথব্রাশের ব্যবহার করলেও আমরা খেয়াল করি না টুথব্রাশ কি জীবানুমুক্ত আছে কি না। আমারা যদি উপরের নিয়মগুলো পালনের চেষ্টা করি তবে তা কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের অভ্যাসে পরিণত হবে। যা আমাদের দাঁত ও শরীর দুটোকেই ভালো রাখতে সহায়তা করবে।

ইসি/

 

কেনাকাটা: আরও পড়ুন

আরও